বিশ্ব জুড়ে আবার ‘অ্যানাবেল’ আতঙ্ক

100
বিশ্ব জুড়ে আবার 'অ্যানাবেল' আতঙ্ক

পৃথিবিতে সবচেয়ে অভিশপ্ত পুতুলটির নাম অ্যানাবেল ডল। এযাবৎ কালে পাওয়া সবচেয়ে অভিশপ্ত বস্তুগুলোর মধ্যে এই পুতুলটিকে অন্যতম মনে করা হয়। অদ্ভুত ভাবে অ্যানাবেলকে ঘিরে আবার শুরু হয়েছে চর্চা। ছবি দেখার পরই ঘরে ঘরে ছড়িয়ে পড়ছে আতঙ্ক। উঠছে সেই পুরনো আলোচনা। আলোচনাটা ভূতকেন্দ্রিক-আধিভৌতিক বলা যেতে পারে। প্রথমে একটি স্থানীয় সংবাদপত্রে খবরটি প্রকাশিত হওয়ার কয়েকদিন পর আন্তর্জাতিক ভাবে ছড়িয়ে পড়ে খবরটা।

গত ২২ আগস্ট ব্রাজিলের একটি সিনেমা হলে ‘অ্যানাবেল ক্রিয়েশন’ দেখার পর এক নারী অস্বাভাবিক আচরণ করা শুরু করেন। ডেইলি মেল-এর খবর অনুযায়ী, নাইট শো দেখে বেরিয়ে ওই নারী হঠাৎ মাটিতে শুয়ে পড়েন। কাঁদতে কাঁদতে নিজেকেই মারতে থাকেন। শেষ পর্যন্ত তাকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়।

সপ্তাহখানেক আগে কলকাতাতেও, বাড়ি থেকে ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়েছিল সাউথ পয়েন্টের দ্বাদশ শ্রেণির এক ছাত্র সৃজন চৌধুরীর। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ এই ঘটনাকে আত্মহত্যাই বলেছে।

কিন্তু সেদিনই সৃজনের মা ও দিদিমা বার বার দাবি করেন, মৃত্যুর পিছনে অন্য কারণ রয়েছে। তাদের বক্তব্য, সৃজন লুকিয়ে একটি ইংরেজি ভূতের সিনেমা দেখতে গিয়েছিল। ‘অ্যানাবেল’, তা দেখার পরেই নাকি বদলে যায় তার আচরণ।

অন্য খবর  ১০ ডিসেম্বর নোবেল নিতে যাচ্ছেন না ডিলান

কিন্তু ‘অ্যানাবেল’ নিয়ে হঠাৎ নতুন আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। অতএব চর্চাটা ফিরে যাচ্ছে প্রায় ৪৭ বছর আগে। অ্যানাবেল আতঙ্কের গোড়ার দিকে।

১৯৭০ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কানেটিকাটে ‘অ্যানাবেল’র জন্ম। শুরু থেকেই নানা ‘অশরীরী কাণ্ড’ শুরু হয় এই পুতুলকে ঘিরে। ফলে ঘরে ঘরে ছড়িয়ে যায়, এটি নাকি একটি পৈশাচিক পুতুল।

নার্সিং পড়ুয়া মেয়ে ডোনাকে জন্মদিনে একটি পুতুল উপহার দিয়েছিলেন তার মা। সেই পুতুলটির নাম ছিল ‘অ্যানাবেল’। ডোনার হোস্টেলের রুমমেট ছিল এনজি। প্রথম দেখাতে পুতুলটিকে অস্বাভাবিক কিছু মনে হয়নি কারও। কিন্তু কয়েক দিন পর থেকেই নাকি ধরা পড়তে শুরু করে কিছু অদ্ভুত ঘটনা।

ডোনা কলেজে যাওয়ার আগে বিছানায় রেখে যেত অ্যানাবেলকে। বাড়ি ফিরে দেখত সেটি সোফায়। কিন্তু এনজিকে জিজ্ঞেস করায় সে অবাক হয়ে জানায়, অ্যানাবেলকে সে সরিয়ে রাখেনি।

পর পর কয়েকদিন এমন ঘটনা ঘটতে থাকে। অ্যানাবেলকে রেখে যাওয়া হয় এক জায়গায়, ফিরে এসে দেখা যায় সে অন্য জায়গায় রয়েছে। এক দিন পরামর্শ করে ডোনা ও এনজি দু’জনেই পুতুলটিকে সোফার উপরে বসিয়ে রেখে বাড়ি থেকে বের হয়। কিন্তু সেদিনও বাড়ি ফিরে পুতুলটিকে অন্য জায়গায় পড়ে থাকতে দেখে তারা।

অন্য খবর  আসছে নিউজিল্যান্ডের নতুন পতাকা

তালাবন্ধ ঘরেও কী ভাবে ঘটল এমন ঘটনা? এরপরই আতঙ্ক হয়ে ওঠে ‘অ্যানাবেল’।

শুধু ‘অ্যানাবেল’ই না, ‘দ্য এগজরসিস্ট’, ‘কনজিউরিং’— এই হরর ছবিগুলির সব গল্পও নাকি সত্য ঘটনা অবলম্বনে। আর এই ছবিগুলিতে দেখানো হয়, সেই পৈশাচিক পুতুল একের পর এক খুন করে। এই ফিল্ম দেখে ঘটেছে বহু অশরীরী ঘটনাও। বিভিন্ন দেশে সেই খবর একসময় শিরোনামে উঠে এসেছিল।

কিন্তু এর সত্য মিথ্যা? যুক্তি বা বিশ্বাস? কোথায় দাঁড়িয়ে আমরা? এর বিশদে যেতে চান না সাহিত্যিক শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়। তিনি জানিয়েছেন, ‘ভূত রয়েছে। বেশ কয়েক বার ভৌতিক উপলব্ধি হয়েছে তার।’

কলকাতার প্যারানর্মাল গবেষক দেবরাজ সান্যালের মতে, ‘ভূত কিনা জানি না। তবে কেউ একটা উত্তর দেয়। যেটা খুব অন্য রকম।’

অন্যদিকে, মনোবিদ অনিন্দিতা রায়চৌধুরী জানিয়েছেন, ‘চিকিৎশাস্ত্রে ভূতের অস্তিত্ব নেই। তবে যেটা রয়েছে সেটা ভয়। ফোবিয়া। মানসচিত্রে যে ছবিটা ভয় দেখায়, সেটাই ব্যক্তিবিশেষে ভূত, প্রেত, পিশাচ!’

সব মিলিয়ে ‘অ্যানাবেল’র হাত ধরে ফের এক বার তর্কের ময়দানে মুখোমুখি হয়ে পড়েছে সত্যি ও মিথ্যে। বিজ্ঞানের যুক্তি ও ভৌতিক বিশ্বাস। তর্ক চলতেও থাকবে, সাথে ‘অ্যানাবেল’।

Comments

comments