বিশেষ ‘রাজনৈতিক’ কমিটি করছে বিএনপি, বিদেশ কমিটিতে আমূল সংস্কার

50
বিএনপি

দলের নীতিনির্ধারণের জন্য জাতীয় স্থায়ী কমিটি থাকলেও জোটের মধ্যে সমন্বয় ও দলীয় রাজনৈতিক কৌশল বাস্তবায়ন আরও নিবিড়ভাবে সম্পন্ন করতে বিশেষ রাজনৈতিক কমিটি গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে বিএনপি। পাশাপাশি নতুনভাবে সাজানো হচ্ছে দলের বিদেশ বিষয়ক কমিটিকে (ফরেইন অ্যাফেয়ার্স কমিটি, এফসিএ)। শিগগিরই এ দু’টো কমিটি কার্যক্রম শুরু করবে। বিএনপির স্থায়ী কমিটি ও চেয়ারপারসন কার্যালয়ের দায়িত্বশীল একাধিক ব্যক্তি এসব তথ্য জানান।

স্থায়ী কমিটির একাধিক সদস্য ও দায়িত্বশীল সূত্রগুলো জানায়, গত ১৭ জানুয়ারি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশে ফরেইন অ্যাফেয়ার্স কমিটি ভেঙে দেওয়া হয়। নতুন গঠিতব্য কমিটিতে চেয়ারম্যান, কো-চেয়ারম্যান, সদস্য সচিব ও পৃথিবীর অঞ্চলভিত্তিক ডেস্ক কার্যক্রম শুরু করা হবে। নবীন ও প্রবীণের সমন্বয়ে এ কমিটি গঠিত হবে। কমিটিতে যুক্ত করতে নতুন সদস্য খোঁজা হচ্ছে।

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘কমিটি এখনও গঠিত হয়নি। আরও সময় লাগবে।’

স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, ‘আমি দুই কমিটির বিষয়ে বলতে পারবো না। ফরেইন অ্যাফেয়ার্স কমিটি ভেঙে দেওয়া হয়েছে। এটা নতুন করে করা হবে। আমরা স্থায়ী কমিটির সদস্যরা সিদ্ধান্ত দিয়েছি নতুন করে কমিটি করতে। এখন যারা করছে, তারাই বলতে পারবে কীভাবে করা হবে।’

বিএনপির বিদেশনীতি নিয়ে কাজ করেন, এমন দুই নেতা জানান, বিএনপির রাজনৈতিক ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ফরেইন অ্যাফেয়ার্স কমিটিকে নতুনভাবে ঢেলে সাজানো হচ্ছে। এই কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে দলের প্রতি নিবেদিত জ্যেষ্ঠপর্যায়ের কূটনীতিক খোঁজা হচ্ছে। যারা বিএনপির সরকারের সময়ে কাজ করেছে, এমন ব্যক্তিদের প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। বিদেশ কমিটির একজন সিনিয়র সদস্য অবশ্য চেয়ারম্যান হিসেবে সাবেক পররাষ্ট্র সচিব রিয়াজ রহমানকেই এগিয়ে রাখছেন। তার ভাষ্য, পররাষ্ট্রনীতি, বাংলাদেশের সঙ্গে বিভিন্ন রাষ্ট্রে সম্পর্ক সমন্বয়ের ক্ষেত্রে রিয়াজ রহমান এগিয়ে আছেন। এ ছাড়া, এই কমিটির চেয়ারম্যান স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য আগ্রহী হলেও তাকে শেষ পর্যন্ত নাও দেখা যেতে পারে।

অন্য খবর  গণমাধ্যম পূর্ণ স্বাধীনতা ভোগ করছে : রাষ্ট্রপতি

দায়িত্বশীল একাধিক ব্যক্তি জানান, এফসিএ কমিটির সদস্য সচিব হিসেবে তাবিথ আউয়ালের নাম উচ্চারিত হচ্ছে। যদিও বয়স ও অভিজ্ঞতার বিবেচনায় শেষ পর্যন্ত তিনি থাকবেন কিনা, এই নিশ্চয়তা অবশ্য কোনও নেতাই দিতে পারছেন না। তবে তাবিথ আউয়াল জানান, তিনি এ কমিটিতেই থাকছেন না।

সূত্রের ভাষ্য, এফসিএ কমিটিতে নতুন করে অঞ্চল ও জাতিভিত্তিক অর্থাৎ আমেরিকা, ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা, সাউথ এশিয়াবিষয়ক ডেস্ক খোলা হতে পারে।

ফরেইন অ্যাফেয়ার্স কমিটির সাবেক সদস্য সচিব ড. আসাদুজ্জামান রিপন বলেন, ‘আমাদের কাজ চলছে। এখনও বলার মতো কোনও অগ্রগতি হয়নি।’

বিদেশনীতি নিয়ে কাজ করেন, এমন দুই সদস্য জানান, ফরেইন অ্যাফেয়ার্স কমিটিতে প্রোফাইল দেখে লোক বাছাই হচ্ছে। সেক্ষেত্রে আগের কমিটিতে থাকা অনেক প্রভাবশালী তরুণ সদস্যকেই হয়তো নাও দেখা যেতে পারে আগামী কমিটিতে। এ ছাড়া, কয়েকজন সদস্য নিজে থেকেই সরে দাঁড়ানোর চিন্তা করছেন। পরিস্থিতি আরও সামনে গড়ালে তারা নিজেদের বিষয়গুলো প্রকাশ্যে আনবেন।

স্থায়ী কমিটির একাধিক সদস্য জানান, বিএনপিতে নীতিনির্ধারণ নিয়ে স্থায়ী কমিটি ও হাইকমান্ডের মধ্যে সমন্বিত নেতৃত্ব থাকলেও বাস্তবায়ন নিয়ে নানা ত্রুটি বেরিয়ে এসেছে। বিশেষ করে, নির্বাচনের সময় নিজেদের দুই জোটের মধ্যে সমন্বয় সাধন, দলের অভ্যন্তরীণ কার্যক্রম আরও বেগবান ও কর্মসূচি বাস্তবায়ন আরও সহজভাবে করতে বিশেষ রাজনৈতিক কমিটি করতে হাইকমান্ড ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

অন্য খবর  চলে গেলেন খাওয়ার স্যালাইন আবিষ্কারক রফিকুল ইসলাম

দুই যুগের বেশি সময় ধরে চলমান ২০ দলীয় জোট ও গত অক্টোবরে গঠিত জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে দলীয় চিন্তা ও কর্মসূচির সুসমন্বয় করতে এ বিশেষ কমিটি করা হচ্ছে। যদিও এ কমিটির নাম নির্ধারণ এখনও হয়নি এবং এর গঠনপ্রক্রিয়া এখনও স্বচ্ছ নয়। স্থায়ী কমিটির সদস্যদের আগামী বৈঠকে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হতে পারে, এমন ইঙ্গিত দিয়েছেন একজন সদস্য।

সূত্র বলছে, বাংলাদেশের রাজনীতিতে বাম, ডান, কট্টর ডান, ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল আছে। সেসব দলের সঙ্গে রাজনৈতিক বিষয়ে আলোচনা করতে আগ্রহী নেতাদের নিয়ে বিশেষ এ কমিটি করা হবে।

দায়িত্বশীল নেতারা জানান, রাজনীতি বিষয়ক ও কূটনীতি বিষয়ক দু’টি কমিটির তত্ত্বাবধানে থাকবেন তারেক রহমান। সবগুলো কমিটিতে থাকবেন মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। কারাবন্দি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার গাইডলাইন নিয়েই এ কমিটি দু’টি গঠনের প্রক্রিয়া এগিয়ে চলছে, এমন তথ্যও দিয়েছেন কেউ-কেউ।

সুনির্দিষ্টভাবে দুই কমিটির কথা না বললেও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার বলেন, ‘দলের প্রয়োজনেই অনেক কমিটি পুনর্গঠিত হবে। অঙ্গ সংগঠন, সহযোগী সংগঠন পুনর্গঠন হবে। বিভিন্ন কমিটি হবে। আরও একটু সময় গেলে সবকিছু পরিষ্কার হবে।’

Comments

comments