বিচারবহির্ভূত হত্যাই আমার দোষ: দুতার্তে

29
দুতার্তে

ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো দুতার্তের এক বক্তব্যের জেরে তাঁর অভিশংসন ও বিচার চেয়েছেন বিরোধী দল, সমালোচক ও অধিকারকর্মীরা। তাঁরা বলছেন, প্রেসিডেন্টের এই বক্তব্যের ফলে বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে, তিনি বিচারবহির্ভূত হত্যার সঙ্গে যুক্ত।

সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বৃহস্পতিবার দুতার্তে প্রেসিডেন্ট ভবনে বক্তব্য দেন। ওই বক্তব্য তিনি বলেন, ‘আমার কী অপরাধ? আমি অর্থ চুরি করেছি? এমনকি একটি পেসো? আমি কাউকে নালিশ করে জেলে পাঠিয়েছি? এসব কিচ্ছু না। একটাই অপরাধ, আমি বিচারবহির্ভূত হত্যা করেছি।’

আর এই বক্তব্যের পরই দুতার্তের সমালোচকেরা আবার সরব হয়েছেন। তাঁরা বলছেন, দুতার্তের এই বক্তব্যই প্রমাণ করে তিনি দেশে বিচারবহির্ভূত হত্যার সঙ্গে যুক্ত। শুক্রবার দেশটির বিরোধীদলীয় সিনেটর রিজজা হনতিভেরস বলেন, এই মৌখিক স্বীকারোক্তি দুতার্তের অপরাধকে প্রমাণ করে। মানুষের ন্যায়বিচার পাওয়ার ক্ষেত্রে তাঁর এই বক্তব্যই অকাট্য প্রমাণ হিসেবে কাজ করবে।

কিন্তু দুতার্তের মুখপাত্র হেরি রকি সমালোচকদের এ দাবিকে প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি দাবি করেন, প্রেসিডেন্ট যা বলেছেন, তা কৌতুক করে বলেছেন। তিনি কোনো দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত নন, তা বোঝাতে এ ধরনের উক্তি করেছেন।

অন্য খবর  কাশ্মির সীমান্তে ভারত-পাকিস্তান গোলাগুলি: ৭ ভারতীয় নাগরিক আহত

বর্তমানে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে (আইসিসি) মানবতাবিরোধী অপরাধের দুটি অভিযোগের মুখোমুখি দুতার্তে। গত আগস্ট মাসে অধিকারকর্মী ও দেশটিতে মাদকবিরোধী অভিযানে নিহত হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে আটজনের পরিবার ওই দুটি অভিযোগ করে। এসব অভিযোগে বলা হয়, মাদক নির্মূলের নামে দেশটিতে পরিচালিত অভিযানে হাজার হাজার মানুষকে হত্যা করা হয়েছে।

এদিকে মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, আইসিসির উচিত দুতার্তের বিরুদ্ধে আসা অভিযোগগুলোর গভীরে গিয়ে তদন্ত করা। এক বিবৃতিতে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের জ্যেষ্ঠ পরিচালক মিনার পিমপল বলেন, সাম্প্রতিক বক্তব্যের জেরে দুতার্তের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক তদন্ত হওয়া দরকার। কারণ ধৃষ্টতাপূর্ণ এই বক্তব্যই দেশটিতে তাঁর দলের নিষ্ঠুর শাসনের ইঙ্গিত দেয়।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এশিয়া অঞ্চলের পরিচালক ব্রাড অ্যাডামস বলেন, দুতার্তের এই বক্তব্য তাঁর বিরুদ্ধে তোলা অভিযোগের বিষয়ে সব সন্দেহ দূর করে দিয়েছে।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে বিরোধীদলীয় সিনেটর আন্তোনিয়ো ত্রিলেন্স দাবি করেন, ২০১৬ সালে দুতার্তে ক্ষমতায় আসার পর থেকে এ পর্যন্ত মাদকবিরোধী অভিযানের নামে ২০ হাজারের বেশি মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। ত্রিলেন্স তাঁর আরেক বক্তব্য বলেন, দেশের অবস্থা কতটা ভয়াবহ তা বুঝতে বাইরের কোনো তথ্যের প্রয়োজন নেই। কারণ দুতার্তে প্রশাসনের নথিই বলছে, ২০১৬ সালের জুলাই মাস থেকে ২০১৭ সালের নভেম্বর মাসের মধ্যে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার ৩ হাজার ৯৬৭ জন মানুষ নিহত হয়েছেন।

অন্য খবর  বিদায় একজন ওবামাকে

Comments

comments