বিএনপিকে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসতে দেবে না: নাজমুল হুদা

1091
এবার নৌকা প্রতীকে নির্বাচন করতে চান নাজমুল হুদা

বর্তমান পরিস্থিতিতে বিএনপির অবস্থা খারাপ। বিএনপিকে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসতে দেবে না। বিএনপির সমস্যা তারেক রহমান। সমস্যা ঐভাবে যে সে সময়োচিত পদক্ষেপ নিচ্ছে না। বিগত আন্দোলনে যদি বেগম খালেদা জিয়ার জায়গায় তারেক রহমান নেতৃত্ব দিতে পারতো, লন্ডন না থাকতো, গ্রেফতার বা জেল- জুলুম নিয়ে ভয়ভীতি না পেত, তাহলে আন্দোলনের চেহারা ভিন্ন হতো। সারা দেশ জেগে উঠেছিলো কিন্তু তিনি বসে রইলেন লন্ডনে। তার এই ভয় যতদিন না বিএনপি ক্ষমতায় আসবে, ততদিন থাকবে- এই কথাগুলো বলেছেন সাবেক বিএনপি নেতা ও বর্তমান তৃণমূল বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা। তিনি সম্প্রতি কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্র সফর করেছেন। যুক্তরাষ্ট্র সফরকালে ঠিকানার সঙ্গে এক সাক্ষাৎকার দেন। সেখানে তিনি বলেছেন অনেক কথা।

ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা। একজন স্বনামধন্য আইনজীবী। বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি আলোচিত নাম। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের হাত ধরেই বিএনপির রাজনীতিতে এসেছিলেন। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ছিলেন। স্থায়ী কমিটির মেম্বার ছিলেন। মন্ত্রী হয়েছেন। বার বার এমপি নির্বাচিত হয়েছেন। দাপটের সাথেই রাজনীতি করেছেন। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর বাংলাদেশের রাজনীতির মানচিত্রই যেন পাল্টে যায়। গণতন্ত্রতো নেই, এমন কি মানুষের মত প্রকাশের অধিকারও নেই, কি রাস্তায়- কি ঘরে। এক দিকে মিছিলে গুলি, অন্যদিকে বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের গুম, অপহরণ, হামলা, মামলা গ্রেফতারের মহাউৎসব, ভয়- ভীতি এবং সন্ত্রাস।

রাজনীতির এমন গুমোট পরিস্থিতিতে বিএনপির সাথে ব্যারিস্টার নাজমুল হুদার টানাপোড়েন শুরু হলো। বহিষ্কার হলেন, দলে ফিরলেন। আবারো বহিষ্কার। এবার চূড়ান্ত। পানি অনেক দূর গড়িয়েছে। নতুন দল করেছেন। নাম দিয়েছেন তৃণমুল বিএনপি। জোট করেছেন। নাম দিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয় জোট। আওয়ামী লীগ সরকারের সাথে সমঝোতা হয়েছে। বৈরিতা বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার সাথে। নতুন করে সখ্যতা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে। সমঝোতার কারণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে বৈঠকও করেছেন। এটাই বাংলাদেশের রাজনীতি।

তিনি বাংলাদেশের রাজনীতি, বিএনপির অবস্থাসহ আগামী নির্বাচন নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করেছেন। বলেছেন, বিএনপির সমস্যা তারেক রহমান। তাকে যে কেউ আওয়ামী লীগের দালাল বলতে পারে তাতে তার কিছু যায় আসে না। তিনি এখনো মনেপ্রাণে বিএনপি করেন। আরো বলেছেন, তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বাধ্য করবেন বাংলাদেশে আগাম এবং অবাধ, নিরপেক্ষ এবং সুষ্ঠু নির্বাচন দিতে।

তিনি কানাডার মন্ট্রিয়েল থেকে বাংলাদেশী মালিকানাধীন চেইন রেস্টুরেন্ট ডান’র পক্ষ থেকে আমন্ত্রণ হয় ডান’র উদ্বোধন করার জন্য। সেই রেস্টুরেন্ট উদ্বোধন করার জন্য আসেন। সেই সাথে কানাডা, আমেরিকা এবং ইউরোপে নতুন রাজনৈতিক দল তৃণমূল বিএনপির কর্মকান্ড প্রবাসী বাংলাদেশীদের কাছে উপস্থাপন করেন। ১৮ এপ্রিল নিউইয়র্ক আসেন, নিউইয়র্ক থেকে মন্ট্রিয়েল যান এবং রেস্টুরেন্ট উদ্বোধন করে আবারো নিউইয়র্কে ফিরেন। এরপর ইউরোপ যান। তিনি তার নতুন রাজনীতির কথা বলছেন, নতুন রাজনীতি কী এনিয়ে বলেছেন, সুস্থ রাজনীতির মাধ্যমে সুশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আমি একটি রাজনৈতিক দল গঠন করেছি। যে দলের নাম দিয়েছি তৃণমূল বিএনপি। তার আগে আমি মানবাধিকার পার্টি গঠন করেছিলাম। আমরা ২৯টি দল নিয়ে বাংলাদেশ জাতীয় জোট গঠন করি।

যেমন ২০ দলীয় জোটের নেতৃত্ব দিচ্ছেন বেগম খালেদা জিয়া, ১৪ দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন শেখ হাসিনা আর বাংলাদেশ জাতীয় জোটের নেতৃত্ব দিচ্ছি আমি। আমি তৃণমূল বিএনপি এবং বিএনএ’র চেয়ারম্যান। আমার দলটি এখনো নিবন্ধিত হয়নি। সেই লক্ষ্যেই আমি কাজ করছি। ইতিমধ্যেই আমরা বিভিন্ন জেলাতে কমিটি গঠন করছি। বিদেশে কমিটি হচ্ছে। বিদেশী কমিটির মর্যাদা হচ্ছে জেলা পর্যায়ের। নিবন্ধন হবার জন্য ২০টি জেলা কমিটি লাগে, ১০০টি উপজেলা কমিটি লাগে। আমেরিকাতেও এবার ৩১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি করে যাবো।

তিনি কেন বিএনপি ছেড়েছেন এই ব্যাপারে বলেছেন, আমি সহিংস রাজনীতির মধ্যে নেই। বিএনপি সহিংস রাজনীতি করছে কিনা এই প্রসঙ্গে বলেন, বিএনপির অবরোধ কর্মসূচি ছিলো সহিংস। মূলত এটা ছিলো জামাত নির্ভর কর্মসূচি এবং সহিংস কর্মকান্ড জামাত করেছে। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের হাত ধরে আমি বিএনপির রাজনীতিতে আসি। উনিতো দেশ গঠন করার জন্য সংস্কারমূলক কর্মসূচি নিয়েছিলেন। মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করে তিনি জাতীয়তাবাদী ফোরাম করেছিলেন। যেটার মধ্যে ৯টি দল ছিলো। তাদেরকে অন্তর্ভুক্ত করেই বিএনপি গঠন করেছিলেন। এই ঐক্যের রাজনীতির সম্পূর্ণ বিপরীতে চলে গেল বিএনপির রাজনীতি। একের পর এক ভুল সিদ্ধান্ত, একের পর এক সিদ্ধান্তহীনতা, একের পর এক একগুঁয়েমি- সব মিলিয়ে যেভাবে দল পরিচালিত হচ্ছিলো আমি সেই দলের অংশিদার হতে চাইনি। সে কারণে আমি বিএনপি থেকে বেরিয়ে আসি আল্টিমেটাম দিয়ে। এর আগে আমাকে বহিষ্কার করা হয়েছিলো, আবার ফিরিয়ে নেয়া হয়েছিলো। অনেক ঘাত- প্রতিঘাতের পর আমি আজ এ পর্যায়ে এসেছি। আমি পলিটিক্যাল সাইন্সের ছাত্র, আমার রাজনৈতিক ধ্যান- ধারণা রয়েছে, রাজনীতি এবং বাংলাদেশের মানুষের প্রতি আমার কমিটমেন্ট রয়েছে।

আরো দেখলাম গণতন্ত্রের নামে প্রহসন করা হচ্ছে, আপনি মুখে মুখে বলবেন সম্মেলনের মাধ্যমে কমিটি হচ্ছে, জনগণের ক্ষমতা জনগণের হাতে তুলে দিতে হবে- অথচ বাস্তবে দেখা যায় উপর থেকে কমিটি চাপিয়ে দেয়া হয়। এটার অংশ আমি হতে চাইনি। আমি কিন্তু মনে প্রাণে এখনো বিএনপি। বিএনপি কি তার আইডেনটিটি কিনা এই প্রশ্নের জবাবে বলেছেন, ইট ওয়াজ। আমি মনে করি তৃণমূল বিএনপি উপেক্ষিত। এই তৃণমূল বিএনপিকে সংগঠিত করার জন্যই আমি পার্টি করেছি।

তৃণমূল বিএনপিই বিএনপির ভিত্তি? এমন প্রশ্নের জবাবে বলেছেন, এটা বলতে পারেন। বিএনপি বলতে যদি বেগম খালেদা জিয়াকে বুঝায়, বিএনপি বলতে যদি তারেক জিয়াকে বুঝায়, আমার বিএনপিতো সেটা না। বিএনপির এখন যে অস্তিত্ব সেখানে বিএনপি মানেই বেগম জিয়া ও তারেক জিয়া। বিএনপি যদি জামাতকে ছেড়ে দেয় তাহলে আপনি কি বিএনপিতে আবার ফিরে যাবেন? বিষয়ে বলেছেন, বিএনপির জামাত নির্ভরতার কারণে আমি দল ছাড়িনি। বিএনপির ভুল রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের কারণে আমি দল ছেড়েছি।

যেমন ধরুন ঈদের আগের দিন আপনি কিভাবে হরতালের ডাক দেন? আমি এর বিরোধিতা করেছিলাম। বেগম খালেদা জিয়াকে টেনে হেঁচড়ে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছে- এটা সরকার খারাপ করেছে। কিন্তু প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে তিনি এমনভাবে কাঁদলেন তাতে মনেই হয়নি, উনি একজন আপোষহীন নেত্রী ছিলেন। বুঝাই গেল তিনি জনগণের সহানুভূতি পাওয়ার জন্যই ঐভাবে কাঁদলেন। বিএনপিকে পাঁচটি মন্ত্রণালয় দেয়ার প্রস্তাব দেয়া হয়েছিলো কিন্তু তিনি তা গ্রহণ করলেন না। আবার এটা নিয়ে পলিটিক্সও করতে পারলেন না। তিনিতো চাইতে পারতেন অর্থ মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়, তথ্য মন্ত্রণাণলয় ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়।

৫টা মন্ত্রণালয় কে দিতে চেয়েছিলো প্রশ্নের জবাবে বলেন, আন্দোলনের সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দিতে চেয়েছিলেন। এ সব মন্ত্রণালয় চাইলে হয়ত শেখ হাসিনা দিতো না, কিন্তু বেগম জিয়াতো রাজনীতি করতে পারতেন। বাড়ি থেকে বেগম জিয়াকে বের করে দেয়া হলো। দেখুন, ব্যারিস্টার মওদুদ সাহেব এখনো বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ পদে আছেন। আমার প্রশ্ন হলো একটি এভিকশন মামলা (ঘর থেকে উচ্ছেদের ম১দামলা) হয় ডিস্ট্রিক্ট কোর্টে (লোয়ার কোর্টে)। ডিস্ট্রিক্ট কোর্টের মামলা হাই কোর্টে নিয়ে গেলেন কেন? ডিস্ট্রিক্ট কোর্টে উচ্ছেদের মামলা ১২ বছর ঝুলিয়ে রাখা যেত। ১২ বছর বেগম খালেদা জিয়াকে তার বাড়ি থেকে বের করতে পারতো না। এটার জন্য কি ব্যারিস্টার মওদুদ সাহেব দায়ী বলে মনে করেন কিনা, তিনি বলেন, হ্যাঁ। এর মধ্যে অন্য কোন রাজনীতি আছে কিনা প্রসঙ্গে বলেন, আমি জানি না। সবাই এখন মওদুদ সাহেবের দিকেই অঙ্গুলি নির্দেশ করছে। অন্য রাজনীতি আছে কি না তা ভবিষ্যতে বলা যাবে। ভবিষ্যতে পরিবর্তন হলে তার রোল থাকতে পারে।

অন্য খবর  রোহিঙ্গাদের নিয়ে ভুয়া ছবি: মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নজিরবিহীন ক্ষমা প্রার্থনা

ভবিষ্যতে পরিবর্তন বলতে আপনি কি বুঝাতে চাচ্ছেন জানতে চাইলে তিনি বলেছেন, আমি রাজনীতির যে কোন পরিবর্তনের কথা বলছি। সত্যি কথা বলতে কি মওদুদ আহমেদ সুযোগের সন্ধানে থাকেন। বর্তমান পরিস্থিতিতে বিএনপির অবস্থা খারাপ। বিএনপিকে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসতে দেবে না। সেই অবস্থায় মওদুদ ভাই’র ভিন্ন চিন্তাভাবনা থাকতে পারে আমি সিওর না। আমি মনে করি বেগম জিয়াকে বাড়ি থেকে উচ্ছেদের মামলাটি লোয়ার কোর্ট থেকে হায়ার কোর্টে নেয়ার ব্যাপারে মওদুদ আহমেদের দূরভিসন্ধি থাকতে পারে।

তৃণমূল বিএনপি গঠনে সরকারের কি মদদ আছে কিনা প্রসঙ্গে বলেছেন, আমি তৃণমূল বিএনপি গঠন করেছি সুস্থ রাজনীতি করার জন্য। আমার স্লোগান হচ্ছে সুস্থ রাজনীতি সুশাসনের ভিত্তি। আমি মনে করি গণতন্ত্রকে সুসংহত করতে সুশাসনের দরকার আছে। আবার গণতন্ত্র সুসংহত হলে সুশাসন আসবেই। আমাদের সংবিধানে রয়েছে, সকল ক্ষমতার মালিক জনগণ। কিন্তু বাংলাদেশে জনগণের ক্ষমতাটা কুক্ষিগত করে স্বৈরাচার। এটা পর্যায়ক্রমে বাংলাদেশে হয়ে আসছে। এরশাদ ও বেগম জিয়া জনগণের ক্ষমতা কুক্ষিগত করে জনগণের নামে দেশ পরিচালনা করেছেন। শেখ হাসিনাও তাই করছেন। বাংলাদেশের জনগণ এখনো তার রাজনৈতিক অধিকার পায়নি। ভোটের অধিকার পায়নি। আমি মনে করি একমাত্র শেখ হাসিনাই বাংলাদেশে সুষ্ঠু নির্বাচন দিতে পারেন। আমি বিশ্বাস করি শেখ হাসিনা বাংলাদেশে সুষ্ঠু নির্বাচন দেবেন। সুষ্ঠু নির্বাচন আদায় করার জন্যই আমরা তৃণমূল বিএনপি করেছি এবং কাজ করে যাচ্ছি।

আপনারা কি বিএনএ’র ব্যানারে নির্বাচন করবেন না কি কোন জোটে যোগ দেবেন প্রসঙ্গ বলেছেন, ইতিমধ্যেই আমি আমার জোট নিয়ে একাত্মতা প্রকাশ করেছি ১৪ দলীয় জোটের সাথে। জিয়াউর রহমান দল করেছেন ক্ষমতায় থেকে। ক্ষমতার অর্থে দল করেছেন, এরশাদ ক্ষমতায় থেকে ক্ষমতার অর্থে দল করেছেন। আমি ক্ষমতায় থেকে দল করিনি। আপনিতো ক্ষমতার সঙ্গেই যাচ্ছেন এই ব্যাপারে বলেছেন, না। আমি ক্ষমতায় থেকে দল করিনি। আমি একজন সিভিলিয়ন, সিম্পল মানুষ। আমি ঘোষণা করেছি, যে আমাকে সহযোগিতা করবে আমি তার সাথে যাবো। আপনি কি এই জোটের থেকেই নির্বাচন করবেন কিনা বিষয়ে বলেন, আমরা নির্বাচনমুখী দল। আমি নির্বাচনের মাধ্যমেই জনগণের ক্ষমতা জনগণের হাতে তুলে দিতে চাই।

প্রত্যাশা অনুযায়ী যদি জোটের কাছ থেকে আসন না পান তাহলে কী জোটের সাথে নির্বাচন করবেন কিনা বিষয়ে জানান, জোট হিসাবে আমরা তাদের সাথে বসবো। আমার দুটো প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতেই ১৪ জোটের মুখপাত্র হিসাবে নাসিম সাহেব প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন। তার সাথে অন্যান্য মন্ত্রীরাও ছিলেন। যেখানে তিনি ঘোষণা করেছেন সরকার আমাদের সাথে রয়েছে এবং প্রধানমন্ত্রীর সম্মতি আছে। সেই দিক থেকে বলা যায়, তাদের সাথে আমার ক্লোজ সমঝোতা আছে, সুসম্পর্ক আছে। যদিও কোন কোন ক্ষেত্রে আমি তাদের সাথে দ্বিমত পোষণ করছি। যেমন জঙ্গীবাদ নিয়ে সরাসরি বেগম জিয়াকে দায়ী করা হচ্ছে। তাকে খুনি বলা হচ্ছে- এগুলোর সাথে আমি একাত্মতা প্রকাশ করতে পারি না। আমার কথা, জঙ্গীবাদ নিয়ে সুষ্ঠু তদন্ত করতে হবে, বেগম জিয়া যদি খুনি প্রমাণিত হন তাহলে তাকে শাস্তি দিন কিন্তু সেটা প্রমাণিত হবার পূর্বে তাকে আপনি খুনি বা জঙ্গী বলতে পারেন না।

কতটি আসন প্রত্যাশা করছেন জানতে চাইলে বলেছেন, এখনো আমরা সেইভাবে চিন্তা ভাবনা করিনি। তবে আমার সদস্য সচিব বিশিষ্ট চলচ্চিত্র অভিনেতা আহমেদ শরিফ। তিনি তার দাদার আসন থেকে নির্বাচন করতে পারেন। নাজিম উদ্দিন আল আজাদ, তিনি মন্ত্রী ছিলেন। তিনি বিএলডিপির চেয়ারম্যান। আমরা ১৪ দলীয় জোটের নেত্রী এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে বসবো এবং ২৫টি আসন চাইবো। যেখানে আওয়ামী লীগ শক্তিশালী নয় সেই সব আসনে। আমরা যদি নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করি সেটাও আমাদের সিদ্ধান্তের ব্যাপার। তৃণমূল বিএনপি থেকে আমি গুলশানে মনোনয়ন চাইবো। আমি আমার নিজের দোহার আমি সালমান এফ রহমানকে দিয়ে দিয়েছি। তিনি আমার চাচা।

তিনি আওয়ামী লীগ থেকে নির্বাচন করবেন। ইতিমধ্যেই আমার সাথে সমঝোতা হয়েছে এ ব্যাপারে। যেমন জাসদের হাসানুল হক ইনু, ওয়ার্কাস পার্টির রাশেদ খান মেনন, জাতীয় পার্টির আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এরা যেহেতু তাদের সর্বস্ব দিয়ে ১৪ দলে আছে, আমি আমার তৃণমূল বিএনপি নিয়েও ১৪ দলে থাকতে পারি।

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন কবে হবে এবং কোন আদলে হবে এই বিষয়ে জানেন কিনা সেই ব্যাপারে বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে আমার দেখা হয়েছে। আমি তার সাথে প্রায় ঘন্টাখানেক আলোচনা করেছি। আমি তাকে পরামর্শ দিয়েছি- ‘আপা আপনি আর্লি নির্বাচন দেন। আপনি ৫০ বছর পূর্তিটাকে পালন করতে চাচ্ছেন ২০২১ সালে, এটাকে ভালভাবে যদি পালন করতে চান এবং বিশ্ব নেতৃবৃন্দের মধ্যে যাদের আমন্ত্রণ জানাবেন বা যাদের আনতে চান, তাদের একটি অবাধ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচন দিতে হবে। ৫ জানুযারির নির্বাচন এখনো অনেক দেশের কাছে প্রশ্নবৃদ্ধ। তারা এখন পর্যন্ত সেই নির্বাচনকে স্বীকৃতি দেয়নি, সুতরাং ৫০ বছর পূর্তির অনুষ্ঠানটি আপনি আপনার মেয়াদের মধ্যে নিয়ে আসেন। সেই অনুযায়ী ২০১৭ সালের শেষের দিকে নির্বাচন দিলে সেই সংসদের মেয়াদকাল হবে ২০২২ সাল পর্যন্ত। এবং ২০২১ সালটা আপনার মেয়াদের মধ্যে চলে আসলো।’ উনাকে আমি আরো বলেছি যে, সুষ্ঠু নির্বাচন হলে বিএনপি ৮০ থেকে ৯০টি আসন পাবে। ২০ থেকে ২৫টি আসন জাতীয় পার্টি পাবে, আওয়ামী লীগ সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন নিয়ে সরকার গঠন করতে পারবে এবং বিশ্বের কাছে সংসদটিও গ্রহণযোগ্য হবে। গ্রহণযোগ্য সরকারের আমন্ত্রণ যদি বিশ্ব নেতারা পান তাহলে তারা অবশ্যই তা গ্রহণ করবেন।

আমার কথা শুনে প্রধানমন্ত্রী বললেন, আমি ২০১৯ সালের আগে কোন নির্বাচন দিবো না। আমি তাকে বলেছিলাম ২০১৯ সালে নির্বাচন দিলে একটা রিক্স থেকে যায়। ২০১৯ সালে নির্বাচন কোনভাবেই ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের মত হবে না। এই নির্বাচন হবে বিএনপির অস্তিত্বের লড়াই এবং সেই নির্বাচনে বিএনপি মরণ কামড় দেবে। আবার সহিংস নির্বাচন হতে পারে। সহিংস নির্বাচন হলে এবং রাজনীতি সহিংস রূপ নিলে সেটা ২০২১ সাল পর্যন্ত চলে যেতে পারে। রাস্তা ঘাট অরাজকতা থাকবে, রাজপথ উত্তপ্ত থাকবে, ৫০ বছর পূর্তির অনুষ্ঠান আপনি হয়ত সুন্দরভাবে করতে পারবেন না। আপনি কেন সেই রিস্ক নেবেন। এখন শুনা যাচ্ছে ২০১৮ সালের মার্চ মাসে নির্বাচন হতে পারে। অগ্রিম নির্বাচন হলে আমার পরামর্শটা কাজে লাগবে। কোন আদলে হতে পারে এই ব্যাপারে বলেছেন, আমি মনে করি সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য দুটো সংশোধনী প্রয়োজন।

অন্য খবর  প্রধানমন্ত্রীর বিমানে ত্রুটি: সাত কর্মকর্তা গ্রেপ্তার

প্রথমত; স্বচ্ছ ভোটার তালিকা তৈরি করা, দ্বিতীয়ত পাসপোর্টকে ভোটার আইডি কার্ড করা। সেই পাসপোর্টে ভোট এনডোর্স করে ভোটাধিকার প্রয়োগ করা। ইচ্ছা করলে কারচুপি করা যাবে কিন্তু ব্যালট বক্স ছিনতাই বন্ধ হবে, ভোট কেন্দ্র দখল বন্ধ হবে। ভোট কেন্দ্রে শান্তি বিরাজ করবে। সহিংসতাকে কেন্দ্র করেই তো তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিষয়টি আসে। বেগম জিয়া একটি ফর্মূলা দিতে পারেন, সরকার একটি ফর্মূলা দিতে পারে, তাদের ফর্মূলা কাজে না লেগে আমার ফর্মুলাও কাজে লেগে যেতে পারে। কার অধীনে নির্বাচন হলো সেটাতো বড় কথা নয়। আওয়ামী লীগ তাদের অধীনে নির্বাচন করবে। ভারত আওয়ামী লীগের পাশে থাকলেই হলো, আমেরিকা- ইউরোপ বড় কথা নয়। আওয়ামী লীগ ভারতকে তাদের কনফিডেন্সে নিয়েই নির্বাচন করবে এবং তারা জয়লাভ করবে। আপনার কথা অনুযায়ী শেখ হাসিনার অধীনেই নির্বাচন হবে এবং হাসিনাই জয়লাভ করবে। হাসিনা জয়লাভ করলে আপনার মন্ত্রী হবার সম্ভাবনা আছে কিনা জানতে চাইলে বলেন, সেই ধরনের অফার দেয়ার সময় এখনো আসেনি। তবে আমি তো যোগ্য ব্যক্তি। জাতীয় পার্টি থেকে যদি আনোয়ার হোসেন মঞ্জু, জাসদ থেকে হাসানুল হক ইনু, ওয়াকার্স পার্টি থেকে রাশেদ খান মেনন হয়, তাহলে আমি কেন হতে পারবো না?

আপনি বিএনপির সাথে জামাতের সমঝোতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন, কিন্তু এখন শেখ হাসিনার সরকার যে হেফাজতের সাথে সমঝোতা করেছে, তাকে আপনি কীভাবে দেখছেন জানতে চাইলে বলেন, রাজনীতিতে শেষ বলে কোন কথা নেই। আর লক্ষ্য যদি হয় ক্ষমতা, তাহলে যে কোন সমীকরণ হতে পারে। হেফাজতের সাথে আওয়ামী লীগের সমঝোতা ভোটের রাজনীতি। মূল কথা হচ্ছে হেফাজত যাতে বিএনপির সাথে না যায় সে জন্যই এই কৌশল। হেফাজত কি কখনো বিএনপির সাথে ছিলো কিনা এই ব্যাপারে তিনি বলেছেন, না, হেফাজত কখনো বিএনপির সাথে ছিলো না।

হেফাজত কি বাংলাদেশের রাজনীতিতে ফ্যাক্টর কিনা প্রসঙ্গে বলেছেন, অবশ্যই। বিএনপি সহিংস রাজনীতি করছে যে কারণে বিএনপি ছাড়লেন, আওয়ামী লীগও তো সহিংস রাজনীতি করছে, আপনি কীভাবে আওয়ামী লীগের সাথে গেলেন এই ব্যাপারে বলেছেন, আমি সব সময় সহিংস রাজনীতির বিরুদ্ধে। আমরা শেখ হাসিনাকে বাধ্য করবো একটি সুষ্ঠু নির্বাচন দিতে। সুষ্ঠু নির্বাচন হলেই বাংলাদেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হবে। আপনি যেখানে খালেদা জিয়াকে বাধ্য করতে পারলেন না সেখানে শেখ হাসিনাকে বাধ্য করবেন কীভাবে?

এই রহস্য জানতে চাইলে তিনি বলেছেন, শেখ হাসিনা এখন অল পাওয়ারফুল। তিনি ভোটের রাজনীতি করছেন, সেই সাথে মানুষের মন জয় করার রাজনীতিও করছেন। তিনি অনেক উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নিয়েছেন। দেশের উন্নয়ন অবশ্যই মানুষকে দুর্বল করে। আমি নিজেকে দিয়ে বিচার করি। দোহারে কেউ আমাকে চিনতো না, এখন সেই দোহারে শেখ হাসিনাও আমার সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পারবেন না। কারণ আমি সেখানে অনেক কাজ করেছি, মানুষের হৃদয়ের মধ্যে আমি ঢুকে গিয়েছি। সেই আসন আপনি ছেড়ে দেওয়া প্রসঙ্গে বলেছেন, আমি সেই আসন ছাড়ছি সেন্টিমেন্টালি। এই আসনে আমি আমার চাচা সালমান রহমানকে একবার পরাজিত করেছি। সেইবার আমি যোগাযোগ মন্ত্রী হই। আমার মধ্যে বোধ এসেছে যে একই ফ্যামিলির মধ্যে এটা ঠিক না। এবার উনি দোহার থেকে নির্বাচন করতে সিরিয়াস, সে জন্য আমি পূর্ণ সমর্থন তাকে দিয়েছি, একবার তিক্ততা হয়েছে, আর তিক্ততা আমি চাই না। সেখানে আমি তার জন্য কাজ করবো। এটা আমার সিম্প্যাথি। আর আমি ঢাকা সিটির একটি আসনে নির্বাচন করবো। সেই আসনটিও কনফার্ম- গুলশান- বারিধারার আসন। আমার চাচা টাকা দিলে আমি টাকাও নেব।

অনেকেই কথায় কথায় দালাল বলে, আমি এটাকে আমলেই নিই না। কারণ আমি জানি আমি কি। রাজনীতি করতে গিয়ে আমাকে কৌশল অবলম্বন করতে হলে আমি করবো। কিছু কিছু দুষ্ট লোকতো আমাকে খারাপভাবে চিত্রিত করার চেষ্টা করে। কিন্তু জনগণের কাছে আমি তো ভাল আছি। আগে ১টা সালাম পেলে এখন ১০টা সালাম পাই। শেখ হাসিনা পুরো বাংলাদেশব্যাপী উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে আছেন, দেশে দৃশ্যমান উন্নয়ন হচ্ছে। উনিতো মানুষের হৃদয়ে ঢুকছেন। তিনি চ্যালেঞ্জ নিয়ে পদ্মা সেতু করছেন। তার সীমাবদ্ধতা হচ্ছে রাজনীতি।

তিনি এখনো মানুষকে তার রাজনৈতিক অধিকার দেননি। আমি মনে করি তিনি যদি সুষ্ঠু নির্বাচন দেন এবং সেই নির্বাচনে তিনিই জয়লাভ করবেন এটাই আমার আত্মবিশ্বাস, আর পরাজিত হলেও সম্মানজনক এক্সিট। ক্রস ফায়ারের পর এখন প্রায় একই স্টাইলে জঙ্গী দমন হচ্ছে এ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেছেন, এক কথায় সত্য হলেও, আরেকটি ব্যাপার হচ্ছে জঙ্গীকেতো ঘেরাও করে মারা হচ্ছে। বাংলাদেশে কী জঙ্গী আছে প্রশ্নের জবাবে বলেন, জঙ্গী কথাটা নতুন, জং থেকেই জঙ্গী। হিন্দিতে জং মানে যুদ্ধ। কিন্তু আমাদের দেশে কেন এই ব্যবহার করা হচ্ছে আমি বুঝতে পারছি না।

এটা আরো পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন আছে। তবে এইটুকু বুঝায় যে, যারা সশস্ত্রভাবে বর্তমান সিস্টেমের পরিপন্থী অবস্থান নিয়ে কোন একটি উদ্দেশ্য সফলে কাজ করছে, তাকেই জঙ্গী হিসাবে চিহ্নিত করা হচ্ছে। স্বাধীনতার পর থেকে বাংলাদেশের মানুষ কী সুশাসন পেয়েছে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেছেন, না। আজ পর্যন্ত বাংলাদেশের মানুষ সুশাসন পায়নি। ২/১টা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে বাংলাদেশের মানুষ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পেরেছে। সেই নির্বাচনে জয়লাভ করে যারা ক্ষমতায় এসেছেন তারাও স্বৈরাচারি আচরণ করেছেন। ক্ষমতা কুক্ষিগত করেছেন। গণতান্ত্রিক লেবাসে স্বৈরাচারই ক্ষমতায় ছিলো।

আগামী নির্বাচনে তৃণমূল থেকে কোন প্রবাসী নির্বাচন করতে চাইলে তাকে কি মনোনয়ন দেবেন কিনা জানতে চাইলে বলেছেন, কেউ যদি আগ্রহী থাকে এবং যোগ্যতা থাকে তাহলে অবশ্যই মনোনয়ন দেয়া যেতে পারে। আপনি যে ১৪ দলীয় জোটে যাচ্ছেন- এটা কী বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদে বিশ্বাস রেখে না কি বাঙালি জাতীয়তাবাদে বিশ্বাস রেখে এমন প্রশ্নের জবাবে বলেছেন, আমি যে ১৪ দলীয় জোটে যাচ্ছি তা কিন্তু আমি বলিনি। আমি তৃণমূল বিএনপি নিয়ে আমার রাজনীতি চালাচ্ছি। আমি বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদে বিশ্বাস রাখি।

বিএনপি আপনাকে অফার দিলে আবারো কী বিএনপিতে যাবেন কিনা প্রসঙ্গে বলেছেন, না। আমিতো বিএনপিতেই আছি। আমি নিজের মত করে কাজ করতে পারছি, স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছি। আমি জোটের সাথে আছি। তৃণমূল বিএনপির নেতৃত্ব ছেড়ে অন্য কারো নেতৃত্বে যেতে চাই না।

Comments

comments