বয়স্ক এবং বাবারা আসছেন ঢাকা জেলা ছাত্রদলে!!

1627
বাবারা আসছেন ঢাকা জেলা ছাত্রদলে

শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের হাত ধরে ১৯৭৯ সালের ১ জানুয়ারি গঠিত হয়েছিল বিএনপির ছাত্রসংগঠন ছাত্রদল। বিএনপি’র ভ্যানগার্ড নামে পরিচিত এই ছাত্রদল। সংগঠনের খসড়া গঠনতন্ত্রের ৬-এর ১-এর (খ) ধারায় বলা হয়েছে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত ছাত্রছাত্রীরাই কেবল জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সদস্য হতে পারবেন। কিন্তু ঢাকা জেলা ছাত্রদলের নতুন কমিটিতে এবার দেখা যাবে বয়স্ক, বিবাহিত, বাবা এবং অছাত্রদের । অনেক নেতার সন্তান বর্তমানে স্কুলে পড়ছে। আজ যাদের ছাত্রদলের নেতা হওয়ার কথা অথচ নেতা হচ্ছে তাদের বাবারা। এতে প্রকৃত নেতৃত্ব বাধাগ্রস্থ হয়ে দূর্বল হয়ে পড়ছে বিএনপি’র এই ভ্যানগার্ড।

জেলা এই কমিটি গঠনের পরই গঠিত হবে উপজেলা ও কলেজ কমিটি। এসব কমিটি গঠন করতে ও বিভিন্ন পদ পেতে অনেকেই নিজের আন্দোলন সংগ্রামে অবদানের কথা তুলে ধরে আবেদন করেছে উপজেলা বিএনপি সভাপতির কাছে; অথচ তাদের এই আবেদন করার কথা ছাত্রদলের নেতৃবৃন্দের কাছে। ফলে জট পাকিয়ে অনেকটাই লেজে গোবরে অবস্থা ঢাকা জেলা ছাত্রদলের। কমিটি না হওয়ায় দলটির সদস্য সংগ্রহে নেই কোন কর্মসূচী, এছাড়া কলেজে ছাত্র-ছাত্রীদের সমস্যা সমাধানে নেই কোন তৎপরতা।

সংগঠনের বিধি অনুযায়ী, ১০১ সদস্যের সদস্যের কমিটির শীর্ষস্থানীয় পদে আসার কথা নিয়মিত ছাত্রদের। এবং যৌক্তিক বয়সের ছাত্ররাই ছাত্রদলের রাজনীতি করবেন; অন্যদের জন্য রয়েছে যুবদল, স্বেচ্ছাসেবকদল সহ অন্যান্য অংগ-সংগঠন ও সহযোগী সংগঠন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নেতা-কর্মীরা আশংকা প্রকাশ করে নিউজ৩৯কে বলছেন, বর্তমান কমিটিতে একজন নিয়মিত ছাত্রও নেই। আর বিভিন্ন জায়গায় ভর্তি হয়ে কোনোমতে ছাত্রত্ব টিকিয়ে রেখেছেন ৫ থেকে ১০ জন। বাকিরা কোনোভাবেই এখন আর ছাত্র নন। ফলে গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তাঁরা ছাত্রদলে থাকতে পারেন না। আর নতুন যে কমিটির কথা নিয়ে বিভিন্ন গুঞ্জন রয়েছে সেখানেও একই অবস্থা। তাদের অনেকেই ২০ থেকে ২২ বছর আগে এসএসসি পাশ করেছেন।

তারা আরো বলেন, আর আজ থেকে ৫ / ৭ বছর আগেই অনেকের ছাত্রজীবন শেষ হয়ে বর্তমানে সংসার, ব্যবসা-বাণিজ্য ও চাকুরী নিয়ে ব্যস্ত। অনেকেই বর্তমানে আন্দোলন না করার কারণে সরকারের বিভিন্ন সুবিধাভোগী। আসলে এদের দিয়ে সামনের আন্দোলন হবে না বরং এরা পদ নিচ্ছে দল ক্ষমতায় এলে যেন  টাকা কামানো যায় পদের কারণে।

নিয়মিত ছাত্ররা কেন ছাত্রদলে ঠাঁই পাচ্ছে না —জানতে চাইলে ছাত্রদলের এক জেলা নেতা বলেন, ‘আমরা এই কমিটি করতে অভিজ্ঞতা, দক্ষতা, দলীয় আনুগত্য—এই বিষয়গুলোকেই গুরুত্ব দিচ্ছি।’ ১০১ সদস্যের কমিটির জায়গায় অনেক বেশি পদ দেওয়া প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আন্দোলনের কারণেই আমরা সবাইকে রাখতে চেয়েছি। তবে আরও অনেক পদপ্রত্যাশী নেতা আছেন, যাঁদের আমরা পদ দিতে পারিনি। আমি মনে করি, কমিটি বড় হলেও আন্দোলনেও এর সুফল পাওয়া যাবে। সবাই একযোগে কাজ করার সুযোগ পাবে। আর রাজনীতির জন্যই কমিটি করা হয়েছে।’

অন্য খবর  নবাবগঞ্জের বাগমারা মার্কেটে আগুন, ৩ দোকান পুড়ে ছাই

নেতাদের ছাত্রত্ব সম্পর্কে জানতে চাইলে জেলা নেতা বলেন বলেন, ‘মূল নেতৃত্বে একটু বেশি বয়সীদের দেওয়া হয়। এটা দোষের কিছু নয়। তবে ছোট ও বড় সবার সমন্বয়েই কমিটি হচ্ছে।’

অথচ এক্ষেত্রে দলীয় চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া এবং সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচীব তারেক রহমানের নির্দেশনা মানছে না দলটি। বরং কেন্দ্রীয় কিছু নেতার বলয় ও প্রভাব ঠিক রাখতে অনেকটা পকেট কমিটিই হচ্ছে এবার ছাত্রদল, সর্বোচ্চ গুরুত্বপূর্ণ ঢাকা জেলায় যারা নেতৃত্ব সংগ্রামে আসছেন তাদেরকে থানা পর্যায়ের আন্দোলনে দেখা গেছে তাদের চরম ব্যার্থতা। সারা দেশে বিএনপি’র ঢাকা অবরোধে এরা ছিলেন থানা ম্যানেজ করে বাড়িতে নয়তো বা জীবিকার প্রয়োজনে ঢাকায়; তবে এরা নিয়মিত যোগাযোগ রেখেছেন বিএনপি’র নেতাদের সাথে এই পদ পেতে।

২০১৪ সালের ১৪ই অগাস্ট গুলশান কার্যালয়ে ছাত্রনেতাদের ডেকেছিলেন দলীয় চেয়ারপার্সন।  সে সময় খালেদা জিয়া ছাত্রদলের নেতাদের ‘অকৃতজ্ঞ’ ও ‘ব্যর্থ’ বলে ভর্ৎসনা করেন। তিনি এ-ও বলেন, আন্দোলনে ছাত্রনেতারা থাকবে আগে, তারপর অন্যরা। কিন্তু ছাত্রদলের অনেকে বিয়ে করে আরাম-আয়েশ করছে। তাদের পিছুটান তৈরি হয়েছে। তাদের কাছ থেকে দলের জন্য ‘সার্ভিস’ পাওয়া যাচ্ছে না।

এ ব্যাপারে আক্ষেপ করে দোহার উপজেলা ছাত্রদলের এক সাবেক নেতা নিউজ৩৯কে বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, বিএনপি’র প্রাণ, দুঃসময়ের কাণ্ডারি। ছাত্রদল নিশ্চুপ থাকায় আন্দোলন জোরদার হচ্ছে না। আর আন্দোলনের ক্ষেত্রে ছাত্রদল সহ সকল অংগ-সংগঠনের কমিটি পূর্ণাংগ না থাকায় আন্দোলন হচ্ছে না। আস্তে আস্তে দল থেকে নিশ্চুপ হয়ে যাচ্ছে নেতা – কর্মিরা। আর কমিটি না থাকায় নতুনেরা ভাবছে ;আমি কিছু করবো কিন্তু দল আমাকে চিনবে’তো। আমার কোন পদ নাই যে পরবর্তীতে দল আমাকে মূল্যায়ন করবে। আর বর্তমানে যে বয়ঃ বৃদ্ধরা ছাত্রদল করছেন তারা ব্যবসায়ী নয়তো চাকুরীজীবী। তারা বিগত বিএনপি সরকার থেকে সুবিধা নিয়েছেন , এখন সে সুবিধা শেষ ; তাই তারা ভয় পান নতুন কিছু করতে। এদের অধিকাংশ আবার বিবাহিত। তাই আন্দোলন তীব্র বা কার্যকর হচ্ছে না।

এই ছাত্রনেতা অভিযোগ করে বলেন, গুটি কয়েকনেতার স্বার্থ হাসিল করতে গিয়ে ক্ষতি করা হচ্ছে সমগ্র আন্দোলন। অন্তত ঢাকা জেলা কমিটি হওয়া উচিত নিয়মিত ছাত্র যারা মেধাবী, নিবেদিত ও তরুণ। এই বয়স্কদেরতো লজ্জ্বা হওয়া উচিত যে তারা কিভাবে নিজেকে ছাত্রনেতা পরিচয় দেন যেখানে ছাত্রলীগের একজন নেতা তার ছোট ভাইয়ের বয়সী এবং অনেক জুনিয়র।   আর এর উলটোপথে হাটা বর্তমান ছাত্রদল তাই নিয়মিত ছাত্রদের নিয়ে কমিটি গঠনের বিষয়ে খালেদা জিয়ার এ মনোভাব  কার্যকর করতে ইচ্ছ্বুক নয়।

এ ব্যাপারে নিয়মত ছাত্ররা পদ হারানোয় ভয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নেতারা নিউজ৩৯কে জানান, ছাত্রদলের রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তার করেন, ঢাকা জেলা বিএনপি ও ছাত্রদলের এমন নেতাদের কেউ কেউ চান না যে নিয়মিত ছাত্ররা নেতৃত্বে আসুক। কারণ, নিয়মিত ছাত্রদের দিয়ে কমিটি করা হলে ওই সব নেতার ‘নিজস্ব লোক’ না থাকার সম্ভাবনা বেশি। এসব হিসাব মেলাতে গিয়েই ছাত্রদলের এর আগের কমিটিগুলোর মতোই অছাত্ররাই মূল নেতৃত্বে ওঠে আসছে।

অন্য খবর  দোহারে চলছে পুলিশের অভিযানঃ আটক অর্ধ শতাধিক বাইক

অছাত্র এই ছাত্রনেতাদের হাত ধরে ছাত্রদলের ঢাকা জেলার বিএনপির ছাত্র রাজনীতিকে আসলে কোথায় যাবে সেটা এখনও বলা না গেলেও ঢাকা জেলার জাতীয়তাবাদী ছাত্র রাজনীতিতে যে নতুন করে প্রান পাচ্ছে না সেটা এক প্রকার নিশ্চিত। বরং অনেকেরই আশংকা অছাত্রদের হাত ধরে আরো নিচে নেমে যাবে বিএনপির আন্দোলন ও নেতৃত্ব তৈরির এই সূতিকাগার। ফলে প্রতিপক্ষ ছাত্রলীগের তুলনায় ছাত্রদল হারিয়ে ফেলবে তার অবস্থান।

নিচে ছাত্রদলের পদ পাওয়ার আবেদনপত্র দেয়া হলো।

বিঃ দ্রঃ আবেদন কিন্তু ছাত্রদলের কাছে করা হয় নি। করা হয়েছে উপজেলা বিএনপির সভাপতির কাছে। আর এই আবেদনই প্রমান করে চেয়ারপার্সন নির্দেশনা মোতাবেক কমিটি হচ্ছে না। হচ্ছে দলীয় নেতাদের আধিপত্য বজায় রাখার কমিটি।

(সংবাদ উৎস হিসাবে আবেদনপত্রে প্রার্থীর পরিচিতি গোপন রাখা হয়েছে। )

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম

শিক্ষা                                                  ঐক্য                                                   প্রগতি

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল

দোহার পৌরসভা ছাত্রদল

বরাবর,

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)

দোহার উপজেলা শাখা

দোহার, ঢাকা ।

বিষয়ঃ দোহার XXX শাখা ছাত্রদলের XXXX পদে মনোনয়নের জন্য আবেদন।

 

জনাব,

বিনীত নিবেদন এই যে, আমি XXXX, পিতা – YYYYY, গ্রাম – ZZZZZZ, থানা – দোহার, জেলা – ঢাকা। আমি XXXXX সাল থেকে YYYYY  শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম-সম্পাদক হিসাবে আন্তরিকতা, নিষ্ঠা, সততা ও আনুগত্যশীলতার মাধ্যমে দায়িত্ব পালন করে আসছি। বর্তমান ক্ষমতাশীল দল ও প্রশাসনের হামলা, মামলা ও হুমকি সত্ত্বেও আমি রাজপথে সক্রিয় দায়িত্ব পালনে অবিচল থেকেছি। আপনি জানেন, ইতিমধ্যে আমার নামে Xটি মামলা হয়েছে। আমি দীর্ঘদিন XXX ছাত্রদলের যুগ্ম-সম্পাদক পদে দায়িত্ব পালনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল ও ছাত্রদল কেন্দ্রীয় কমিটির সকল কর্মসূচী পালন করেছি। দেশনেত্রী ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং তারুণ্যের অহংকার ও বিএনপি’র সিনিয়র ভাইস-চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে ও দোহার উপজেলা বিএনপি’র প্রাণপুরুষ এবং সভাপতি সাহাবুদ্দীন আহাম্মেদের নেতৃত্বে আন্দোলন সংগ্রামে অতীতে রাজপথে ছিলাম এবং ভবিষ্যতেও থাকবো ইনশাল্লাহ ।

অতএব, দোহার উপজেলা বিএনপি’র মাননীয় সভাপতি ও অভিভাবক হিসাবে আপনার নিকট আমার আকুল আবেদন এই যে, আমার দীর্ঘ সংগ্রাম ও আন্দোলন এবং রাজনৈতিক কর্মকান্ড মূল্যায়ন করে; আমাকে দোহার XXX ছাত্রদলের XXXX পদে নির্বাচিত করবেন এবং অশেষ কৃতজ্ঞতাভাজন হবেন।

বিনীত নিবেদক

XXXXXX

(সাবেক যুগ্ম-সম্পাদক; XXXXXXXXXXXXXXXXXXXXXXXX)

দোহার উপজেলা ছাত্রদল, দোহার, ঢাকা।

Comments

comments