বাংলাদেশ থেকে ‘এশিয়া ইয়াং লিডার’ ব্যারিস্টার রাশনা ইমাম

75
এশিয়া ইয়াং লিডার

সামাজিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততা, আইন পেশায় দক্ষতা এবং জনস্বার্থে দায়ের করা মামলার সফলতার স্বীকৃতি স্বরূপ বাংলাদেশ থেকে ‘এশিয়া ইয়াং লিডার- ২০১৮’ হিসেবে মনোনীত হয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার রাশনা ইমাম। আখতার ইমাম অ্যান্ড অ্যাসোসিয়েটসের অন্যতম প্যানেল আইনজীবী ব্যারিস্টার রেশাদ ইমাম রবিবার (৯ সেপ্টেম্বর) এ তথ্য দেন।

রেশাদ ইমাম বলেন, এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের সরকার, ব্যবসায়, শিল্প, গণমাধ্যম এবং অলাভজনক ক্ষেত্রগুলোতে তরুণ নেতৃত্বদানকারীদের নিয়ে প্রতিবছর এশিয়া সোসাইটি কর্তৃক একটি তালিকা প্রকাশ করা হয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে সংস্থাটির ওয়েব সাইটে ‘এশিয়া ইয়াং লিডার-২০১৮’ এর তালিকা প্রকাশিত হয়। ওই তালিকায় এশিয়ার ৩১জন তরুণ নেতৃত্বের নাম উঠে আসে। যার মধ্যে বাংলাদেশ থেকে মনোনীত হয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার রাশনা ইমাম। বাংলাদেশ থেকে ২০১৮ সালে একমাত্র তিনিই এ গৌরব অর্জন করলেন।

নিজের প্রাপ্তি সম্পর্কে জানতে চাইলে ব্যারিস্টার রাশনা ইমাম বলেন, বিষয়টি আনন্দের এবং অবশ্যই একটি বড় প্রাপ্তি। আমার ধারণা, এমন স্বীকৃতি পাওয়ার যোগ্যতা অনেকেরই ছিল। তবুও তাদের মধ্য থেকে আমাকে বেছে নেওয়ার বিষয়টি আমার জন্য অনেক বড়। নিজেকে এখন খুব বেশি দায়িত্ববান মনে হচ্ছে। তাই নিজের কাজের বিষয়ে আরও গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত এগিয়ে যেতে চাই।

অন্য খবর  মুসলিম হয়ে আমি গর্বিত;সুপার মডেল বেল্লা হামিদ

তিনি আরও বলেন, ‘তালিকা ঘোষণা হলেও আগামী নভেম্বরে ম্যানিলাতে একটি অনুষ্ঠান হবে, সেখানে আনুষ্ঠানিকভাবে আমাদেরকে এই স্বীকৃতি দেওয়া হবে। এরপর তাদের সঙ্গে আমাদের বেশ কিছু কাজ করতে হবে। তবে এর বাইরেও আমি নিজের কাজগুলো করে যাবো। দেশের বৈষম্যমূলক আইনগুলোতে পরিবর্তন আনার লক্ষ্যে যে কাজ শুরু করেছি, তা নিয়েই এগিয়ে যাবো। আমাদের দেশে বেশ কিছু বৈষম্যমূলক আইন রয়েছে। সেগুলোর পরিবর্তন দরকার। সেক্ষেত্রে ‘এশিয়া ইয়াং লিডার-২০১৮’ এর স্বীকৃতি আরও সহযোগী হবে। এতে করে পার্শ্ববর্তী দেশগুলোকে নিয়ে এ বিষয়ে বিভিন্ন কনফারেন্স করতে পারবো, পারস্পরিক সাহায্য-সহযোগিতা বাড়াতে পারবো। এ ধরনের স্বীকৃতির উদ্দেশ্য থাকে কিছু নেতৃত্বকে একত্রিত করা এবং তাদেরকে নিয়ে দেশের সমস্যা সমাধান করা। আমরা সে লক্ষ্য নিয়েই কাজ করবো।’

অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ব্যারিস্টারি পড়া শেষে রাশনা ইমাম বিশ্বের সবচেয়ে বড় ল’ ফার্ম বেকার অ্যান্ড মেকাঞ্জির লন্ডন অফিসে যোগ দেন। সেখানে কর্মরত অবস্থায় কোম্পানি এবং বাণিজ্যিক আইন বিষয়ে তিনি অভিজ্ঞতা অর্জন করেন।

এরপর দেশে ফিরে বিভিন্ন স্থানীয় বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠী এবং বহুজাতিক কোম্পানিকে আইনি পরামর্শ এবং সেবা দিচ্ছেন ব্যারিস্টার রাশনা ইমাম। সম্প্রতি তামাদি হয়ে যাওয়া ও বিভিন্ন বৈষম্যমূলক আইনের বৈধতা প্রশ্নে দেশের উচ্চ আদালতে তার বেশ কিছু রিট শুনানিরত রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে জরুরি স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের আইনগত বাধ্যবাধকতা, মৃত্যু পরবর্তী অঙ্গদানসহ বিভিন্ন মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা সংক্রান্ত বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ মামলা।

অন্য খবর  পাকিস্তানের পাশে নতুন বন্ধু রাশিয়া

একাধারে তিনি চেম্বারস অ্যান্ড পার্টনারস, এশিয়া প্যাসিফিক-২০১৮ এর একজন শীর্ষস্থানীয় আইনজীবী। তিনি সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ব্যারিস্টার আখতার ইমামের কন্যা এবং রাজনীতিবিদ ববি হাজ্জাজের স্ত্রী।

প্রসঙ্গত, ১৯৫৬ সালে জন ডি রকফেলার তৃতীয় এশিয়া সোসাইটি প্রতিষ্ঠা করেন। সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক ও অলাভজনক প্রতিষ্ঠান হিসাবে এশিয়া এবং আমেরিকার সাধারণ জনগণ, নেতা এবং প্রতিষ্ঠানসমূহের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা এবং বোঝাপড়ার সম্পর্ককে মজবুত করার লক্ষ্য নিয়েই প্রতিষ্ঠানটি কাজ করে থাকে। সে অনুসারে এটি এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের তরুণ নেতাদের সবচেয়ে শক্তিশালী প্লাটফরম, যাদের ৪০টি দেশে প্রায় ৯০০জন প্রভাবশালী অ্যালামনাই রয়েছে।

প্রতিবছরের মতো এশিয়া ২১ ইয়ং লিডারস-২০১৮ এর তালিকায় রাশনা ইমাম ছাড়াও মঙ্গোলিয়ার উপ-অর্থমন্ত্রী বুলগানতোয়া কুরিলবাটার, দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের জন্য বিশ্বের প্রথম কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন ব্যক্তিগত সহায়ক ডিভাইস নিয়ে কাজ করা ভারতের রূপম শর্মা, অস্ট্রেলিয়ার সর্বকনিষ্ঠ সংসদ সদস্য টিমোথি ওয়াটসসহ মোট ৩১জনের নাম রয়েছে।

Comments

comments