বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপ: সারাদেশে বৃষ্টির সম্ভাবনা

282
বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপ: সারাদেশে বৃষ্টির সম্ভাবনা

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট সুস্পষ্ট লঘুচাপ প্রশান্তির বৃষ্টি ঝরাতে পারে আজ। এতে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে পারবেন মানুষ। রোজাদারদের কষ্ট কিছুটা হলেও কমবে। তবে বৃষ্টির সঙ্গে বজ্রপাতে আশঙ্কা আছে। এ কারণে মানুষজনকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে। বিশেষ করে বৃষ্টির সময়ে খোলা মাঠে, বড় গাছের নিচে বা জলাশয় থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

শুক্রবার বিকালে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে হালকা বৃষ্টিপাত হয়। এতে জনজীবনে কিছুটা স্বস্তি আসে। কিন্তু কয়েকদিন ধরে চলমান তাপপ্রবাহের কারণে উপরে উঠা ব্যারোমিটারের পারদ আগের অবস্থানেই থাকে। দেশের বিভিন্ন স্থানে শনিবারও মাঝারি থেকে মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যায়। এদিনও ৩৬ থেকে ৩৮ ডিগ্রি তাপমাত্রার গরমে পুড়েছে দেশের বিভিন্ন এলাকা। তবে আজকের তাপমাত্রা অনেকটাই সহনীয় পর্যায়ে নেমে আসবে বলে মনে করছে আবহাওয়া বিভাগ (বিএমডি)।

বুয়েটের পানি ও বন্যা ব্যবস্থাপনা ইন্সটিটিউটের অধ্যাপক ড. একেএম সাইফুল ইসলাম বলেন, বেশকিছুদিন ধরে চলমান তাপপ্রবাহের কারণে ভূমি থেকে প্রচুর পরিমাণে জলীয় বাষ্প আকাশে উঠেছে। ওইসব জলীয় বাষ্প গভীর সঞ্চালনশীল মেঘমালা তৈরি করেছে। এতে প্রচুর পরিমাণে এনার্জি (শক্তি) তৈরি হয়েছে। তাই দক্ষিণ-পশ্চিমা বায়ুর প্রভাবে মেঘমালা যখন আকাশে স্থানান্তর হবে, তখন পারস্পরিক সংঘর্ষে বজ পাতের তৈরি করতে পারে। তাই এর থেকে বাঁচতে নিরাপদ জায়গায় অবস্থান করা প্রয়োজন।

১৯ মে থেকে বাংলাদেশে তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। এর ধারবাহিকতায় শনিবারও দেশের বিভিন্ন স্থানে তাপপ্রবাহ বয়ে যায়। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে বিএমডির ওয়েবসাইটে দেখা যায়, দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ফেনীতে ৩৮ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এছাড়া বরিশাল, যশোর ও সাতক্ষীরায় ৩৮ দশমিক ৪ ডিগ্রি, গোপালগঞ্জ ও কুমিল্লায় ৩৮ দশমিক ৩ ডিগ্রি, চাঁদপুরে ও চুয়াডাঙ্গায় ৩৮ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা ছিল। চট্টগ্রাম, বরিশাল ও খুলনা বিভাগের বিভিন্ন জেলায় গরমের তীব্রতা বেশি। ঢাকায় ছিল ৩৬ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

অন্য খবর  বঙ্গোপসাগরে বন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত জারি

বিএমডির আবহাওয়াবিদ মোহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক বলেন, অবশ্য এ তাপমাত্রা রোববার থেকে থাকবে না। এদিন সারা দেশেই বৃষ্টিপাত হবে। কেননা, দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকা ও মধ্য বঙ্গোপসাগরে সুস্পষ্ট লঘুচাপ দেখা দিয়েছে। এটি আরও ঘনীভূত হতে পারে। এর প্রভাবেই বৃষ্টিপাত হবে। তবে বড় ফোটার বৃষ্টিপাত হলেও এর সঙ্গে দমকা হাওয়া ও বজ পাত থাকবে বলে সতর্ক করা হয়েছে।

এদিকে এই বৃষ্টিপাতের মাধ্যমে প্রাক বর্ষা মৌসুম শুরু হবে। এরপর শুরু হবে পুরো মৌসুম। তবে এ সময়ে বাতাসে প্রচুর পরিমাণে জলীয় বাষ্প থাকবে। এ কারণে তাপমাত্রা কম থাকলেও গরমের দাপট বা অস্বস্তিকর পরিস্থিতি কমবে না বলে জানিয়েছেন বিএমডির এক কর্মকর্তা। তিনি বলেন, আগস্ট পর্যন্ত এ পরিস্থিতি থাকবে। সে অবস্থায় কম তাপমাত্রা ও বৃষ্টিপাত থাকলেও মানুষকে ঘামতে হবে।

Comments

comments