ফিলিস্তিন নিয়ে ট্রাম্পের ‘শতাব্দীর সেরা সমঝোতায়’ কী আছে?

29

ফিলিস্তিন ও ইসরাইলে শান্তি প্রতিষ্ঠায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত ‘শতাব্দীর সেরা সমঝোতায়’ থাকা কতগুলো বিষয় প্রকাশ করেছে ইসরাইলি পত্রিকা।

ইসরাইলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বুধবার গণমাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত ‘শতাব্দীর সমঝোতায়’ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো উল্লেখ করেন।

আমেরিকান, ইসরাইলি বা ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের যেকোনো একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, ইসরাইলি হায়োম পত্রিকা এটি প্রকাশ করেছে। এ নথিটি প্রধানমন্ত্রী বেনিইয়ামিন নেতানিয়াহুর কাছে রয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র এ পরিকল্পনাটি আগামী মাসে প্রকাশের ইচ্ছা প্রকাশ করেছে।

ইসরাইলি পত্রিকার অনুসারে পরিকল্পনায় থাকা গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলো হলো-

১. চুক্তি

একটি ত্রিপক্ষীয় চুক্তি হবে যেটি ইসরাইল, ফিলিস্তিনি লিবারেশন অর্গানাইজেশন (পিএলও) ও হামাসের সঙ্গে। এতে ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের নতুন নাম হবে ‘নতুন ফিলিস্তিন,’ যেটি প্রতিষ্ঠিত হবে জুডিয়া, সামারিয়া (পশ্চিম তীর) এবং গাজা এলাকা নিয়ে। একই সঙ্গে ব্যতিক্রম হবে ইসরাইল পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপন করবে।

২. দখলমুক্ত ভূমি

পশ্চিম তীরে অধিকৃত ইসরাইলি ভূমি এবং অন্যন্য বিচ্ছিন্ন ভূমি ইসরাইলের দখলে থাকবে।

৩. জেরুজালেম

জেরুজালেম পৃথক বা ভাগ হবে না। এটি ইসরাইল এবং নতুন ফিলিস্তিন উভয়েই রাজধানী হিসেবে ব্যবহার করবে। আরবের নাগরিকরা জেরুজালেমে নতুন ফিলিস্তিনের নাগরিক হবেন।

নতুন ফিলিস্তিনি সরকারের মাধ্যমে ইসরাইলি জেরুজালেম পৌরসভা থেকে সব এলাকায় শিক্ষার সুযোগ পাবে। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ ট্যাক্স এবং পানির খরচ জেরুজালেম পৌরসভাকে পরিশোধ করবে।

ইহুদিরা আরবদের বাড়ি কিনতে পারবেন না। আরবরাও ইহুদিদের বাড়ি কিনতে পারবেন না। জেরুজালেম এবং বর্তমান এলাকাগুলোতে ধর্মীয় পবিত্র স্থানগুলো খোলা থাকবে।

৪. গাজা

ফিলিস্তিনিদের জন্য নতুন ভূমি বিমানবন্দর, বাণিজ্যিক এবং কৃষিখাতের জন্য লিজ দেবে মিসর। সীমান্তে লিজ দেয়া ভূমির অর্থ দু’দেশ আলোচনার মাধ্যমে পরিশোধ করবে।

অন্য খবর  উ. কোরিয়ায় উনের সঙ্গে বৈঠক করবেন আসাদ

৫. সহযোগিতপূর্ণ দেশ

এসব পক্ষের অর্থনৈতিক সহযোগিতা দেবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং তেল উৎপাদনকারী আরবের উপসাগরীয় দেশগুলো।

নতুন ফিলিস্তিনের পূনর্গঠনের জন্য পাঁচ বছরের জাতীয় পরিকল্পনায় ৩০ বিলিয়ন ডলার সহযোগিতা করা হবে।

এই বাজেটের মধ্যে ইহুদি বসতি এবং ইসরাইলের বড় বসতির জন্য অর্ন্তভুক্ত থাকবে। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ২০ শতাংশ এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন দেবে ১০ শতাংশ এবং তেল উৎপাদনকারী আরব উপসাগরীয় দেশগুলো দেবে বাকি ৭০ শতাংশ, যা ওই দেশগুলো তেল বিক্রি থেকে রাজস্ব আদায় করে।

বেশির ভাগ অর্থ আরব দেশগুলো দেবে। কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এ চুক্তির ফলে তেল উৎপাদনকারী দেশগুলো বেশি উপকৃত হবে।

৬. সেনাবাহিনী

ট্রাম্প-নেতানিয়াহুর প্রস্তাবিত সেই নতুন ফিলিস্তিনি সেনাবাহিনী গঠন করতে পারবে না। তারা শুধু পুলিশ বাহিনীর জন্য হালকা অস্ত্র ব্যবহার করতে পারবে।

এ নিরাপত্তা চুক্তি ইসরাইল এবং ফিলিস্তিনিদের মধ্যে হবে। যদি বিদেশি আক্রমণ হয়, তাহলে ইসরাইল তা মোকাবেলা করবে। এর খরচ অবশ্যই আলোচনার মাধ্যমে দুই পক্ষ বহন করবে।

৭. বাস্তবায়ন

চুক্তি স্বাক্ষর হলে এটি বাস্তবায়ন ধরা হবে। হামাস মিসরীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ব্যক্তিগত অস্ত্রসহ তার সমস্ত অস্ত্র জমা দেবে।

সরকার গঠনের পর হামাস সদস্যরা এবং তাদের নেতারা সহযোগী দেশেগুলো থেকে সবসময়ের জন্য বেতন পাবেন। গাজা সীমান্ত এবং সমুদ্র সীমানা উন্মুক্ত থাকবে। সেখান দিয়ে মালামাল ও শ্রমিক ইসরাইল এবং মিসর যেতে পারবে। যেটি হবে জুডিয়া এবং সামারিয়ার বর্তমান অবস্থার মতো।

এক বছরের মধ্যে নতুন ফিলিস্তিনের গণতান্ত্রিক সরকার গঠন করা হবে। যেখানে প্রত্যেক ফিলিস্তিনের নাগরিক ভোটযুদ্ধে অংশগ্রহণ করতে পারবে।

অন্য খবর  রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে সম্ভাব্য সেরা উপায় খুঁজে বের করব: জাতিসংঘ

নির্বাচন ও সরকার প্রতিষ্ঠার এক বছর পর ইসরাইলি কারাগারে ফিলিস্তিনি বন্দিদের তিন বছরের মধ্যে ধীরে ধীরে মুক্তি দেয়া হবে।

আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে নতুন ফিলিস্তিনের জন্য সমুদ্রবন্দর এবং বিমানবন্দর তৈরি করে দেয়া হবে। এর মধ্যে ফিলিস্তিনিরা ইসরাইলের বিমানবন্দর এবং সমুদ্রবন্দর ব্যবহার করতে পারবে।

সীমান্তে নতুন ফিলিস্তিন এবং ইসরাইলের নাগরিকরা চলাচল এবং পণ্য পরিবহন করতে পারবে। বন্ধুত্বপূর্ণ দেশের সঙ্গে যেমন হয়।

পশ্চিম তীর ও গাজার সঙ্গে হাইওয়ে সড়ক হবে। এতে চীন ৫০ শতাংশ খরচ দেবে। এবং দক্ষিণ কোরিয়া, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন দেবে ১০ শতাংশ।

৮. জর্ডান উপত্যকা

জর্ডান উপত্যকা ইসরাইলের নিয়ন্ত্রণে থাকবে। সড়ক ৯০ ভাগ হবে চার লেন বিশিষ্ট। ইসরাইল সড়কের জন্য একটি দরপত্র ইস্যু করবে।

৯. নতুন ফিলিস্তিন

নতুন ফিলিস্তিনকে জর্ডানে দুটি নতুন রুট দেয়া হবে, যার নিয়ন্ত্রণে ক্রসিং থাকবে।

১০. দায়দায়িত্ব

যদি হামাস এবং পিএলও শতাব্দীর সেরা সমঝোতা স্বাক্ষর করতে অস্বীকৃতি জানায়, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ফিলিস্তিনের জন্য সবধরনের অর্থনৈতিক সহযোগিতা বন্ধ করে দেবে। এবং কোনো দেশ ফিলিস্তিনে তাদের অর্থ দিতে পারবে না।

যদি পিএলও স্বাক্ষর করে কিন্তু হামাস এবং ইসলামিক জিহাদ এটি অস্বীকৃতি জানায়, তাহলে এই দুই আন্দোলনের নেতারা দায়ী হিসেবে বিবেচিত হবে।

এই নেতাদের নিয়ে গাজা এবং ইসরাইলের মধ্যে নতুন যুদ্ধ হলে যুক্তরাষ্ট্র ইসরাইলকে সহযোগিতা করবে।

যদি ইসরাইল এতে স্বাক্ষর করতে অস্বীকৃতি জানায়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র দেশটিকে সব আর্থিক সহায়তা বন্ধ করবে। সূত্র: ইয়েনি শাফাক

Comments

comments