প্রশাসনের একটি মহৎ উদ্যোগই ফিরিয়ে দিতে পারে খরস্রোতা ইছামতির রুপ যৌবন

112
নবাবগঞ্জের পশ্চিমাঞ্চলবাসীর চাওয়া পাওয়ার ফিরিস্তি

নদীমাতৃক সোনার বাংলার প্রতিটা অঞ্চলেই নদীকে ঘিরেই রয়েছে অনেক ইতিহাস ও ঐতিহ্য,  আর সেটি যদি হয় আমাদের প্রাণের স্পন্দন ও চিরচেনা ইছামতি তাহলে হৃদয় ও মন আপনাআপনিই নেচে উঠে অজানা কোন শিহরনে। ছোটবেলায় ইছামতির বুকে ঝাপাঝাপি করে বেড়ে উঠা, এই নদীর বুকে নারিকেল দিয়ে সাঁতার কাটতেশেখা, দলবেঁধে ছোয়াছুয়ি খেলা, ভাদ্র মাসের ভরা যৌবনে নৌকা বাইচের আসর বসানো, ছোট বড় অসংখ্য নৌকা করে জেলেদের মাছ ধরা, ইঞ্জিনচালিত নৌকা করে এখানে ওখানে বেড়াতে যাওয়ার এসব মুহুর্তগুলো আজও হৃদয়ে দোলা দিয়ে যায়।

১৯৯৯ সনে কাশিয়াখালী বেরিবাধ স্থাপনের পর থেকেই এ নদীটি ধীরে ধীরে নিষ্প্রাণ হয়ে পরছে, হারিয়ে ফেলছে তার রুপযৌবন। বেরিবাঁধ স্থাপনের আগে বোয়ালী ও  কাশিয়াখালী  দিয়ে পদ্মার পানি ইছামতির মাধ্যমে প্রবাহিত হতো, সারাবছরই নদীতে পানি থাকলেও বর্ষার ভরা মৌসুমে নদীতে জল থৈ থৈ করত, নদীর পানি বিভিন্ন খাল দিয়ে চক পাথারে প্রবেশ করায় পলি পরে বেড়ে যেত জমির উর্বরতা। শুধুমাত্র পদ্মা নদীর সাথে সরাসরি সংযোগ না থাকায় ও নদীর গভীরতা কমে যাওয়ায় আমাদের সবার প্রাণের স্পন্দন এ নদীটি আজ যেন গুমরে কাঁদছে। অতীতে এ নদীকে রক্ষার জন্য বহু আন্দোলন হয়েছে; হয়েছে বহু সভা,সেমিনার ও মানববন্ধন। প্রশাসন প্রতিশ্রুতিও দিয়েছিল কিন্তু কোন ভাল ফলাফল আসেনি। গত বছরও এলাকার সচেতন নাগরিকদের সৃষ্ট অনলাইন পেইজ” কাশিয়াখালী বেরিবাধ রক্ষামঞ্চ” এর ব্যানারে ক্যাম্পেইন করে বিভিন্ন ইলেক্ট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার মাধ্যমে প্রশাসনকে অবহিত করা হয়েছিল,তাশুল্যা বাংলাজার স্কুলে একটি অনুষ্ঠানে পানিসম্পদ মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু সাহেব ও দেশের অন্যতম ধনাঢ্য ব্যক্তি বেক্সিমকো গ্রুপের কর্ণধার,প্রধান মন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা  সালমান এফ রহমান সাহেব এলে এলাকাবাসীর পক্ষে বেরিবাঁধ রক্ষামঞ্চের এডমিনগণ তাদেরকে অবহিত করেন। তারা উভয়েই বেরিবাঁধ ও ইছামতি রক্ষার বিষয়ে আশ্বস্ত করার পরেও কাজের গতি নেই, সবকিছুই  চলছে ঢিলেঢালাভাবে ,অথচ একটি মহৎ প্রশাসনিক উদ্যোগ গ্রহণ করে শুধুমাত্র  নদীমুখে একটি স্লুইসগেট স্থাপনের মাধ্যমেই হতে পারে সকল সমস্যার একটি স্থায়ী সমাধান। পরিশেষে আশা করব প্রশাসনের সঙ্গে জড়িত সংশ্লিষ্টরা এমন একটি মহৎ ও তড়িৎ উদ্যোগ গ্রহণ করে  বাঁচিয়ে দেবে আমাদের ছোটবেলার খেলার সাথী মৃতপ্রায় ইছামতিকে।

অন্য খবর  দোহার পৌরসভা (শেষ পর্ব): উপসম্পাদকীয় – আব্দুর রহমান আকন্দ

এম.এ. কাইয়ুম খান

নবাবগঞ্জ,ঢাকা

Comments

comments