প্রভাবশালীরা দখল করে নিয়েছে কলাতিয়া খাল। অবৈধ দখলের ফলে দিনে দিনে এটি মরা খালে পরিণত হচ্ছে। তিন দশকে খালটির ১০ কিলোমিটার দখল করে গড়ে তুলেছে অর্ধশতাধিক ভবন ও মার্কেট। পানি প্রবাহ বন্ধ হবার দরুন ফসলি জমিতে পানি সেচ বিঘ্নিত হচ্ছে। পরিবেশ দূষণ ও দখলের ফলে খালটি সম্পূর্ণ ভরাট করে ফেলেছে ভূমিদস্যুরা। কলাতিয়া খালের উৎপত্তিস্থল বুড়িগঙ্গা নদীর খোলামোড়া এলাকা হয়ে ঘাটারচর, বড় ভাওয়াল হয়ে কালীগঙ্গা নদীর সঙ্গে ও অন্য শাখাটি বারিলগাঁও, নাজিরপুর হয়ে কলাতিয়া বাজার হয়ে আসামদিপুর আকসাইল হয়ে ধলেশ্বর নদীর সঙ্গে মিলিত হয়েছে। কেরানীগঞ্জ উপজেলার মোট ৪টি ইউনিয়ন হযরতপুর, কলাতিয়া, তারানগর ও শাক্তা ইউনিয়ন প্রদক্ষিণ করেছে খালটি। বর্তমানে খালটি অর্ধেক ভরাট করে রাস্তা তৈরি করা হয়েছে অপরিকল্পিতভাবে। খালটি ধীরে ধীরে দখলের পায়তারার জন্য ময়লার ভাগাড় তৈরি করা হয়। এতে পরিবেশ হুমকির মুখে। খালটি এমনভাবে ভরাট করা হয়েছে, বর্ষায় এসব খালের পানি উপচে পড়ে। আবার সামান্য বৃষ্টি হলেই দেখা দিচ্ছে জলাবদ্ধতা। সুষ্ঠু ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় সৃষ্ট জলাবদ্ধতা থেকে পরিবেশ দূষণের শিকার হচ্ছে এলাকাবাসী। নদ-নদীর নাব্য রক্ষা ও গতি প্রবাহ স্বাভাবিক রেখে দখল- দূষণ রোধ ও সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য উপজেলা প্রশাসন ব্যাপক পরিকল্পনা হাতে নিলেও সুষ্ঠু রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে এ খালে ময়লাআবর্জনা ফেলা হচ্ছে। সরজমিনে ঘুরে দেখা যায়, কলাতিয়া খালটি নিশ্চিহ্ন প্রায়, দেখে বোঝার উপায় নেই এখানে এক সময় খাল ছিল। এক সময় এই খালে অবাধে বিচরণ করত পালতোলা নৌকা, ছিল মানুষের যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম এবং কৃষি জমিতে পানি সেচের প্রধান উপায়। অথচ বর্তমানে ভূমিদস্যুদের দখলের কারণে কলাতিয়া খালে তার কিছুই চোখে পড়ে না। ভূমির অবকাঠামোর পরিবর্তন করা বেআইনী হলেও ভূমিদস্যুরা সেদিকে তোয়াক্কা না করে দিনরাত মাটি ভরাটের কাজ করে যাচ্ছে এ খালে। অবৈধ দখল আর দূষণের ফলে খালটি মরা খালে পরিণত হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা আতিকুজ্জামান পিন্টু জানান, কলাতিয়া খালের দক্ষিণ-পশ্চিম উৎসমুখ ধলেশ্বরী নদীর আকসাইলে বালি ভরাট করে প্রায় বন্ধ করে দিয়েছে। তাছাড়া বেশ কয়েকটি সøুইসগেট ও বর্জ্য ফেলার কারণে পানির স্বাভাবিক গতিপথ ব্যাহত হচ্ছে ।

অন্য খবর  কেরানীগঞ্জে যুবককে হত্যার হুমকি

Comments

comments