প্রতিদিনের হাদিস: হাজ্জ

84
প্রতিদিনের হাদিস

হাদিস নং ১৫৬৩: মারওয়ান ইবনু হাকাম (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ‘উসমান ও ‘আলী (রাঃ)-কে (উসফান নামক স্থানে) দেখেছি, ‘উসমান (রাঃ) তামাত্তু‘, হাজ্জ ও ‘উমরাহ একত্রে আদায় করতে নিষেধ করতেন। ‘আলী (রাঃ) এ অবস্থা দেখে হাজ্জ ও ‘উমরাহ’র ইহরাম একত্রে বেঁধে তালবিয়া পাঠ করেন- لَبَّيْكَ بِعُمْرَةٍ وَحَجَّةٍ  (হে আল্লাহ! আমি ‘উমরাহ ও হাজ্জ-এর ইহরাম বেঁধে হাযির হলাম) এবং বললেন, কারো কথায় আমি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সুন্নাত বর্জন করতে পারব না। (১৫৬৯, মুসলিম ১৫/২৩, হাঃ ১২২৩) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৪৬০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৪৬৬)

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

বর্ণনাকারী রাবীঃ মারওয়ান ইবনু হাকাম (রহঃ)

হাদিস নং ১৫৬৪: ‘ইবনু ‘আববাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, লোকেরা হাজ্জ-এর মাসগুলোতে ‘উমরাহ করাকে দুনিয়ার সবচেয়ে ঘৃণ্য পাপের কাজ বলে মনে করত। তারা মুহাররম মাসের স্থলে সফর মাসে যুদ্ধ-বিগ্রহ নিষিদ্ধ মনে করত। তারা বলত, উটের পিঠের যখম ভাল হলে, রাস্তার মুসাফিরের পদচিহ্ন  মুছে গেলে এবং সফর মাস অতিক্রান্ত হলে ‘উমরাহ করতে ইচ্ছুক ব্যক্তি ‘উমরাহ করতে পারবে। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর সহাবীগণ হাজ্জ-এর ইহরাম বেঁধে (যিলহাজ্জ মাসের) চার তারিখ সকালে (মক্কা্য়) উপনীত হন। তখন তিনি তাঁদের এ ইহরামকে ‘উমরাহ’র ইহরামে পরিণত করার নির্দেশ দেন। সকলের কাছেই এ নির্দেশটি গুরুতর বলে মনে হলো (‘উমরাহ শেষ করে) তাঁরা বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের জন্য কী কী জিনিস হালাল? তিনি বললেনঃ সবকিছু হালাল (ইহরামের পূর্বে যা হালাল ছিল তার সব কিছু এখন হালাল)। (১০৮৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৪৬১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৪৬৭)

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

বর্ণনাকারী রাবীঃ আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাঃ)

হাদিস নং ১৫৬৫: আবু মূসা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট উপস্থিত হলে তিনি আমাকে (ইহরাম ভঙ্গ করে) হালাল হয়ে যাওয়ার আদেশ দিলেন। (১৫৫৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৪৬২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৪৬৮)

অন্য খবর  প্রতিদিনের হাদিস: আন্‌-নওয়াবীর চল্লিশ হাদীস(পর্ব-৭)

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

বর্ণনাকারী রাবীঃ আবূ মূসা আশ’আরী (রাঃ)

হাদিস নং ১৫৬৬: নাবী সহধর্মিণী হাফসা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, হে আল্লাহর রাসূল! লোকদের কী হল, তারা ‘উমরাহ শেষ করে হালাল হয়ে গেল, অথচ আপনি ‘উমরাহ হতে হালাল হচ্ছেন না? তিনি বললেনঃ আমি মাথায় আঠালো বস্তু লাগিয়েছি এবং কুরবানীর জানোয়ারের গলায় মালা ঝুলিয়েছি। কাজেই কুরবানী করার পূর্বে হালাল হতে পারি না। (১৬৯৭, ১৭২৫, ৪৩৯৭, ৫৯১৬, মুসলিম ১৫/২৫, হাঃ ১২২৯, আহমাদ ২৬৪৮৬) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৪৬৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৪৬৯)

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

বর্ণনাকারী রাবীঃ হাফসাহ (রাঃ)

হাদিস নং ১৫৬৭: আবূ জামরাহ নাসর ইবনু ‘ইমরান যুবা‘য়ী (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি তামাত্তু‘ হাজ্জ করতে ইচ্ছা করলে কিছু লোক আমাকে নিষেধ করল। আমি তখন ইবনু ‘আববাস (রাঃ)-এর নিকট জিজ্ঞেস করলে তিনি তা করতে আমাকে নির্দেশ দেন। এরপর আমি স্বপ্নে দেখলাম, যেন এক ব্যক্তি আমাকে বলছে, উত্তম হাজ্জ ও মাকবূল ‘উমরাহ। ইবনু ‘আববাস (রাঃ)-এর নিকট স্বপ্নটি বললাম। তিনি বললেন, তা নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সুন্নাত। এরপর আমাকে বললেন, তুমি আমার কাছে থাক, তোমাকে আমার মালের কিছু অংশ দিব। রাবী শু‘বাহ্ (রহ.) বলেন, আমি (আবূ জামরাকে) বললাম, তা কেন? তিনি বললেন, আমি যে স্বপ্ন দেখেছি সে জন্য। (১৬৮৮) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৪৬৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৪৭০)

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

বর্ণনাকারী রাবীঃ আবূ জামরা (রহঃ)

অন্য খবর  কাতারে আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগীতায় দোহারের বাবা-ছেলে

হাদিস নং ১৫৬৮: আবূ শিহাব (রহ.) হতে বর্ণনা করে বলেন, আমি ‘উমরাহ’র ইহরাম বেঁধে হাজ্জে তামাত্তু‘র নিয়্যতে তারবিয়্যাহ দিবস (আট তারিখ)-এর তিন দিন পূর্বে মক্কা্য় প্রবেশ করলাম, মক্কা্বাসী কিছু লোক আমাকে বললেন, এখন তোমার হাজ্জের কাজ মক্কা্ হতে শুরু হবে। আমি বিষয়টি জানার জন্য ‘আত্বা (রহ.)-এর নিকট উপস্থিত হলাম। তিনি বললেন, জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) আমাকে বলেছেন, যখন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুরবানীর উট সঙ্গে নিয়ে হাজ্জে আসেন তখন তিনি তাঁর সঙ্গে ছিলেন। সাহাবীগণ ইফরাদ হাজ্জ-এর নিয়্যাতে শুধু হাজ্জের ইহরাম বাঁধেন। কিন্তু নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (মক্কা্য় পৌঁছে) তাদেরকে বললেনঃ বাইতুল্লাহর তাওয়াফ ও সাফা-মারওয়ার সা‘ঈ সমাধা করে তোমরা ইহরাম ভঙ্গ করে হালাল হয়ে যাও এবং চুল ছোট কর। এরপর হালাল অবস্থায় থাক। যখন যিলহাজ্জ মাসের আট তারিখ হবে তখন তোমরা হাজ্জ-এর ইহরাম বেঁধে নিবে, আর যে ইহরাম বেঁধে এসেছ তা তামাত্তু‘ হাজ্জের ‘উমরাহ বানিয়ে নিবে। সাহাবীগণ বললেন, এ ইহরামকে আমরা কিরূপে ‘উমরাহ’র ইহরাম বানাব? আমরা হাজ্জ-এর নাম নিয়ে ইহরাম বেঁধেছি। তখন তিনি বললেনঃ আমি তোমাদেরকে যা আদেশ করছি তাই কর। কুরবানীর পশু সঙ্গে নিয়ে না আসলে তোমাদেরকে যা করতে বলছি, আমিও সেরূপ করতাম। কিন্তু কুরবানী করার পূর্বে (ইহরামের কারণে) নিষিদ্ধ কাজ (আমার জন্য) হালাল নয়। সাহাবীগণ সেরূপ পশু যবহ করলেন। আবূ ‘আবদুল্লাহ্ (ইমাম বুখারী) (রহ.) বলেন, আবূ শিহাব (রহ.) হতে মারফূ‘ বর্ণনা মাত্র এই একটিই পাওয়া যায়। (১৫৫৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৪৬৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৪৭১)

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

বর্ণনাকারী রাবীঃ আবূ শিহাব (রহঃ)

গ্রন্থঃ সহীহ বুখারী

অধ্যায়ঃ হাজ্জ

পাবলিশারঃ তাওহীদ পাবলিকেশন

Comments

comments