প্রতিদিনের হাদিস: হাজ্জ্ব

16
প্রতিদিনের হাদিস

হাদিস নং২৭০১-(১৯/১১৮৪): ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া আত তামীমী (রহঃ) ….. আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর তালবিয়াহ্ নিম্নরূপ ছিলঃ

لَبَّيْكَ اللَّهُمَّ لَبَّيْكَ لَبَّيْكَ لاَ شَرِيكَ لَكَ لَبَّيْكَ إِنَّ الْحَمْدَ وَالنِّعْمَةَ لَكَ وَالْمُلْكَ لاَ شَرِيكَ لَكَ

“হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট হাযির হয়েছি, তোমার কাছে হাযির হয়েছি, তোমার দরবারে উপস্থিত আছি। তোমার কোন শারীক নেই, আমি তোমার সমীপে উপস্থিত হয়েছি। যাবতীয় প্রশংসা ও নি’আমাত তোমারই এবং সমগ্র রাজত্ব ও সার্বভৌম কর্তৃত্ব তোমার। তোমার কোন শারীক নেই।”

নাফি’ (রহঃ) বলেন, ‘আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাযিঃ) নিজের তরফ থেকে তালবিয়ার সাথে আরও যোগ করতেনঃ “তোমার দরবারে উপস্থিত হয়েছি, তোমার কাছে হাযির হয়েছি, তোমার খিদমাতের সৌভাগ্য লাভ করেছি। সমস্ত কল্যাণ তোমার হাতে, তোমার কাছে হাযির হয়েছি, সমস্ত আকর্ষণ তোমার প্রতি এবং সকল কাজ তোমারই জন্য”* (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৬৭৮, ইসলামীক সেন্টার ২৬৭৭)

* হাদিসে بِيَدَيْكَ لَبَّيْكَ শব্দের দ্বারা পরিষ্কার জানা গেল এখানে মহান রব্বুল আলামীনের হাত উদ্দেশ্য এবং দ্বিবচন শব্দ নিয়ে আসার দ্বারা বুঝা গেল, এর দ্বারা কুদরত উদ্দেশ্য নেয়া ভুল এবং বাতিল। আর যার দুটি কারণে যে, এখানে দ্বিবচন নিয়ে আসা হয়েছে। আকিদ বুঝানোর জন্য বাস্তবিক দু’হাত বুঝানোর জন্য নয় তাদের দাবি সকল আরবী আভিধানিক এবং সাহিত্যিকদের ব্যতিক্রম, কেননা তাকীদ করার জন্য হয়তো একই শব্দকে পুনরায় নিয়ে আসা হয় বা হরফসমূহ তাকীদ বৃদ্ধি করে, কিন্তু তাকীদ বুঝানোর জন্য একবচনের ক্ষেত্রে দ্বিবচন ব্যবহার করা হয় না। যা হোক মহান আল্লাহর হাত-পা, পায়ের নলা ইত্যাদি সম্পর্কে মুহাদ্দিসীনে কিরাম, সাহাবায়ে ইযাম ও তাবিঈ এবং সালফে সালিহীনদের অভিমত এই যে, এসব বিষয়ের উপর ঈমান আনয়ন করা এবং বাহ্যিক অর্থে ব্যবহার করা জরুরী। আর এ সকল বিষয়কে কোন বিষয়ের সাথে সাদৃশ্য দেয়া বা অন্য কোন তাবীল বা অপব্যাখ্যা থেকে বেঁচে থাকা উচিত।

অন্য খবর  ওয়াইফাই চুরি নিয়ে দুবাইয়ে ফতোয়া জারি

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

হাদিস নং ২৭০৪-(২১/…): হারমালাহ ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ….. আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে মাথার চুল জমাট করা অবস্থায় তালবিয়াহ্ পাঠ করতে শুনেছি। তিনি বলছিলেন, “লাব্বায়কা আল্ল-হুম্মা লাব্বায়কা…লা- শারীকা লাকা”। তিনি এর সাথে আর কোন কথা যোগ করতেন না।

আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাযিঃ) বলতেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুল হুলায়ফায় দু’ রাকাআত সলাত (সালাত/নামাজ/নামায) আদায় করতেন। অতঃপর তার উষ্ট্রী যখন তাকে নিয়ে যুল হুলায়ফার মাসজিদের সামনে দণ্ডায়মান হতো তখন তিনি ঐসব শব্দ সহকারে তালবিয়াহ পাঠ শুরু করতেন।

‘আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাযিঃ) আরও বলতেন, উমার ইবনুল খাত্ত্বাব (রাযিঃ) ও রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই তালবিয়াহ্ পাঠ করতেন এবং বলতেন, “লাব্বায়কা আল্ল-হুম্মা লাব্বায়ক…ওয়ার রগবাউ ইলায়কা ওয়াল ‘আমালু।” (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৬৮১, ইসলামীক সেন্টার ২৬৮০)

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

হাদিস নং ২৭০৮-(২৫/১১৮৭):  ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ….. উবায়দ ইবনু জুরায়জ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাযিঃ) কে বললেন, হে আবূ ‘আবদুর রহমান আমি আপনাকে এমন চারটি কাজ করতে দেখছি- যা আপনার সঙ্গী-সাথীদের কাউকে করতে দেখিনি। তিনি বললেন, হে ইবনু জুরায়জ! সেগুলো কী কী? তিনি বললেন, আমি দেখেছি আপনি রুকনে হাজারে আসওয়াদ ও রুকনে ইয়ামানী ব্যতীত আর কোন রুকন স্পর্শ করেন না। আমি আরও লক্ষ্য করেছি যে, আপনি পশমবিহীন চামড়ার স্যান্ডেল পরিধান করেন। আমি আরও দেখেছি যে, আপনি হলুদ বর্ণ ব্যবহার করেন। আমি আরও লক্ষ্য করেছি যে, আপনি মাক্কা (মক্কা)-তে অবস্থানকালে (যিলহাজ্জ মাসের) আট তারিখে ইহরাম বাঁধেন। অথচ লোকেরা নতুন চাঁদ দেখার সাথে সাথে ইহরাম বাঁধে।

অন্য খবর  জুম্মার দিন ও নামাজের ফজিলত

আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাযিঃ) বললেন, রুকনসমূহের ব্যাপারে কথা হচ্ছে এই যে, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে রুকনে হাজারে আসওয়াদ ও রুকনে ইয়ামানী ছাড়া অন্য কোন রুকন স্পর্শ করতে দেখিনি।* আর পশমবিহীন স্যান্ডেলের ব্যাপার হচ্ছে এই যে, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে পশমবিহীন চামড়ার স্যান্ডেল পরিধান করতে দেখেছি। তিনি তা পায়ে দিয়ে ওযুও করতেন। আমিও তাই এ ধরনের স্যান্ডেল পছন্দ করি। হলুদ রং-এর সম্পর্কে কথা হচ্ছে এই যে, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে এ রং ব্যবহার করতে দেখেছি। অতএব আমিও এ রং পছন্দ করি। ইহরাম সম্পর্কে বলতে হয় যে, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে তখনি তালবিয়াহ্ পাঠ করতে শুনেছি যখন তার উট যাত্রা শুরু করেছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৬৮৫, ইসলামীক সেন্টার ২৬৮৪)

* কা’বাহ শরীফের যে দুটি থাম (বা কোণ) ইয়ামানের (দক্ষিণ) দিকে স্থাপিত, তাকে আর-রুকন-ইয়ামানিয়্যান বলে। এর একটি কোণে হাজারুল-আসওয়াদ স্থাপিত। আর হাতিম-এর দিকের দুটি থাম (বা কোণ)-কে আর-রুকনুশ-শামিয়ান বলে। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ শেষোক্ত রুকন দুটি স্পর্শ করতেন না। কারণ তা ইবরাহীম ও ইসমাঈল (আঃ) এর ভিতের উপর প্রতিষ্ঠিত ছিল না। পক্ষান্তরে রুকনে ইয়ামানী তাদের নির্মিত ভিতের উপর স্থাপিত ছিল বিধায় রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা স্পর্শ করতেন। (ফাতহুল মুলহিম- ৩য় খণ্ড, পৃঃ ২২০)

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

গ্রন্থঃ সহীহ মুসলিম

অধ্যায়ঃ হজ্জ

পাবলিশারঃ হাদিস একাডেমি

Comments

comments