শেখ হাসিনা

প্যারিস জলবায়ু চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে উঠার জন্য বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সহায়তার আহ্বান জানান তিনি। কানাডার কিউবেকে জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী এ আহ্বান জানান। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা ইউএনবি। কিউবেকে লা মালবায়েতে ম্যানোইর রিচেলি হোটেলে এই সম্মেলনে জি-৭ নেতাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের জন্য প্যারিস চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি আরো বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রেক্ষিতে অর্থায়নকে উদ্দীপ্ত করতে হবে এবং বাংলাদেশের জন্য তা সহজতর করতে হবে।

বাংলাদেশের মতো দেশের উন্নয়নে সক্ষমতা, প্রযুক্তি বিকাশে কৃষি, জনস্বাস্থ্য ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার মতো খাতগুলোতে  সহায়তা প্রয়োজন। জলবায়ুুর বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সঙ্গে খাপ খাওয়াতে দুর্বল ও সবচেয়ে বিপন্ন দেশগুলোর জন্য কানাডা যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে তার প্রশংসা করেছেন প্রধানমন্ত্রী। এক্ষেত্রে আগামী ৫ বছরে জলবায়ুর পরিবর্তন মোকাবিলায় উন্নয়নশীল দেশগুলোকে সহায়তায় কানাডার ২৬৫ কোটি ডলার ও গ্রিন ক্লাইমেট ফান্ডে ৩০ কোটি ডলার অনুদানেরও প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী। বিশ্বজুড়ে জলবায়ু পরিবর্তনে যে প্রভাব পড়ছে তা মোকাবিলায় জি-৭ দেশগুলোর কাছে আর্থিক ও প্রযুক্তিগত সহায়তা চান শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, বাংলাদেশে আমরা দেখছি ভয়াবহ বন্যা, খরা ও ভারি বৃষ্টিপাত। এমনভাবে ভারি বর্ষণ হচ্ছে যার পূর্বাভাষ করা যায় না। ঘন ঘন বন্যা, ঘূর্ণিঝড় ও ঝড়ের তীব্রতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। নদীর উজানে পানিতে লবণাক্ততা বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে দেশের অভ্যন্তরভাগে মাছের প্রাকৃতিক মজুদ কমে যাজেচ্ছ। আগামী ২০ বছরের মধ্যে ৫০ লাখ থেকে এক কোটি মানুষকে উপকূলভাগ থেকে সরে আসতে হতে পারে। আমাদের বেশির ভাগ উন্নয়ন প্রচেষ্টা ও অর্জন জলবায়ুু পরিবর্তনে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এতে বেশির ভাগই আক্রান্ত হচ্ছে সবচেয়ে গরিবরা। প্রতি বছর জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলার জন্য বাংলাদেশ তার জাতীয় প্রবৃদ্ধির শতকরা প্রায় এক ভাগ খরচ করছে।

অন্য খবর  নিহত ৫৮, যমুনায় রেকর্ড পানি : ২০০ বছরের ইতিহাসে ভয়াল রূপে বন্যা

Comments

comments