পোল্যান্ডে ইরানবিরোধী সম্মেলন; ইরানের এলিট ফোর্সে আত্মঘাতী হামলা

123
ইরান

পোল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে শুরু হয়েছে মধ্যপ্রাচ্য সম্মেলন। ইসরাইল ও আরব বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অংশগ্রহণে এ সম্মেলনের প্রতিপাদ্যই যেন ইরানবিরোধী সুর। সম্মেলনের বাইরে শ’ শ’ মানুষকে ইরানের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করতে দেখা গেছে। অংশগ্রহণকারী অনেক প্রভাবশালী আলোচকের পাশাপাশি বিক্ষোভকারীরাও ইরানের ক্ষমতা-ব্যবস্থার পরিবর্তনের দাবি তুলেছেন। ঠিক একই দিনে কাকতালীয়ভাবে ইরানের সীমান্ত অঞ্চলে এলিট ফোর্স আইআরজিসির ওপর এক ভয়াবহ আত্মঘাতী বোমা হামলা হয়েছে। ওই হামলায় ইরানের বিপ্লবী রক্ষী বাহিনীর ২৭ সদস্য নিহত হয়েছেন। ওই গাড়ি বোমা হামলায় আরো ১০ সেনা আহত হন।

ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনা জানিয়েছে, এই হামলা হয়েছে সিস্তান-বেলুচিস্তান প্রদেশে। এই প্রদেশটি বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ আফিম পাচারের রুট। এখানে ইরানি বাহিনীর সঙ্গে প্রায়ই বেলুচ বিচ্ছিন্নতাকামী ও মাদক চোরাকারবারিদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। বার্তা সংস্থা ফার্স জানিয়েছে, জৈশ আল-আদল নামে একটি সশস্ত্র গোষ্ঠী হামলার দায় স্বীকার করেছে। এই হামলা এমন দিনে ঘটলো যখন পোল্যান্ডের রাজধানী ওয়ারশ’তে চলছে মার্কিন নেতৃত্বাধীন মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক সম্মেলন। এতে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ইরানের ‘ধ্বংসাত্মক কর্মকা-’ নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা। ইরানে বিপ্লবী রক্ষীবাহিনী অর্থনৈতিক ও সামরিক দিক দিয়ে ব্যাপক শক্তিশালী। এটি কেবল দেশের সুপ্রিম লিডার আয়াতুল্লাহ আল  খোমেনির কাছে জবাবদিহি করে থাকে। ২০০৯ সালে এই সিস্তান-বেলুচিস্তান প্রদেশেই এক আত্মঘাতী হামলায় এই বাহিনীর ৬ কমান্ডার সহ ৪০ জন নিহত হন। সেবার জান্দাল্লাহ নামে একটি সুন্নিপন্থি গোষ্ঠী দায় স্বীকার করে। ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরেও ইরানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় তেল-সমৃদ্ধ প্রদেশে সামরিক কুচকাওয়াজ চলাকালে হামলা হলে ২০ জন নিহত ও ৬০ জন আহত হন।

অন্য খবর  মিয়ানমারের বিরুদ্ধে গাম্বিয়ার দায়ের করা মামলাকে ‘আশীর্বাদ’ হিসেবে দেখছে দেশের সেনাবাহিনী

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাভেদ জারিফ এই হামলা ও পোল্যান্ডের সম্মেলনের নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি টুইটারে বলেন, এটি কি কাকতালীয় ঘটনা যে, ওয়ারশতে এই রঙ্গ শুরু হওয়ার দিনেই সন্ত্রাসী হামলার শিকার হলো ইরান?

এদিকে ওই সম্মেলনে অংশ নিয়ে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেন, এই সম্মেলন গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, আরব ও অন্যান্য নেতারা ইসরাইলের সঙ্গে একসঙ্গে বসেছে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের অভিন্ন স্বার্থ এগিয়ে নিতে।

সম্মেলনে অংশ নেয়া মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ব্যক্তিগত আইনজীবী রুডি জুলিয়ানি বলেছেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও নিরাপত্তার স্বার্থে ইরানের ধর্মভিত্তিক নেতৃত্বব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে হবে।’ সম্মেলনে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত না হলেও, তিনি ইরানের ভিন্নমতাবলম্বীদের একটি গোষ্ঠীর প্রতিনিধি হিসেবে বক্তৃতা রাখেন।

জুলিয়ানি বলেন, পারমাণবিক চুক্তি মেনে চলার ব্যাপারে ইরানের ওপর বিশ্বাস রাখা যায় না। বক্তব্যের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে বক্তৃতায় ইরানের ‘শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনে’র ডাক দেন তিনি।

 ওই ভিন্নমতাবলম্বী গ্রুপের আরেক প্রতিনিধি সাবেক মার্কিন সিনেটর রবার্ট টেরিসেলিও ইরানের সঙ্গে সমঝোতার পরিবর্তে দেশটির নেতৃত্ব পরিবর্তনের দাবি জানান।

আল জাজিরার খবরে বলা হয়, এই সম্মেলনের কথা গত মাসে প্রথম ঘোষণা দেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও। কায়রোতে গতমাসে কড়া ভাষায় ইরানবিরোধী বক্তব্যে তিনি এই তথ্য প্রকাশ করেন। অনেকেই মনে করছেন, ইরানের বিরুদ্ধে বিশ্বশক্তিকে এক করতে ওয়াশিংটন এই প্রচেষ্টা হাতে নিয়েছে। তবে এই সম্মেলনের সময় অনেক কারণে সংবেদনশীল। এটি এমন সময় হচ্ছে, যখন ইরানের সঙ্গে আমেরিকার পরিত্যাগকৃত পারমাণবিক চুক্তি কার্যকর রাখতে জোর চেষ্টা চালাচ্ছে ইউরোপের প্রভাবশালী দেশগুলো।

অন্য খবর  আজ মহান মে দিবস

ইরান

সম্মেলনের আয়োজক পোল্যান্ড চেষ্টা করছে এই সম্মেলনকে ইরানবিরোধী রূপ না দিতে। দেশটি বার বার বলছে, ইরানের সঙ্গে হওয়া পারমাণবিক চুক্তির প্রতি পোল্যান্ডের অঙ্গীকার এখনো অক্ষুণœ রয়েছে। তবে দৃশ্যত, সম্মেলনের নিয়ন্ত্রণ এখন পোল্যান্ডের হাতে নেই। এই সম্মেলনে তেহরানের কাউকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। ইরান বিষয়ক ট্রাম্পের বিশেষ দূত ব্রায়ান হুক এই সম্মেলনের আয়োজক।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেওর উপস্থিতিতে এতে বক্তব্য রাখবেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স ও ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। এ ছাড়া এতে বিরল ভাষণ দেবেন ট্রাম্পের বিশেষ উপদেষ্টা ও জামাতা জ্যারেড কুশনার। বৃটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী জেরেমি হান্ট উপস্থিত থাকলেও তিনি এই সম্মেলনে শুধু ইয়েমেন যুদ্ধ নিয়ে বক্তব্য দেবেন। অন্যান্য ইউরোপীয় দেশগুলো নি¤œপদস্থ কর্মকর্তা পাঠাচ্ছে। কিছু আরব দেশের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে রয়েছেন মন্ত্রীরা।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রধান কূটনীতিক ফেডেরিকা মোঘেরিনি বলেছেন, তিনি এতে অংশ নেবেন না। ইরানের গুরুত্বপূর্ণ মিত্র রাশিয়াও আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান করেছে। ফিলিস্তিনি কর্মকর্তারাও থাকবেন না। তাদের বক্তব্য, এই সম্মেলন হলো ফিলিস্তিনি দাবি- দাওয়া মুছে ফেলতে মার্কিন-ইসরাইলি চক্রান্ত।

Comments

comments