পর্নোগ্রাফির আদলে যৌনতা শিখছে কিশোর-কিশোরীরা

82

যৌনতা নিয়ে বেশিরভাগ তরুণ-তরুণীর ধারণা একেবারে ভুল। তারা না পারে পরিবারের বড় কারও কাছ থেকে এ বিষয়ে জানতে; আবার পাঠ্যপুস্তকেও এ ব্যাপারে তেমন একটা জানতে পারে না। তবে হাতের নাগালে মোবাইল আর ইর্টারনেট থাকার ফলে চাইলেই তারা ঢুকে পড়তে পারছে পর্নো দুনিয়ায়।
কিন্তু পর্নোগ্রাফিতে যা দেখানো হয়, বাস্তবে মানুষের যৌনতা কি সেরকম? কর্তৃত্ব আর আধিপত্যশীলতার যৌনকরণ ছাড়া কি আর কিছু দেখানো হয় পর্নোগ্রাফিতে?

তাহলে পর্নো থেকে শেখা নয় বরং ভুল বোঝার অবকাশ রয়েছে তাদের। টিন-এজার শিক্ষার্থীদের কিছু গল্প শুনে রীতিমতো বিস্মিত হয়ে পড়েছিলেন যুক্তরাজ্যের ২৪ বছর বয়সী এক স্কুল শিক্ষক। তিনি বিবিসির ফ্যামিলি এন্ড এডুকেশন প্রোগ্রামের সাক্ষাৎকারে সেসব অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করেছেন।
তার ভাষায়, যে ভাষায় ছেলেরা যৌনতা সম্পর্কিত আলোচনা করে, তাতে বুঝতে বাকি থাকে না তাদের জ্ঞান যৌনতা সম্পর্কে আসলে কতটা কম।
কেবল ছেলেরাই নয়; যৌনতা সম্পর্কে কিশোরীদের ধারণাও অনেক ভুল। তাদের যে নিজের প্রতি ভালোবাসা থাকা উচিত, নিজের শরীরেও যে মর্যাদা আছে, সেটা তাদের শেখানো হয় না, তারা শেখেও না, জানেও না।
অনেক কিশোরী মনে করে কোনো ছেলের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক হলেই প্রেম হয়ে যাবে। ওই শিক্ষক বলেন, ১৪ বছর বয়সী আমার এক শিক্ষার্থী জানিয়েছে, প্রেম হওয়ার পর এক ছেলের সঙ্গে তার যৌন সম্পর্ক হয়েছে। এর কয়েকদিনের মাথায় ছেলেটি তাকে জানিয়েছে, তাকে ওই ছেলের ভার লাগে না।
তিনি আরও বলেন, মেয়েটি এতে প্রচণ্ড আঘাত পায়। আমার কাছে তার প্রশ্ন ছিল, যৌন সম্পর্ক হওয়ার পরও কেন তাকে ওই ছেলের ভাল লাগল না।
তিনি একনাগাড়ে বলতে থাকেন, যৌন সম্পর্কে জড়ানোটাকেই কিশোরীরা নিজেদের পরম পাওয়া বলে মনে করছে। যৌন সম্পর্ক স্থাপনের জন্য কেউ তাদেরকে বাছাই করতে এটাই তারা অনেক সম্মানের বলে মনে করছে। আর যদি যৌন সম্পর্কে জড়ানো ছেলেটা স্কুলের জনপ্রিয় কেউ হয়; তাহলে তো কথাই নেই। সেই ছেলের সঙ্গে যৌন সম্পর্কে জড়িয়ে নিজেকে ভাগ্যবান মনে করে কিছু কিশোরী।
অথচ পরবর্তী সময়ে গিয়ে এসব কারণে কিশোরীরা বিলাপ করবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তিনি মনে করেন, এই কাজগুলো যে ঠিক নয় সেটা কিশোরীদের বুঝতে হবে। ছেলেরা তাদের নিয়ে কী ভাবছে সেটাকে গুরুত্ব না দিয়ে নিজের সম্পর্কে নিজেকেই ভাবতে হবে।
অথচ কিশোরীরা ভাবে, কেন কোনো ছেলে আমার সঙ্গে সম্পর্ক করতে চায় না। ধীরে ধীরে নিজেকে সেই মেয়ে অবহেলা করতে থাকে। একপর্যায়ে নিজের প্রতি ঘৃণা তৈরি হয়।
তিনি আরও বলেন, কিশোর-কিশোরী সবাই যৌন সম্পর্কিত বিভিন্ন রোগের ব্যাপারে জানে; কনডম ব্যবহার সম্পর্কে জানে; কিন্তু সত্যিকারের য়েওনতা তাদের কাছে অজানা। তারা যা জানে তা পর্নোগ্রাফি দেখে শেখা। আর পুরোটাই ভুল। রঙের খেলা। কিছু চিৎকার চেঁচামেচি।
কিশোর-কিশোরীদের যৌনতার ব্যাপারে শিক্ষা দেয়া জরুরি। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে খোলামেলাভাবে এসব ব্যাপারে বিস্তর আলাপ হওয়া জরুরি; আর অবশ্যই সেটা হবে শ্রেণিকক্ষে। যদিও অনেক শিক্ষক যৌন সম্পর্কিত বিষয় নিয়ে কথা বলতে চান না। তারপরেও শিক্ষার্থীদের বাস্তবতা বোঝাতে হবে।
অন্যথায় নতুন জেনারেশনের কাছে যৌন সম্পর্কের কোনো মর্যাদা পাবে না।
সূত্র : বিবিসি

অন্য খবর  যেভাবে ফল পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করা যাবে

Comments

comments