পদ্মায় হারিয়ে যাচ্ছে মিনি কক্সবাজার দোহারের মৈনট ঘাট

415
মৈনট

ঢাকার দোহারের মিনি কক্সবাজারখ্যাত মৈনট ঘাট টানা তিন বছরের মতো এবারো প্রবল নদী ভাঙনের মুখে পড়েছে। যার ফলে পদ্মা নদীর তীরবর্তী এই পর্যটন এলাকাকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিক, শ্রমিক, সড়ক ও নৌযান পরিবহনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট লোকজন এবং এলাকাবাসী চরম উৎকণ্ঠায় মধ্যে সময় কাটাচ্ছেন।

এলাকাবাসীর দাবি, মৈনট ঘাট এলাকার তীর সংরক্ষণ ও ভাঙনরোধে দ্রুত ব্যবস্থা না করলে অচিরেই পদ্মা নদীতে হারিয়ে যাবে এই পর্যটন এলাকাটি। ফলে বেকার হয়ে পড়বেন কয়েক হাজার ব্যবসায়ী ও শ্রমিক।

মৈনট ঘাটের ব্যবসায়ীরা জানান, বিগত সময়ে পদ্মার ভাঙনে তাদের ফসলি জমি, ঘরবাড়ি পদ্মার গর্ভে চলে গেছে। কোনোমতে এলাকায় ব্যবসা করে পরিবার-পরিজন নিয়ে টিকে আছেন। চলমান মৌসুমে পদ্মায় স্রোতের বেগ বাড়ার ফলে নদীর পাড় ভেঙে যাচ্ছে। কখন যে তাদের দোকান নদীতে চলে যায় তা নিয়ে চিন্তিত। ইতোমধ্যে কয়েকটি দোকান ও স্থাপনা নদীতে পতিত হয়েছে।

মৈনট ঘাটের হোটেল ব্যবসায়ী শাহ আলম বলেন, এক সময় আমাদের প্রচুর জমি ছিল যা এখন পদ্মার গর্ভে। বিনোদনের জন্য এখানে ঘুরতে আসা পর্যটকদের কাছে বিভিন্ন ধরনের খাবার বিক্রি করি। আমরা সরকারে কাছে দাবি জানাই, পর্যটন এলাকাটিকে পদ্মার ভাঙন থেকে রক্ষা করা হোক।

অন্য খবর  ঢাকা জেলার প্রতিনিধি হয়ে ইব্রাহীম খলিল সরকারি সফর

স্থানীয়রা জানান, প্রতি বছর এ ঘাট থেকে কোটি কোটি টাকা রাজস্ব আয় হয়, কিন্তু ভাঙন রক্ষায় কোনো ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না। ফলে কোনো নিয়ম কানুনের তোয়াক্কা না করেই ঘাট মালিকরা তাদের ইচ্ছামতো দোকানপাট তুলছে। এ ছাড়া ঘাটের পাশেই ইট বালুর ব্যবসার কারণে পরিবেশের বিপর্যয় ঘটছে। এদিকে ঘাট মালিকরাও প্রাথমিকভাবে ভাঙন রোধে কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছেন না। হুমকির মুখে এ পর্যটন এলাকাটিকে রক্ষা করতে সরকারের উচিত দ্রুত ব্যবস্থা করা। এ ছাড়া মিনি কক্সবাজার সংলগ্ন নারায়ণপুর, চরকুসুমহাটি গ্রামসহ প্রায় ৬/৭টি গ্রাম পদ্মার গর্ভে চলে যাবে। বাড়বে ভূমিহীন কৃষক ও শ্রমিকের সংখ্যা। আমরা দোহারবাসী মৈনট ঘাট রক্ষায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুদৃষ্টি কামনা করছি।

চর মাহমুদপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান তোফাজ্জল হোসেন মুন্সী বলেন, আমি উপজেলা প্রশাসনকে বিষয়টি জানিয়েছি। মৈনটঘাট এলাকাটিকে রক্ষা করতে সরকারের উচিত দ্রুত ব্যবস্থা করা।

এ বিষয়ে দোহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আফরোজা আক্তার রিবা বলেন, মৈনট ঘাটের ভাঙনের বিষয়টি আমি শুনেছি ও পরিদর্শন করে পানি সম্পদ মন্ত্রী মহোদয়ের দপ্তরে লিখিতভাবে জানিয়েছি।

মৈনট

এই দিকে ভাঙ্গন রোধে অতি দ্রুত সরকার ও স্থানীয় এমপি ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেসরকারি বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানের দ্রুত হস্থক্ষেপ চেয়ে ১ জুন শুক্রবার বিকালে মৈনটে মানববন্ধনের আয়োজন করেছে সে টুগেদার নামে একটি সামাজিক সংগঠন।

অন্য খবর  দোহারে আওয়ামী লীগের আনন্দ মিছিল

Comments

comments