পদ্মায় তীব্র ভাঙনঃ ২ দিনেই নদী গর্ভে ২০টি ঘর-বাড়ি

683

মুন্সীগঞ্জের পদ্মার তীব্র স্রোত ও ঘূর্ণাবর্তের কারণে মুন্সীগঞ্জের লৌহজং ও টংগীবাড়ি উপজেলার নদী তীরবর্তী ২০টি বাড়ি বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙন আতঙ্কে শতাধিক বাড়ি নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। যদিও বর্তমানে নদীর পানি বিপদসীমার নিচে অবস্থান করছে, তবুও নদীর পাড়ের স্কুল, মাদরাসা, মসজিদ, স্থাপনা ভাঙনের আশঙ্কায় রয়েছে।

রবিবার সকাল থেকে নদী তীরবর্তী বাড়িঘর নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার কাজ করছে গ্রামবাসীরা।

জেলার টংগীবাড়ি উপজেলার কামারখাড়া ইউনিয়নের বড়াইল, চৌসার, বাগবাড়ি, জুসিষার গ্রামের ১০টি বাড়ি বিলীন হয়ে গেছে। বড়াইল গ্রামের মসজিদটি গতকাল সন্ধ্যায় ভেঙে নিয়ে গেছে পদ্মার পানি। ৪টি গ্রামের মানুষ ভাঙন আতঙ্কে নিরাপদ স্থানে বাড়িঘর সরিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। ৫ দিন ধরে নদীর পানি বেড়ে গিয়ে গ্রামগুলোতে পানি প্রবেশ করেছে। পরিবার পরজন নিয়ে বিপাকে পড়েছে এসব গ্রামের বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ।

বড়াইল গ্রামের মাসুম মোল্লা জানান, নিজেদের ৫টি বাড়ি নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙন আতঙ্কে নিরাপদ স্থানে এসেছি। বড়াইল গ্রামে ৭ শতাধিক মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে অন্যত্র চলে গেছে। বেশ কিছুদিন ধরেই নদীর পানি বাড়তে শুরু করে। গ্রামে নদীর পানি প্রবেশ করে ধান-ক্ষেতসহ ফসলের জমিতে পানি ঢুকে গেছে। নিম্নাঞ্চল এলাকাগুলোতে পানি প্রবেশ করায় বিপাকে পড়েছে গ্রামের মানুষ।

অন্য খবর  নবাবগঞ্জের বাগমারা মার্কেটে আগুন, ৩ দোকান পুড়ে ছাই

টংগীবাড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শহিদুল হক জানান, সকালে কামারখাড়া ইউপি চেয়ারম্যানের মাধ্যমে নদী তীরবর্তী গ্রামগুলোর বর্তমান অবস্থা জেনেছি। মসজিদসহ ১০টি বাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। জেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের সাথে কথা বলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বলেছি। ভাঙন অব্যহত আছে লৌহজংয়ের গ্রামগুলোতে। বৃহস্পতিবার লৌহজংয়ের পদ্মা তীরবর্তী গাওদিয়া গ্রামের ১০টি ঘর বাড়ি বিলীন হয়ে গেছে। সাড়ে ৩ হাজার মানুষ এই গ্রামে বসবাস করে। নদী তীরবর্তী গ্রামের বেশ কয়েকটি বাড়ি নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

লৌহজং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা  মনির হোসেন জানান, জেলা প্রশাসক ইতিমধ্যে লৌহজং উপজেলার নদী তীরবর্তী গ্রামগুলো পরিদর্শন করেছেন। জেলা প্রশাসন থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বর্ষা মৌসুমে নদীর পানি বেড়ে যায়। বিপদ সীমার নিচে পানি থাকলেও পদ্মা নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় গ্রামগুলোতে পানি ঢুকে গেছে।

গাওদিয়া গ্রামের আসাদ হোসেন জানান, পানি বেড়ে গিয়ে নিম্নাঞ্চলে প্রবেশ করেছে। এছাড়া ফসলি জমিতে পানি প্রবেশ করেছে। ভাঙন আতঙ্ক নিয়ে এই গ্রামের মানুষ অসহায়ভাবে জীবন যাপন করছে। নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে গ্রামের মানুষ আতঙ্কে জীবন যাপন করছে।

অন্য খবর  দোহারে হত্যা মামলার যাবতজীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামী গ্রেপ্তার

Comments

comments