নেশা কীভাবে ধ্বংস করে প্রতিভাকে!

43
আদ্রিয়ানো

আদ্রিয়ানোকে মনে আছে? ব্রাজিলের এই স্ট্রাইকার একসময় ছিলেন বিশ্বসেরাদের কাতারে। জিতেছিলেন গোল্ডেন বুট। সেই আদ্রিয়ানোর পতনের গল্প থেকে শিক্ষা নেওয়ার আছে সবার।

তাঁর নাম শুনলে সুখস্মৃতির চেয়ে দুঃখ বোধই বেশি হবে। যেতে পারতেন অনেক দূর। ছিল অমিত সম্ভাবনা। কিন্তু একটি মৃত্যু পাল্টে দেয় সবকিছু। জীবন হয়ে পড়ে বেসামাল। ফুটবলের সিংহাসন হারিয়ে তিনি হয়ে পড়েন শুধু নামেই ‘সম্রাট’। তিনি আদ্রিয়ানো। ব্রাজিলিয়ান ফুটবলে দীর্ঘশ্বাসের অপর নাম। প্রায় আট বছর জাতীয় দলের বাইরে থাকা ৩৬ বছর বয়সী এই স্ট্রাইকার জানালেন তাঁর আশ্চর্য পতনের নেপথ্য কারণ।

ব্রাজিলের হয়ে কোপা আমেরিকা ও ইন্টার মিলানের হয়ে চারবার সিরি ‘আ’জয়ী আদ্রিয়ানোর মাঠের বাইরের কর্মকাণ্ড বেশি বিতর্ক ছড়িয়েছে। মদ্যপান আর বিশৃঙ্খল জীবনের কারণে খেলার ধারটা আর ধরে রাখতে পারেননি। অথচ ২০০৫ সালের দিকে তিনি ছিলেন বিশ্বের অন্যতম সেরা স্ট্রাইকার। ওই বছর ফিফা কনফেডারেশস কাপে গোল্ডেন বুটও জিতেছিলেন। সেই একই খেলোয়াড় ২০১৬ সালে মায়ামি ইউনাইটেডের মতো অখ্যাত ক্লাবে যোগ দিয়ে মাত্র এক ম্যাচ খেলে ফিরে যান ব্রাজিলে। এরপর থেকে আর পেশাদার ফুটবলে দেখা যায়নি আদ্রিয়ানোকে।

অন্য খবর  দোহারে অনুষ্ঠিত হচ্ছে সরস্বতী পূজা

আদ্রিয়ানো

মাঝে একবার জানা গিয়েছিল, আদ্রিয়ানোর দিন কাটছে ব্রাজিলের ‘ফ্যাভেলা’য় (বস্তি)। সেখানে নাকি হাত মিলিয়েছেন ড্রাগ ব্যবসার জন্য কুখ্যাত অপরাধী সংঘ ‘কমান্ডো ভেরমেলহো’র সঙ্গে! ব্রাজিলের হয়ে ৪৮ ম্যাচে ২৭ গোল করা এই স্ট্রাইকার তাঁর দেশের টিভি অনুষ্ঠান ‘আরসেভেন’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মুখ খুলেছেন নিজের ফেলে আসা জীবন নিয়ে, ‘কতটা ভুগেছি তা শুধু আমি-ই জানি। বাবার মৃত্যুটা ছিল আমার জন্য বিশাল শূন্যতা। খুব একা লাগত। তাঁর মৃত্যুর পর সবকিছু ভেঙে পড়ে। কারণ নিজেকে আমি সবকিছু থেকে আলাদা করে ফেলেছিলাম।’

ইন্টার মিলানে থাকতে (২০০৪-০৯) নিজেকে বিশ্বসেরাদের কাতারে নিয়ে গিয়েছিলেন আদ্রিয়ানো। ইতালিয়ান এই ক্লাবে থাকতেই আদ্রিয়ানো তাঁর বাবাকে হারান। সেই ঘটনা প্রসঙ্গে আদ্রিয়ানোর একসময়কার ইন্টার-সতীর্থ ও আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি হাভিয়ের জানেত্তি একবার বলেছিলেন, ‘ব্রাজিল থেকে ফোনে আদ্রিয়ানোকে জানানো হয়েছিল তার বাবা মারা গেছেন। কিন্তু সে খেলা চালিয়ে যায় এবং গোল করে বাবাকে উৎসর্গ করত। যদিও সেই ফোনের পর আদ্রিয়ানো পাল্টে যায়।’

আদ্রিয়ানো

বাবার মৃত্যুর পর ইতালিতে তখন কেমন কেটেছে আদ্রিয়ানোর? তিনি নিজেই জানালেন সেই দাহকালের কথা, ‘ইতালিতে আমি একা ছিলাম। খুব কষ্ট লাগত। এভাবে মদ ধরলাম। শুধু মদ খেলেই ভালো লাগত। যা কিছু পেয়েছি তাই খেয়েছি। এভাবে একদিন ইন্টার ছাড়তে হয়। তখন কোনো কিছু লুকাতে জানতাম না। প্রতিদিন সকালে মদপান করে অনুশীলনে যেতাম। পুরোপুরি মাতাল থাকলে মেডিকেল স্টাফরা আমাকে ঘুম পাড়ানোর ব্যবস্থা করতেন। এদিকে ইন্টারের পক্ষ থেকে সংবাদমাধ্যমকে বলা হতো মাংসপেশির চোটে ভুগছি।’

অন্য খবর  অস্ট্রেলিয়ার নতুন কোচ ল্যাঙ্গার

পরে অবশ্য নিজের ভুল বুঝতে পেরেছেন আদ্রিয়ানো। কিন্তু তত দিনে অনেক দেরি হয়ে গেছে। ফুটবল মাঠে একসময় ‘সম্রাট’ তকমা পাওয়া স্ট্রাইকারটি তত দিনে পতিত নায়ক। আদ্রিয়ানো অবশ্য তাঁর বেসামাল জীবনযাপনের দায়টা পুরোপুরি নিজের কাঁধে তুলে নেননি, ‘পরে বুঝতে পেরেছি, আমার আশপাশের মানুষজন ও বন্ধুরা পরিণতি না ভেবেই আমাকে নানা পার্টি, নারী আর মদের সংস্পর্শে নিয়ে গিয়েছিল—এটাই ছিল মূল সমস্যা।’

Comments

comments