নির্বাচনকে সামনে রেখে ‘সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম পর্যবেক্ষণ’ প্রকল্পের অনুমোদন|

15

নির্বাচনকে সামনে রেখে ‘সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম পর্যবেক্ষণ’ নামে একটি প্রকল্পের অনুমোদন দিয়েছে সরকার। জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) রবিবারের (৪ নভেম্বর) বৈঠকে এ প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়। ১২৫ কোটি ৩৯ লাখ টাকা ব্যয়ে এ প্রকল্পের বাস্তবায়ন করবে সরকার। পুলিশ সদর দফতরের অধীনে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) এই প্রকল্পের মনিটরিং কার্যক্রম চালাবে। এছাড়া,একই বৈঠকে মোট সাতটি প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

তবে পুলিশ সদর দফতরের সূত্রের দাবি,এসব প্রকল্প নির্বাচনকে উপলক্ষ করে নয়, জরুরি ও সময়ের প্রয়োজনেই প্রকল্পগুলো অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটিতে (একনেক) পাস হওয়া প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নের জন্য যে সময় দেওয়া হয়েছে, সেই সময়ের মধ্যেই তা বাস্তবায়ন করা হবে।

পুলিশ সদর দফতরের সংশ্লিষ্ট সূত্র আরও জানায়,সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচার শুধু নির্বাচনকে সামনে রেখেই হয় না, সব সময়েই হয়ে থাকে। অতীতের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে সবাই জানে। প্রকল্পের আওতায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও অনলাইনে আপত্তিকর, ক্ষতিকর, বেআইনি পোস্ট ফিল্টার ও ব্লক করার জন্য কাজ করবে পুলিশ ও র‌্যাব।

‘সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম পর্যবেক্ষণ’ প্রকল্পটি নভেম্বর (২০১৮) থেকে ২০১৯ সালের এপ্রিলের মধ্যেই বাস্তবায়ন করা হবে। এ প্রকল্পের আওতায় কাজগুলো করবে র‌্যাব। রাষ্ট্রবিরোধী বিভিন্ন ধরনের অপপ্রচার, গুজব, মিথ্যা তথ্য দিয়ে উস্কানিমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনার মাধ্যমে জনগণকে যারা বিভ্রান্ত করার অপপ্রয়াসে লিপ্ত রয়েছে,মনিটরিংয়ের মাধ্যমে তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় নিয়ে আসাই হচ্ছে এ প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য।

এছাড়া,বিভিন্ন রকম গুজব, বিদ্বেষ ও বিভ্রান্তিমূলক পোস্ট মনিটরিং করার মাধ্যমে তাৎক্ষণিক সত্য ঘটনা জনগণের সামনে তুলে ধরে বিভ্রান্তি দূর করা এবং যেসব পেজ ও আইডি থেকে বিভ্রান্তিমূলক অপপ্রচার চালানো হয়,সেগুলোর ব্যাপারে রিপোর্ট করা ও সেগুলো বন্ধের ব্যবস্থ করা এ প্রকল্পের উদ্দেশ্য। গুজব ও মিথ্যা তথ্য প্রচারণার মাধ্যমে দেশের জনগণকে বিভ্রান্ত করার পাশাপাশি বিদেশেও দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করা হচ্ছে, যার ফলে উন্নয়ন সহযোগী রাষ্ট্র, বিদেশি প্রতিষ্ঠান এবং বিদেশি জনগণের মাঝে দেশ সম্পর্কে যে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে, তা প্রতিহত করা হবে। সচেতনতার মাধ্যমে সঠিক জনমত তৈরি ও সাধারণ জনগণকে বিভ্রান্তি থেকে বাঁচাতে সরকারের ইতিবাচক দিকগুলো বিভিন্ন মাধ্যমে তুলে ধরা হবে। বিভিন্ন রকম গুজব, বিদ্বেষ ও বিভ্রান্তিমূলক অপপ্রচার প্রতিহত করে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশের ক্ষেত্র তৈরিতে সাহায্য করাই এ প্রকল্পের মূল লক্ষ্য।

অন্য খবর  সমৃদ্ধির জন্য সশস্ত্র বাহিনীকে জনগণের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

র‌্যাবের জনসংযোগ শাখার পরিচালক কমান্ডার মুফতি মাহমুদ খান বলেন,,‘সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম পর্যবেক্ষণ কেবল নির্বাচনকে সামনে রেখেই হবে না। সবসময়ের জন্যেই এ প্রকল্পের অনুমোদন দিয়েছে সরকার। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানা রকম বিভ্রান্তি অতীতেও ছড়ানো হয়েছে। ভবিষ্যতেও করবে, তারা বসে থাকবে না। প্রকল্পগুলো কী কারণে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, সেসব বিষয়েও প্রস্তাবে বিস্তারিত বলা হয়েছে।’

সন্ত্রাস দমন ও আন্তর্জাতিক অপরাধ প্রতিরোধ কেন্দ্রের জন্য অবকাঠামো ও অন্যান্য সুবিধা তৈরির মাধ্যমে সন্ত্রাসবাদ ও জঙ্গিবাদ দমন কার্যক্রমকে ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে ‘পুলিশের সন্ত্রাস দমন ও আন্তর্জাতিক অপরাধ প্রতিরোধ কেন্দ্র নির্মাণ’ নামে একই বৈঠকে আরেকটি প্রকল্পের অনুমোদন দিয়েছে সরকার। ৩৫৪ কোটি ১৬ লাখ টাকা ব্যয়ে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে ২০২২ সালের জুনের মধ্যে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে গণপূর্ত অধিদফতর। পুলিশের সক্ষমতা বাড়াতে নেওয়া হয়েছে ৬৪৯ কোটি ৮৮ লাখ টাকার অন্য একটি প্রকল্প। বিভিন্ন প্রকার যানবাহন ও যন্ত্রপাতি ক্রয়ের মাধ্যমে ২০২০ সালের মধ্যে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। ‘সেবার মান বাড়ানো ও রেসপন্স টাইম’ দ্রুত করা এবং জঙ্গি ও অন্যান্য সন্ত্রাসী কার্যক্রমের বিরুদ্ধে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিতেই এ প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। হাইওয়ে পুলিশের সক্ষমতা বাড়াতে ২৪৪ কোটি ২১ লাখ টাকা ব্যয়ে আরেকটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে সরকার। ২০২১ সালের জুনের মধ্যে মাদারীপুর, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, সিলেট, যশোর, রংপুর ও বগুড়া জেলায় এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে সরকার।

অন্য খবর  ষোড়শ সংশোধনী বাতিল হওয়ায় বিএনপির খুশি হওয়ার কিছু নেই: ওবায়দুল কাদের

ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকায় পুলিশ সদস্যদের জন্য নয়টি আবাসিক টাওয়ার ভবন নির্মাণের জন্য একটি প্রকল্পেরও অনুমোদন দেওয়া হয়। ৯৭৫ কোটি ৫৬ লাখ টাকা ব্যয়ে ঢাকা মহানগরী এলাকায় এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। এ প্রকল্পটি নভেম্বর (২০১৮) থেকে ২০২১ সালের জুনের মধ্যে গণপূর্ত অধিদফতর বাস্তবায়ন করবে। গুলশান এলাকায় আরও ১১৮ কোটি ৬৭ লাখ টাকা ব্যয়ে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জন্যে আবাসিক ভবন নির্মাণ করার জন্য একটি প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ২০২০ সালের মধ্যে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে গণপূর্ত অধিদফতর।

পুলিশ সদর দফতরের জনসংযোগ শাখার এআইজি সোহেল রানা বলেন, ‘নির্বাচনকে সামনে রেখে নয়, জরুরি প্রয়োজনেই এসব প্রকল্পের অনুমোদন দিয়েছে সরকার। প্রকল্পের প্রস্তাবের মধ্যেও লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য লেখা রয়েছে।

Comments

comments