প্রশাসন কি অসহায়? নারিশায় যাত্রা চলছেই: হতে পারে গণ বিস্ফোরন

47
নারিশায় যাত্রা চলছেই: যেকোন সময় হতে পারে গন বিস্ফোরন

৫ জানুয়ারি, হাড়কাপানো শীত উপেক্ষা করে নারিশার চরে যাত্রার নামে চলা অশ্লীল নৃত্য বন্ধ করার জন্য অভিযান চালান দোহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কে এম আল আমিন। এই সময় তার সাথে ছিলেন দোহার থানা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ সিরাজুল ইসলাম, নারিশা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সালাউদ্দিন দ্বরানি। তারা উপস্থিত থেকে বন্ধ করেন যাত্রার নামে অশ্লীল নৃত্য। কিন্তু দুই দিন যেতে না যেতেই আবার শুরু হয়েছে যাত্রা।

গত শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দোহার থানা পুলিশ ও নারিশা ইউপি চেয়ারম্যান সালাহউদ্দিন দরানীকে সাথে নিয়ে পদ্মা নদী পার হয়ে অতর্কিতভাবে নারিশা জোয়ারের যাত্রামঞ্চে উপস্থিত হন। ওই সময় যাত্রামঞ্চে এক তরুনী অশ্লীল নৃত্য প্রদর্শণ করছিলেন। আর তরুন-যুককরা দর্শক হিসেবে ৫০০ ও ৩০০ টাকার টিকিট কেটে তা দেখছিলেন। এসময় ইউএনও’র উপস্থিতি টের পেয়ে গা’ঢাকা দেয়ার চেষ্টা করেন যাত্রার আয়োজক মেঘুলা ৪নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল কালাম হাওলাদার। তবে একপর্যায়ে তাকে ডেকে আনা হয় ঘটনাস্থলে।

এসময় ইউএনও যাত্রার অনুমতি নিয়ে মেয়েদের অশ্লীল নৃত্য প্রদর্শণের বিষয়ে আবুল কালাম হাওলাদের কাছে জানতে চাইলে তিনি কোন সদুত্তর দিতে পারেননি। তখন ইউএনও আয়োজক আবুলকে বলেন, আপনি সামাজিক যাত্রা আয়োজনের অনুমতি নিয়ে অশ্লীলতা ও অসামাজিক কার্যকলাপ পরিচালনা করে শর্ত ভঙ্গ করেছেন। কাজেই আপনি নিজে মাইকে ঘোষণা দিয়ে এ মূহুর্তে এ আয়োজন বন্ধ করবেন। নচেৎ আমি কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বাধ্য হব। ইউএনওর কথা শুনে তাৎক্ষনিকভাবে আবুল কালাম হাওলাদার মাইকে ঘোষণা দিয়ে যাত্রা ও আনন্দমেলার আয়োজন বন্ধ ঘোষানা করেন। একইসাথে অঙ্গীকার করেন তিনি আর এমন কার্যকলাপের সাথে কোনদিন থাকবেন না। অভিযান চলাকালে আতঙ্কে গা ঢাকা দিতে শুরু করেন অনেকেই। এসময় ঢাকা সহ বিভিন্ন স্থান থেকে অশ্লীল নৃত্য প্রদর্শন করতে আসা ৭/৮ জন তরুনীও কৌশলে গা’ঢাকা দেন। এমন অভিযান ও যাত্রার নামে নোংরামি বন্ধ হওয়ার কথা শুনে স্বস্তি প্রকাশ করেছিল এলাকাবাসী। কিন্তু দুই দিন যেতেই সেই স্বস্তি পরিনত আতঙ্কে।

অন্য খবর  দোহারে ওলামা লীগের মতবিনিময় সভা

যাত্রার নামে অশ্লীল এ আয়োজনের সাথে প্রত্যক্ষভাবে সম্পৃক্ত মেঘুলা ৪নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল কালাম হাওলাদার। যাত্রা বন্ধে করার নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও কেন আবার যাত্রা শুরু হয়েছে এই ব্যাপারে প্রশ্ন করতে আবুল কালাম হাওলাদারকে নিউজ৩৯ থেকে ফোন করা হয়। এই সময় তিনি নিউজ৩৯ এর কথা শুনে ফোন বন্ধ করে রাখেন আবুল কালাম হাওলাদার।

দোহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কে এম আল-আমিন বলেন, সুস্থ সংস্কৃতির ধারক ও বাহক যাত্রাপালা। সামাজিক যাত্রা আয়োজনের অঙ্গীকার করে শর্ত সাপেক্ষে ঢাকা জেলা প্রশাসক অফিস থেকে অনুমতি নিয়েছিল আবুল কালাম হাওলাদার। তিনি একতা সমিতির ব্যানারে এ আয়োজন করে তা থেকে আদায়কৃত অর্থ নদী ভাঙন কবলিত মানুষকে দেওয়ার কথাও আবেদনে লিখেছিলেন। কিন্তু কালাম হাওলাদার শর্ত ভঙ্গ করে যাত্রার নামে পদ্মার চরে তরুনীদের দিয়ে অশ্লীল নৃত্য প্রদর্শণ করিয়ে সে শর্ত ভঙ্গ করেছেন। শুক্রবার রাতে অভিযান চলাকালে অশ্লীলতার প্রমান পেয়ে তা বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এরপরেও যদি এমন কর্মকান্ড চলতে থাকে তাহলে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

দোহার উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক আলী আহসান খোকন বলেন, আমরা যাত্রার নামে এমন অসামাজিক ও নোংরামি কর্মকান্ডের প্রতিবাদ জানাই।

অন্য খবর  দোহারে ঢাকা জেলা পুলিশ সুপারের মত বিনিময় সভা

Comments

comments