নারিশার পদ্মার চরে যাত্রার নামে অশ্লীলতা বন্ধে গভীর রাতে ইউএনও’র অভিযান

199
নারিশায় যাত্রা চলছেই: যেকোন সময় হতে পারে গন বিস্ফোরন
বিজ্ঞাপন

অবশেষে দোহারের নারিশায় যাত্রার নামে অশ্লীল নৃত্যর বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়েছে দোহার উপজেলা প্রশাসন।   শুক্রবার গভীর রাতে সেখানে অভিযান চালিয়েছে দোহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কে এম আল-আমিন। অশ্লীলতার প্রমান পেয়ে এসময় তিনি যাত্রা নামে চলতে থাকা অশ্লীল নৃত্য বন্ধ করে দেন।

গত কয়েকদিন ধরেই নারিশা ইউনিয়নসহ সারা দোহারেই এই অশ্লীল যাত্রা নিয়ে তুমুল আলোচনা ও সমালোচনা হচ্ছে। সামাজিক যোগযোগ মাধ্যমে এই অশ্লীল যাত্রার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য বারবার দাবি জানায় বিভিন্ন মানুষ। এর পরিপ্রেক্ষিতে  শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দোহার থানা পুলিশ ও নারিশা ইউপি চেয়াম্যানকে সাথে নিয়ে নদী পার হয়ে অতর্কিতভাবে নারিশা জোয়ারের যাত্রামঞ্চে উপস্থিত হন। ওই সময় যাত্রামঞ্চে এক তরুনী অশ্লীল নৃত্য প্রদর্শণ করছিলেন। আর তরুন-যুককরা দর্শক হিসেবে ৫০০ ও ৩০০ টাকার টিকিট কেটে তা দেখছিলেন। এসময় ইউএনও’র উপস্থিতি টের পেয়ে গা’ঢাকা দেয়ার চেষ্টা করেন যাত্রার আয়োজক মেঘুলা ৪নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল কালাম হাওলাদার। তবে একপর্যায়ে কৌশলে তাকে ডেকে আনা হয় ঘটনাস্থলে।

এসময় দোহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কে এম আল-আমিন বলেন, সুস্থ সংস্কৃতির ধারক ও বাহক যাত্রাপালা। সামাজিক যাত্রা আয়োজনের অঙ্গীকার করে শর্ত সাপেক্ষে ঢাকা জেলা প্রশাসক অফিস থেকে অনুমতি নিয়েছিল আবুল কালাম হাওলাদার। তিনি একতা সমিতির ব্যানারে এ আয়োজন করে তা থেকে আদায়কৃত অর্থ নদী ভাঙন কবলিত মানুষকে দেওয়ার কথাও আবেদনে লিখেছিলেন। কিন্তু কালাম হাওলাদার শর্ত ভঙ্গ করে যাত্রার নামে পদ্মার চরে তরুনীদের দিয়ে অশ্লীল নৃত্য প্রদর্শণ করিয়ে সে শর্ত ভঙ্গ করেছেন। শুক্রবার রাতে অভিযান চলাকালে অশ্লীলতার প্রমান পেয়ে তা বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এরপরেও যদি এমন কর্মকান্ড চলতে থাকে তাহলে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

অন্য খবর  রূপগঞ্জ থেকে ছিনতাই হওয়া মিনিবাস মৈনটে উদ্ধার

এসময় ইউএনও যাত্রার অনুমতি নিয়ে মেয়েদের অশ্লীল নৃত্য প্রদর্শণের বিষয়ে আবুল কালাম হাওলাদের কাছে জানতে চাইলে তিনি কোন সদুত্তর দিতে পারেননি।

তখন ইউএনও আয়োজক আবুলকে বলেন, আপনি সামাজিক যাত্রা আয়োজনের অনুমতি নিয়ে অশ্লীলতা ও অসামাজিক কার্যকলাপ পরিচালনা করে শর্ত ভঙ্গ করেছেন। কাজেই আপনি নিজে মাইকে ঘোষণা দিয়ে এ মূহুর্তে এ আয়োজন বন্ধ করবেন। নচেৎ আমি কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বাধ্য হব। ইউএনওর কথা শুনে তাৎক্ষনিকভাবে আবুল কালাম হাওলাদার মাইকে ঘোষণা দিয়ে যাত্রা ও আনন্দমেলার আয়োজন বন্ধ ঘোষানা করেন। একইসাথে অঙ্গীকার করেন তিনি আর এমন কার্যকলাপের সাথে কোনদিন থাকবেন না।

অভিযানের সময় ইউএনও’র সাথে ছিলেন দোহার থানার ওসি (তদন্ত) ইয়াছিন মোল্লা, নারিশা ইউপি চেয়ারম্যান সালাহউদ্দিন দ্বরানী।

Comments

comments