নবাবগঞ্জে শীতকালীন পিঠা উৎসব

289

পিঠা মানেই বাঙালির ঘরে ঘরে আনন্দে ভরা উৎসব। আদিকাল থেকেই বাংলায় হেমন্ত ঋতুতে কৃষকের ঘরে নতুন ফসল উঠলে আয়োজন করা হত পিঠা উৎসব। এই ধারাবাহিকতা চলত শীতকাল পর্যন্ত। এই পিঠা বাংলাদেশের সংষ্কৃতি আর ঐতিহ্যের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। বাংলাদেশের যে কোন উৎসবে আনন্দে মিশে আছে রকমারি পিঠা।

সারা বছরই নানা উৎসবে পিঠা-পুলি খাই আমরা। পহেলা বৈশাখে নকশী পিঠা, গ্রীষ্মেকালে তালের পিঠা। তবে শীতের সাথেই পিঠার সম্পর্ক নিবির। খেজুরের রস শীতের পিঠা খাওয়ার মজা আরো বাড়িয়ে দেয়।

এখন হয়ত বৈশাখ ছাড়া তেমন ভাবে পিঠা-পুলি আয়োজন হয়না বললেই চলে। নতুন প্রজন্ম হয়ত সবধরনের পিঠা-পলির সাথে পরিচয়ও হয়নি এখনও। তাই নতুন প্রজন্মের সাথে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার জন্য ঢাকার নবাবগঞ্জে পিঠা উৎসবের আয়োজন কারা হয়। দোহার-নবাবগঞ্জের উপজেলার মাঝিরকান্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা শারমিন রহমানের উদ্যোগে বিদ্যালয় মাঠে পিঠা উৎসব মেলা অনুষ্ঠিত হয়। এই মেলায় মোট ১১ টি দোকান বসে। স্থানীয় যুবক-যুবতিরাই এই মেলায় অংশগ্রহন করে।

এই মেলায় ছিলো বিভিন্ন পিঠা-পুলির সমাহার। প্রায় ৫০ পদের পিঠা উঠে এই পিঠা উৎসব মেলায়। পাটি সাপটা পিঠা, নকশি পিঠা, আলু ডোবা পিঠা, সুজির বড়া পিঠা, বাড় পিঠা, কচমচ পিঠা, মুখশলা পিঠা, কাটা পিঠা, শেউলা পিঠা, চিড়ুনী পিঠা, মালপোয়া পিঠা,পয়াশা পিঠা, ভাপা পিঠা, চালতা ফুল পিঠা, বিবি খানা পিঠা, কুলি পিঠা, সাবান পিঠা, কাষ্টার্ড পিঠর, ছেই পিঠা, ফালুদা পিঠা  ইত্যাদি রকমারি পিঠায় সজ্জিত ছিলো সবগুলো দোকান।

অন্য খবর  জাটকা ধরার অপরাধে চারজন আটক

এছাড়াও পিঠার সাথে ধনিয়া পাতার ভর্তা, চেঁপার ভর্তা, সরিষার ভর্তা, কালোজিরার ভর্তাসহ মোট ১৫ প্রকার ভর্তার আয়োজন ছিলো মেলায় ।

এই মেলায়  প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন জনাব শাকিল আহমেদ, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, নবাবগঞ্জ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেসমিন আহমেদ, উপজেলা শিক্ষা অফিসার, নবাবগঞ্জ, মো:মোস্তফা কামাল অফিসার ইচার্জ, নবাবগঞ্জ ঢাকা।

এই অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন মাঝিরকান্দা সরকারি বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সহ-সভাপতি মো: নাসির উদ্দিন। বিদ্যালয়টির উন্নয়নের জন্য বিভিন্ন প্রতিশ্রুত দেন অতিথিগন। এছাড়া তারা  মাদক মুক্ত দোহার-নবাবগঞ্জ গড়ার অঙ্গিকার করে। আগত অতিথিরা  বাল্য বিবাহ প্রতিরোধ মূলক পরামর্শ দেন তাদের বক্তবে। এরপর  প্রতিটি দোকান ঘুরে দেখেন তারা। এরপর শুরু হয় সাংকৃতিক অনুষ্ঠান। যেখানে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অংশ গ্রহণ করে।

মেলা দেখতে আসে সব বয়সী নারী ও পুরুষ। জয়গা স্বল্পতা ও সময়ের কারণে এই বার ছোট্ট পরিসরে হলেও পরেরবার বড় করে পিঠা উৎসব মেলা আয়োজনের কথা জানান মেলার উদ্যোক্তা ও আয়োজকরা।

Comments

comments