নবাবগঞ্জে জোড়া খুন; অংশ নেয় ১১ ডাকাত

3704
নবাবগঞ্জে জোড়া খুন; অংশ নেয় ১১ ডাকাত

সংঘবদ্ধ ডাকাত দলের সদস্যরাই নবাবগঞ্জের জোড়া খুনের ঘটনা ঘটিয়েছে। ঢাকার আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করে ডাকাত দলের অন্যতম সাইফুলসহ তিনজন জবানবন্দি দিয়েছেন। এই জোড়া খুনে গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আছেন ডাকাত দলের সাতজন সদস্য। দুজন ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয়েছেন। প্রত্যেক আসামির নামে ১০ থেকে ১১টি করে মামলা আছে।

নবাবগঞ্জ থানা-পুলিশ ঢাকার আদালতকে এক প্রতিবেদন দিয়ে বলেছে, নবাবগঞ্জের এই জোড়া খুনে জড়িত আসামিরা সংঘবদ্ধ ডাকাত দলের সদস্য। আসামিরা ঢাকা জেলার কেরানীগঞ্জ, দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ, নবাবগঞ্জ, দোহার, সাভার, আশুলিয়া, মাদারীপুর ও মুন্সিগঞ্জে খুন, ডাকাতি, ছিনতাই করে আসছিল।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা নবাবগঞ্জ থানার পরিদর্শক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম মঙ্গলবার প্রথম আলোকে বলেন, সংঘবদ্ধ ডাকাত দলের ১০ থেকে ১১ জন সদস্য নবাবগঞ্জের শেখ কালাম ও জাহিদকে হত্যা করে। ইতিমধ্যে তিনজন আসামি জোড়া খুনে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। আসামিরা সবাই পেশাদার অপরাধী। প্রত্যেক আসামির বিরুদ্ধে ১০ থেকে ১১টি মামলা আছে।

গত ২৩ মে রাত ১১টার দিকে ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার ঢাকা-বান্দুরা আঞ্চলিক মহাসড়কের ডাঙ্গারচর নামক জায়গায় দুর্বৃত্তদের হামলায় শেখ কালাম (৫২) ও জাহিদ খান (৪৪) নিহত হন। দুজনের বাড়ি নবাবগঞ্জের গালিমপুর গ্রামে। এ ঘটনায় নিহত শেখ কালামের ছেলে আবদুর রাজ্জাক বাদী হয়ে নবাবগঞ্জ থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে খুনের মামলা করেন।

মামলার এজাহার এবং পুলিশের তথ্য বলছে, ঘটনার দিন রাত ৯টার দিকে জাহিদ মোটরসাইকেলে করে কালামকে নিয়ে দেওতলা এলাকায় পীর নুরুল ইসলাম মোল্লার বাসায় যান। পীরের বাড়িতে কাজ শেষে রাত ১১টার সময় মোটরসাইকেলে করে বাড়ির উদ্দেশে কালাম ও জাহিদ রওনা হন। বান্দুরা ও মাঝিরকান্দা এলাকার ডাঙ্গারচর নামক স্থানের রাস্তায় কলাগাছ পড়ে থাকতে দেখেন তাঁরা। এ সময় জাহিদ মোটরসাইকেলের গতি কমিয়ে দেন। তাঁরা রাস্তায় তিন ব্যক্তিকে দেখতে পান। দুর্বৃত্তরা ধারালো চাপাতি দিয়ে হত্যা করার জন্য গলায় কোপ মারে। এতে কালামের কণ্ঠনালি মারাত্মক জখম হয়। জাহিদকে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে জখম করে। বাঁচার জন্য কালাম দৌড় দিয়ে কিছুদূর আসার পর রাস্তায় পড়ে যান। সুযোগ বুঝে জাহিদ তাঁর স্ত্রীকে এই হামলার কথা জানান। এই সংবাদ পেয়ে পীর নুরুল ইসলাম মোল্লার ভাই খোকন দ্রুত ঘটনাস্থলে আসেন। গুরুতর জখম কালামকে নবাবগঞ্জ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। আর ঢাকার সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে নেওয়ার পথে জাহিদ মারা যান।

অন্য খবর  যন্ত্রাইলে শান্তিপূর্ণ ভাবে উপ- নির্বাচন সম্পূর্ণ; নতুন মেম্বার নাসির মোল্লা

ওরা ১১ ডাকাতঃ শেখ কালাম কৃষিকাজ করে সংসার চালাতেন। জাহিদের ইট-বালুর ব্যবসা ছিল। দুজনেই বাস করতেন নবাবগঞ্জের গালিমপুর গ্রামে।

কালামের ছেলে ও মামলার বাদী আবদুর রাজ্জাক বলেন, তাঁর বাবার ঘনিষ্ঠ বন্ধু হলেন জাহিদ। প্রতি সপ্তাহে তাঁর বাবাকে সঙ্গে নিয়ে জাহিদ পীর নুরুল ইসলাম মোল্লার বাড়িতে যেতেন।

তদন্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, পীরের বাড়িতে কাজ শেষে কালাম ও জাহিদ মোটরসাইকেলে করে বাড়ি ফিরছিলেন। দুজনের কাছে টাকাও ছিল। মোটরসাইকেল এবং টাকা কেড়ে নেওয়াই ছিল ডাকাতদের উদ্দেশ্য। ডাকাতেরা জাহিদদের মোটরসাইকেলের গতিরোধ করার পর একপর্যায়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কালামকে আঘাত করে। এই খুনে জড়িত ডাকাত দলের ১১ সদস্য।

আদালতকে পুলিশ প্রতিবেদন দিয়ে বলেছে, ডাকাত দলের সদস্য শেখ নাসির, নুর ইসলাম মোল্লা এবং তাঁদের সহযোগীরা কালামকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করে।

নবাবগঞ্জ থানার পরিদর্শক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, ডাকাত দলের প্রধান সাইফুল ইসলাম শেখ। সম্প্রতি নবাবগঞ্জে সংঘবদ্ধ ডাকাত দলের এই সদস্যরা আরও কয়েকটি ডাকাতির ঘটনায় জড়িত। নবাবগঞ্জের জোড়া খুনের পর তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা নিয়ে ডাকাত দলের এই সদস্যদের খুঁজে বের করা হয়।

অন্য খবর  নবাবগঞ্জে কৃষক মাঠ দিবস পালিত

ডাকাত দলের সদস্যদের ব্যাপারে সাইফুল ইসলাম বলেন, নবাবগঞ্জ, কেরানীগঞ্জ, সাভার, আশুলিয়ায় একাধিক ডাকাতির ঘটনা ঘটিয়েছে তারা। পূর্বপরিকল্পিতভাবে তারা ডাকাতির ঘটনা ঘটিয়ে আসছিল। প্রত্যেকের নামে কেরানীগঞ্জ, নবাবগঞ্জ, আশুলিয়া, সাভার, মাদারীপুরের থানায় দশ থেকে বারোটি করে মামলা রয়েছে। প্রত্যেকে পেশাদার অপরাধী।

গ্রেপ্তার ৭ জনঃ পুলিশ বলছে, ডাকাত দলের প্রধান হলেন সাইফুল ইসলাম (৪০)। তাঁর বাবার নাম করম আলী শেখ (মৃত)। গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার বাহারা গ্রামের বাসিন্দা তিনি। থাকতেন কেরানীগঞ্জের কালিন্দী ঈদগাহ বড় মসজিদ এলাকায়।

শেখ নাসির (৩৫)। তাঁর বাবার নাম মোস্তফা শেখ। তিনি গোপালগঞ্জের গঙ্গারামপুর গ্রামের বাসিন্দা।

নুর ইসলাম ওরফে নুর ইসলাম মোল্লার (৩৪) বাবার নাম মান্নান মোল্লা। তিনিও গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরের গঙ্গারামপুর গ্রামের বাসিন্দা।

বাবুল গাজীর (৫০) বাড়ি মুন্সিগঞ্জের লৌহজং উপজেলার কনকসার গ্রামে।

শেখ হাবিবুর রহমান (৬০) ফরিদপুরের ভাঙ্গা থানার হরফদিয়া গ্রামের বাসিন্দা।

আনোয়ার হোসেন বাবু (৩২)। তাঁর বাবার নাম অনাথ শেখ। তিনি পাবনার বেড়া উপজেলার মাসচিয়া গ্রামের বাসিন্দা।

সুমন শেখ (৩১)। তাঁর বাবার নাম আইয়ুব শেখ। তিনি ফরিদপুরের বোয়ালমারী তেলজুড়ি গ্রামের বাসিন্দা।

পুলিশ কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, নবাবগঞ্জের জোড়া খুনে জড়িত ডাকাত দলের সদস্য রিপন মোল্লা এবং মোটা বাবুল বন্দুকযুদ্ধে সম্প্রতি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় জড়িত বাকিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

Comments

comments