নবাবগঞ্জে ইটভাটার ধোঁয়ায় নষ্ট হচ্ছে ফসল ও পরিবেশ

258

ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলায় জনবসতিপূর্ণ এলাকা ও কৃষি জমির পাশেই গড়ে উঠেছে অধিকাংশ ইটেরভাটা। সরকারী নিয়ম না মেনে এসব ব্রিক ইন্ডাস্ট্রিজের মালিকরা বীরদর্পে ইট উৎপাদন করে চলেছে বছরের পর বছর।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, উপজেলা পর্যায়ে প্রাকৃতিক পরিবেশ ও বন সংরক্ষণ আইনের সঠিক বাস্থবায়ন না হওয়া ও সরকার কর্তৃক ঘোষিত উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে গঠিত মনিটরিং কমিটির  কায্রক্রম না থাকায়  যেখানে সেখানেই ইটভাটা গড়ে উঠছে। যার ফলে এই অঞ্চলে প্রাকৃতিক পরিবেশ বিনষ্টসহ কৃষি ফসল, ফলজ ও বনজ বৃক্ষের উৎপাদন শক্তি কমতে শুরু করেছে বলে জানান কৃষি সংশ্লিষ্ঠ জনসাধারণ। সরেজমিনে দেখা গেছে, আইনে লাইসেন্স ছাড়া ইট তৈরি নিষেধ থাকলেও, সরকারি নীতিমালা লঙ্ঘন করে উপজেলার অধিকাংশ ইটভাটায় ইট তৈরি হচ্ছে। ছোট ও টিনের চিমনী থেকে বের হওয়া ধোঁয়ায়  ধান, পাট ও বিভিন্ন কৃষি  ফসলের উৎপাদন কমতে শুরু করেছে। আইনে আছে, যথাযথ কতৃপক্ষের অনুমোদন ব্যতীত কৃষি জমি, পুকুর, খালের মাটি দিয়েও ইট তৈরী করা যাবে না। কিন্তু রাতের আধারে প্রশাসনের সামনে দিয়ে প্রতিদিন ট্রাক ও  মাহেদ্র গাড়িতে মাটি যাচ্ছে উপজেলার বিভিন্ন ইট ভাটায়।

অন্য খবর  রাষ্ট্রপতির ঘোষনায় সরকারি হলো নবাবগঞ্জ পাইলট স্কুল এন্ড কলেজ   

এতে করে কাঁচা মাটির সড়ক ও পাকা সড়কের ব্যাপক ক্ষতি হতে চলেছে। ই্টভাটার বৃদ্ধির কারনে  খাদ্য উৎপাদনে  পিছিয়ে পড়ছে দোহার ও নবাবগঞ্জ অঞ্চল। মুঠোফোনে জানান, সেচ্ছাসেবী সংগঠন (প্রাকৃতিক পরিবেশ সুরক্ষা আন্দোলনের) কর্মী এস, হোসেন রানা বলেন, নবাবগঞ্জে   ইটভাটা বৃদ্ধির ফলে জনগণের  স্বাস্থ্য ঝুঁকি বৃদ্ধিসহ  পরিবেশের ভারসাম্য প্রত্যাহ বিনষ্ট হচ্ছে। এতে থেকে মুক্তির পথ জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও অনুমোদনবিহীন ইটভাটা বন্ধে প্রশাসনের ব্যবস্থা গ্রহন যার কোন বিকল্প নেই।

তিনি আরো জানান,বর্তমান মৌসুমে উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে চলছে পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ও যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়াই  বিভিন্ন নামের ইটেরভাটা। যারা স্থানীয় প্রভাবশালীদের সাথে যোগসাজসে চালিয়ে যাচ্ছেন তাদের ইট বিক্রির রমরমা বানিজ্য। যা দেখেও না দেখার ভান করছে স্থানীয় জনপ্রশাসনের কর্তা ব্যাক্তিরা। উপজেলা প্রশাসনের তথ্য অনুসারে  প্রায় ১৪ টি ইটাভাটা রয়েছে নবাবগঞ্জ উপজেলায়। কিন্তু সরেজমিনে অধিক ইটভাটার সন্ধান পাওয়া গেছে। যাদের অনেকের প্রাথমিক কোন অনুমোদন নেই। নেই কোন সঠিক মাপের চিমনী।  টিনের চিমনি ব্যাবহার করে ইট তৈরি করছেন তারা।

এ বিষয়ে ঢাকা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে কর্মরত অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কাজী নাহিদ রসুল বলেন, সরকারি আইন অমান্য করে ইটভাটা নির্মান ও ইট তৈরী করা অবশ্যই অপরাধ। বিষয়টি পরিবেশ অধিদপ্তর ও আমরা দ্রুত দেখবো। স্থানীয় প্রশাসকে ব্যবস্থা নিতে বলা হবে।

অন্য খবর  মুজিবনগর দিবস উপলক্ষে দোহারে আওয়ামী লীগের র‍্যালী

Comments

comments