নতুন সড়ক পরিবহন আইন চালু

22

আজ ১ নভেম্বর (শুক্রবার) থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে সড়ক পরিবহন আইন। এক বছর আগে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের কারণে গতি বাড়িয়ে আইনটি পাসের পর নানা দিক বিশ্লেষণের কারণে আইনটি বাস্তবায়নে সময় নিয়েছে সরকার। এ আইন কার্যকরে প্রথমদিন থেকেই তৎপর থাকবে ট্রাফিক পুলিশ। তবে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনে মামলা ও জরিমানাসহ কিছু বিষয় কার্যকর করতে আরও কয়েকদিন সময় লাগবে। এসব করার জন্য সফটওয়্যার হালনাগাদ করাসহ কিছু কাজ বাকি রয়েছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। এছাড়াও সড়ক পরিবহন আইনের মামলার ক্ষেত্রে জনগণের স্বার্থে ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ জরিমানা কিছুটা কমিয়ে নির্ধারণ করেছে বলেও জানিয়েছে একটি সূত্র।

পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ সূত্রে জানা যায়, সড়ক আইন কার্যকরে এরইমধ্যে দেশের সব ট্রাফিক ইউনিটগুলোতে এবং সার্জেন্টদের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে। বিশেষ করে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের মামলা পস মেশিনে করা হয়। সেই মেশিনটিতে জরিমানার টাকাসহ আরও কিছু বিষয় নির্ধারিত থাকে। সেই বিষয়গুলো এখনও আপডেট করা হয়নি। সেগুলো আপডেট করে তারপর ট্রাফিক পুলিশ নতুন আইনে জরিমানা করবে। এটি না হওয়া পর্যন্ত আগের নিয়মেই সব চলবে।

আইন অনুযায়ী সর্বোচ্চ যে জরিমানা ও শাস্তির কথা বলা হয়েছে, ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক বিভাগ সেটা কমিয়ে পরীক্ষামূলকভাবে জরিমানার পরিমান ধার্য করেছে। যেমন ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়া মোটরযান ও গণপরিবহন চালালে ছয় মাস কারাদণ্ড ও ২৫ হাজার টাকা জরিমানার কথা বলা হয়েছে। এমন অপরাধে ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ প্রথমবার ৫ হাজার টাকা ও পরেরবার একই অপরাধে ১০ হাজার টাকা জরিমানার কথা উল্লেখ করে ট্রাফিক সার্জেন্টদের চিঠি দিয়েছে। একইভাবে রেজিস্ট্রেশন ছাড়া মোটরযান চালালে আইনে ৫০ হাজার টাকা জরিমানার কথা বলা হয়েছে। এক্ষেত্রে ডিএমপি প্রথমবার ১০ হাজার ও দ্বিতীয় দফায় ২০ হাজার টাকা জরিমানা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মোটর সাইকেলের ক্ষেত্রে তিন মাস কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানার কথা বলা হলেও ডিএমপি সেটা কমিয়ে প্রথমবার এক হাজার ও পরেরবার দুই হাজার টাকা জরিমানার কথা বলেছে।

অন্য খবর  যমুনা গ্রুপের চেয়ারম্যান বাবুলের বিরুদ্ধে এনবিআর এর জিডি

সড়ক আইন কার্যকরে মামলা ও জরিমানার বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক বিভাগের অতিরিক্ত কমিশনার মফিজ উদ্দিন আহম্মেদ বলেন, সড়ক আইন কার্যকরে পুলিশ সম্পূর্ণ প্রস্তুত। তবে মামলা ও জরিমানার ক্ষেত্রে কিছু কাজ বাকি আছে। সেগুলো শেষ করে সংবাদ সম্মেলন করে মানুষকে জানিয়ে তারপর তারা নতুন জরিমানা ও মামলা কার্যকর করবেন। এতে আরও কয়েকদিন সময় লাগতে পারে।

উল্লেখ্য, সড়ক পরিবহনে নতুন ও কার্যকর একটি আইনের দাবি ছিল দীর্ঘদিনের। দেশে নিরাপদ সড়কের দাবিতে কম আন্দোলনও হয়নি। কিন্তু, প্রতিটি সরকারে প্রভাবশালী হয়ে থাকা কিছু সংখ্যক পরিবহন মালিকের চাপে বিষয়টি নিয়ে তেমন অগ্রগতি আসেনি কোনও সরকারেই আমলে। ফলে ব্রিটিশ আমলের এ সংক্রান্ত আইনটি সামান্য সংস্কার করে ১৯৮৩ সালে মোটরযান অধ্যাদেশ নামে যে আইন করা হয় তাই দিয়েই চলছিল দেশের সড়ক পরিবহন ব্যবস্থা। ৯৬-২০০১ সালে ক্ষমতায় থাকাকালীন তদানীন্তন আওয়ামী লীগ সরকার এ বিষয়ে একটি রূপরেখা তৈরি করলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। তবে গতবছরের ২৯ জুলাই রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কে বাসচাপায় দুই শিক্ষার্থীর প্রাণহানির ঘটনা ঘটলে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা নিরাপদ সড়কের দাবিতে রাস্তায় নেমে আসে। সারাদেশেই এই আন্দোলনের বিস্তার ঘটলে সরকার বাধ্য হয়ে আইনটি করার উদ্যোগ নেয়। ২০১৮ সালের আগস্ট মাসেই মন্ত্রিসভায় ও পরে ১৯ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদে ‘সড়ক পরিবহন আইন’টি পাস করা হয়। এরপর ওই বছরেরই ২২ অক্টোবর গেজেট প্রকাশ করে সরকার। আইন পাসের একবছর দুই মাস পর এটি কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে আজ।

অন্য খবর  আস্থা ও বিশ্বাসের জায়গায় পৌঁছেছে পুলিশ : আসাদুজ্জামান খান কামাল

Comments

comments