ধামরাই রণক্ষেত্রঃ যুবলীগ নেতা নিহত, আটক ২

270

ঢাকার ধামরাইয়ের আড়ালিয়া বাজারে পল্লীবিদ্যুতের মিটার লাগানোকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া -পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় ওই এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। এতে ওমর আলী নামে এক যুবলীগ নেতা নিহত হন। গতকাল দুপুরের দিকে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সবুজ ও রিপন নামে দুইজনকে আটক করে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।

নিহত ওমর আলী ধামরাইয়ের কুল্লা ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি ছিলেন। পুলিশ ও নিহতের স্বজনরা জানান, ধামরাই উপজেলার আড়ালিয়া গ্রামের মৃত রিয়াজ উদ্দিনের ছেলে ওমর আলী কয়েক বছর আগে আড়ালিয়া বাজারে ১৮টি দোকান নির্মাণ করে নিজের নামেই কয়েকটি মিটার নেন। গতকাল  দুপুরের দিকে ওই যুবলীগ নেতা ওমর আলীর ভাতিজি মাহমুদা সুলতানা মুক্তা তার স্বামী সবুজ মিয়া, মাসুদা আক্তার মনিরা তার স্বামী নাইমুল হাসান, আফরোজা সুলতানা মিতু তার স্বামী রিপন ১৮টি দোকানের মধ্যে কয়েকটি দোকান নিজেদের দাবি করে ওমর আলীর নাম পরিবর্তন করে নতুন বৈদ্যুতিক মিটার নিজেদের নামে লাগাতে যায়। এ সময় ওমর আলী তার ছেলে হাসিব ও হাসান বাধা দেয়। এতে উভয় পক্ষের মধ্যে তর্কবিতর্কের একপর্যায়ে হামলা ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ বেধে যায়। এ সময় পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। সংঘর্ষে মার খেয়ে ওমর আলী মাটিতে লুটিয়ে পড়লে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনার পরই ধামরাই থানা পুলিশ সবুজ মিয়া ও রিপন নামে দুইজনকে আটক করে। এদের মধ্যে রিপন মিয়াকে আহত অবস্থায় ধামরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। নিহতের স্ত্রী হাওয়া বেগম মানবজমিনকে বলেন, পরিকল্পিতভাবে আমার স্বামীকে তার ভাতিজি ও তাদের স্বামীরা পিটিয়ে হত্যা করেছে। স্থানীয় কুল্লা ইউপি চেয়ারম্যান কালিপদ সরকার বলেন, ওমর আলীর সঙ্গে তার ভাতিজি ও তাদের স্বামীদের হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে।

অন্য খবর  শ্রীনগরে মন্দিরে চুরি

ধামরাই থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রাশেদুজ্জামান জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে দুইজনকে আটকের পর জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এদের মধ্যে একজনকে আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ছাড়া লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। তবে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত থানায় মামলা হয়নি।

এদিকে এ ঘটনার পরই খবর পেয়ে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন নেতাকর্মী ঘটনাস্থলে ছুটে যান এবং দোষীদের শাস্তি দাবি করেন।

Comments

comments