দোহার-নবাবগঞ্জের তিন সেতুতে বাতি জ্বলে না!

95
দোহার-নবাবগঞ্জের তিন সেতুতে বাতি জ্বলে না!

ঢাকার দোহার ও নবাবগঞ্জ উপজেলায় তিনটি সেতুর প্রায় সব বাতি দীর্ঘদিন ধরে নষ্ট। সন্ধ্যার পর সেতুগুলো অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে যায়। সেতুতে চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। কখনো সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে, কখনো পথচারীরা ছিনতাইয়ের শিকার হয়। মাদকসেবীরা সেতুতে নানা ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে বলেও অভিযোগ আছে।

ঢাকা-নবাবগঞ্জ-দোহার সড়কের নবাবগঞ্জের মরিচা এলাকায় ইছামতী নদীতে ও তুলসীখালী এলাকায় ধলেশ্বরী নদীতে এবং দোহারের জয়পাড়ার লটাখোলা এলাকায় ইছামতীতে এই সেতু তিনটি নির্মাণ করা হয়েছিল। জনগুরুত্বপূর্ণ এই সড়ককে ইতিমধ্যে পদ্মা সেতুর বাইপাস হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। ফরিদপুর, মাদারীপুর, শরীয়তপুর, গোপালগঞ্জ, বাগেরহাট, খুলনাসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের লোকজন সড়কপথে যাতায়াতের জন্য এই সেতুগুলো ব্যবহার করে থাকে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, ২০০৫ সালের ১২ অক্টোবর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া নবাবগঞ্জের মরিচা ও তুলসীখালী এলাকার সেতু দুটি উদ্বোধন করেন। এর কয়েক বছর পর থেকে একটি-দুটি করে বাতি নষ্ট হতে থাকে। রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ২০০৭ সাল নাগাদ সেতু দুটির সব বাতি নষ্ট হয়ে যায়। এ ছাড়া ৭-৮ বছর ধরে দোহারের জয়পাড়া লটাখোলা সেতুর প্রায় সব বাতি নষ্ট।

অন্য খবর  নবাবগঞ্জে বিনা মূল্যে চিকিৎসাসেবা

গত শুক্রবার সরেজমিনে দেখা গেছে, নবাবগঞ্জের মরিচা ও তুলসীখালী এবং দোহারের জয়পাড়া লটাখোলা সেতুর সংযোগ সড়কের অনেক জায়গায় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। কোথাও কোথাও ল্যাম্পপোস্টের খুঁটির গোড়ার মাটি সরে গেছে। খুঁটিগুলো হেলে পড়ছে। ল্যাম্পপোস্টের বাতিগুলো হয় ঝুলে আছে, নয়তো ভেঙে পড়ে গেছে।

স্থানীয় ব্যক্তিরা জানান, নবাবগঞ্জের মরিচা ও তুলসীখালী এলাকার সেতু দুটির বাতি নষ্ট হয়ে যাওয়ায় সন্ধ্যা নামলে ভুতুড়ে পরিবেশের সৃষ্টি হয়। সেতু এলাকা ফাঁকা থাকায় এবং সড়কের বাতি না জ্বলায় সেতুর ওপর দিয়ে চলাচলকারীরা প্রায়ই ছিনতাইয়ের শিকার হয়। এ ছাড়া সেতুতে বাতি না থাকায় মাঝেমধ্যে যানবাহন দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। দীর্ঘদিন ধরে সেতু দুটিতে বাতি না জ্বললেও কর্তৃপক্ষের কোনো মাথাব্যথা নেই।

নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক একজন স্কুলশিক্ষক বলেন, সন্ধ্যার পর এই সেতুগুলো মাদকসেবীদের আখড়ায় পরিণত হয়। এই মাদকসেবীরাই অনেক সময় পথচারীদের টাকাপয়সা, মূল্যবান সামগ্রী ছিনিয়ে নেয়।

মরিচা এলাকার বাসিন্দা আবদুল সালাম ব্যাপারী বলেন, সড়ক বিভাগের লোকজন ইচ্ছা করলেই এই সমস্যার সমাধান করতে পারেন। সেতুর সংযোগ সড়কের কাছে মাঝেমধ্যে পুলিশ তল্লাশিচৌকি বসালেও ওই এলাকায় কোনো বাতির ব্যবস্থা নেই। রাতের অন্ধকারের সুযোগে প্রায়ই যাত্রীরা ছিনতাইয়ের কবলে পড়ে সর্বস্ব খোয়ান।

অন্য খবর  রাস্তার মাঝে পল্লী বিদ্যুতের খুঁটী সরানোর দায়িত্ব কার...?

দোহার পৌরসভার মেয়র আ. রহিম মিয়া বলেন, দোহারের জয়পাড়া লটাখোলা সেতু দিয়ে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা নিয়মিত যাওয়া-আসা করেন। অথচ তাঁরা এগুলো খেয়াল করেন না।

সওজ মুন্সিগঞ্জ বিভাগের সহকারী প্রকৌশলী সৈয়দ আলম বলেন, ‘সেতুগুলোতে বাতি লাগানোর ব্যাপারে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মকর্তাদের সঙ্গে আমাদের কথা হয়েছে। তবে তাঁরা যে বাজেট দিয়েছেন, তা আমাদের সাধ্যের বাইরে। তবু আশা করছি, শিগগিরই বাতিগুলো আবার জ্বলতে শুরু করবে।’

Comments

comments