দোহারে সরকারি খাল মাটি দিয়ে ভরাট ; খাস জমি দখলের পায়তারা

539
দোহারে সরকারি খাল মাটি দিয়ে ভরাট ; খাস জমি দখলের পায়তারা

ঢাকার দোহারে মাহমুদপুর যমুনা পুরাতন বাসষ্টানে সরকারী খাল দখল করে মাটি ভরাট করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। বারেক মাদবরের মেয়ে লাবন্য আক্তার দোহার থানায় এই দখলের অভিযোগ দায়ের করেন। ৩১অক্টোবর তারিখে দায়ের করা এই অভিযোগ পত্রে লাবন্য আক্তার; মনোয়ারা মেম্বার, তার স্বামীঃ মোঃ ইউসুফ আলী খান ও মৃত মোস্তাফিজুর রহমান এবং তার দুই ছেলে মাহমুদুল হাসান (বুলবুল), পিতা মৃত মোস্তাফিজুর রহমান ও সবুজ খান পিতা মোঃ ইউসুফ আলী খান, রনি পিতাঃ মৃত্যু শেখ আয়নাল সহ আরো কয়েক জনের নাম উল্লেখ করেন। অভিযোগ পত্রে উল্লেখিত ব্যক্তিদের নামে জমি দখলে না থেকে ও ভূমি দখলের বন্ধবস্ত করায় ও সরকারী খাস জমি দখল করায় এ অভিযোগ দায়ের করা হয়।

এ বিষয়ে নিউজ৩৯ দোহার থানায় খোজ নিয়ে জানা যায়, অভিযোগটির তদন্তের জন্য মৈনট পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুজন বিশ্বাস কে দেয়া হয়েছে।

লাবন্য আক্তার বলেন, এই জমি আমার দাদা দখলে ছিলো, তার পর আমার বাবার দখলে আছে। দাদা থাকা অবস্থায় আমাদের বাড়িতে কিছু লোক কাজ করতো তখন থেকেই এই জমিতে তাদের থাকতে দিতাম ও দেখাশোনা করতাম এখন তারা জমি দখলে আছে। কিন্তু ২০১৪ সালে হঠাৎ একদিন মনোয়ারা মেম্বার বলে এ জমি আমরা লিজ নিয়ে নিয়েছি; তখন মনোয়ারা ও স্বামী সহ দুই ছেলে মাহমুদুল হাসান(বুলবুল) ও সবুজ খান দখলে আসার চেষ্টা করলে তখন স্থানীয় দখলদার মালিক পক্ষ্য থেকে আলমগীর মাদবর, হুমায়ন মাস্টার, মোশামিয়া, মোস্তফা কামাল প্রতিবাদ করে তখন তারা মিস কেস করে এবং তাদের খতিয়ান দাগ ভুল এটা স্বীকার করে।

এর পরিপ্রেক্ষিতে মাহমুদুল হাসান (বুলবুল), পিতা-মৃত মোস্তাফিজুর রহমান, সাং-চৰকুসুমহাটি, দোহার, আমি বিগত ২৯/০৪/১৪ ইং তারিখে দোহার, সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে রেজিস্ট্রিকৃত ১৫৪৩ নং দলিল মূলে মালিক হই যার বন্দোবস্ত নং ১৬১/১৩-১৪ এবং জেলা, প্রশাসক কার্যালয়ের ঢাকা এর কেস নং ২৪৯/১৩-১৪। উলেখ্য বিষয় এই যে আমি বর্তমান যে জমিতে ভোগ দখলে বিদ্যমান আছি ভূল বসত ভূল নকশা মোতাবেক উক্ত ভূমির দাগ ও মৌজা গড়মিল হওয়ায় স্ব-ইচ্ছায় আমার বন্দবস্ত কেস বাতিল করার উদ্যোগ গ্রহণ করি, নিম্নে এর তফসিল বর্ণনা করা হলো মৌজা কুসুমহাটি খতিয়ান ১ দাগনং ৬৫৬।

সবুজ খান, পিতাঃ মোঃইউসুফ আলী খান সাং চরবৈতা,দোহার ঢাকা। আমি বিগত ২৯/০৪/১৪ইং তারিখে দোহার সাব-রেজিষ্টাকৃত ১৫৩৬নং দলিল মুলে মালিক হই যাহার বন্ধবস্ত কেস নং ১৬২/১৩-১৪ এবং জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের ঢাকা এর কেস ২৪৩/১৩-১৪ উলেখ্য বিষয় এই যে আমি বর্তমান যে জমিতে ভোগ দখলে বিদ্যমান আছি ভূল বসত ভূল নকশা মোতাবেক উক্ত ভূমির দাগ ও মৌজা গড়মিল হওয়ায় স্ব-ইচ্ছায় আমার বন্দবস্ত কেস বাতিল করার উদ্যোগ গ্রহণ করি, নিম্নে এর তফসিল বর্ণনা করা হলো মৌজা কুসুমহাটি খতিয়ান ১ দাগ নং ৬৫৬।

অন্য খবর  দোহার-নবাবগঞ্জ পেশাজীবী পরিষদের কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন

তার পর আবার হঠাৎ করে শুনি গত শনিবার(৩১/১০/২০)তারিখে আমাদের জমিতে বালি দিয়ে ভরাট করতেছে আমার ভাই অসুস্থ থাকায় আমি সেখানে গিয়ে জিজ্ঞাসা করি বালু কে ফেলতেছে। রনি বলে মালিক পক্ষ্য ফেলতেছে, তখন আমি বলি মালিক তো আমি, তাহলে তোদের মালিক কে ডেকে আন এই বলে আমি আমাদের বাড়ির জন্য দুইটা বাশ কাটি, পরের দিন আমাদের লেবার কে বাশ আনতে বলি তখন মনোয়ারা মেম্বার ও তার ছেলে সহ কয়েক জন নিয়ে আমাদের মারতে আসে। তখন আমি বুঝতে পারি যে একদিনে ১৭ট্রাক বালু যার মূল্য ২৪হাজার টাকা কি করে পেলো তখন বুঝতে পারি এই মনোয়ারা মেম্বার দখলের যাওয়ার জন্য এই বালু ফেলতেছে।

রনির বোন সোনিয়া পিতাঃ মৃত্য শেখ আয়নাল নিউজ৩৯ কে জানান,আমরা সেই শুরু থেকেই বসবাস করি আমরা গরিব মানুষ বাবা মা নেই ভাই ট্রাকে লেবারি করে আমরা মাত্র ১৬শতাংশ ভূমিহীন করে নিয়েছি আমাদের চলতে ফিরতে কষ্টি হয় তাই আমরা কিস্তি উঠাই রাস্তার পাশে খালে বালি ফালাই ভরাট করার জন্য। আমাদের যখন অভিযোগ যানায় তখন আমরা বালি ফালানো বন্ধ করে দেই পরের দিন রবিবার (১সেপ্টেম্বর)তারিখে আমরা একটা অভিযোগ দায়ের করি।

এক প্রত্যক্ষ দর্শী জানান, সামাদ মেম্বার ও মনোয়ারা মেম্বার কৌশলে রনিদের নাম ব্যবহার করে খাল ভরাট করে কারন তার বাবা মা নেই নিজেও একজন ট্রাকের লেবার সে এতো টাকা কোথায় পাবে তাই জমি লিজ দেয়ার কথা বলে হাত করে রনিকে।
আরো একজন জানান যে,আমরা বারেক মাদবরের দখলে ছিলাম তারা আমাদের জমি লিখিত করে দিয়েছে এখন সেখানে যদি কেউ আমাদের দখল থাকা অবস্থায় কেউ গোপনে ভূমিহীন করে লিজ নিয়ে নেয় তাহলে আমরা গরিবরা কোথায় দাঁড়াবো এর একটা সুস্থ সুরাহা চাই আমরা।

অন্য খবর  ঢাকা-১ (দোহার-নবাবগঞ্জ) ওয়ার্কার্সপার্টির প্রার্থী করম আলীর মনোনয়নপত্র জমা

সরকারি লোক হয়ে নিজের নামে না নিয়ে তার দুই ছেলে ও বউ সহ তার স্বামীর নামে কয়েক জায়গায় সরকারি জমি ভূমিহীন করে লিজ নিয়েছে তাদের ঢাকায় বাড়ি সহ এখানে কয়েকটা বাড়ি আছে। তার ছেলে একজন মহুরি ছিলো মানুষের টাকা মেরে এখন পালিয়েছে আর সবুজ একজন মাদকসেবী। তাদের ৪-৫পাখি জায়গা আছে সরকারি খাস জায়গা তাদের দখলে।

বারেক মাদবর জানান,প্রায় অনেক বছর আগে আমরা কয়েক জন মিলে আমাদের দখলে থাকা কয়েকটা মৌজা নিয়ে র্কোটে মামলা করা হয়েছিলো জমির রেকড ও খাজনা দেয়ার জন্য বাছের মুন্সী, কাজেম পেসকার, কাঞ্চন খা সিকদার,তাদের কে নিয়ে হাইকোর্টে মামলা করি প্রায় ২২ বছর পর মামলার রায় পাই রেকর্ড ও খাজনা দেয়ার অনুমতি দেন তবে যারা এ সম্পত্তি মালিক ছিলো তারা এ সম্পত্তি পাবে।সম্পত্তি আগে ৩০ বছর পানির নিচে থাকায় এটা সরকারিভাবে খাশ জমি তাই পরর্বতী সময়ে জমির বন্দবস্ত দিবো যখন সিএস রেকর্ড হবে তখন থেকেও জমি ভোগদখলে আছি। পরে সরকারি ভাবে বন্দবস্ত করার জন্য সকল কাগজপত্র জমা দেই। জমিটা নকশায় ছিলো সিএস ৪৪১ দাগ আইয়ুব আলীদের পাশে ৪৪০ দাগ যার মৌজা কুসুমহাটি আর এস দাগ ৬৫৬ ও ৬১৯।

দোহারে সরকারি খাল মাটি দিয়ে ভরাট ; খাস জমি দখলের পায়তারা

মনোয়ারা মেম্বার বলেন,আমি কোন বালু ফালাই নাই, সেখানে কোন আমার জায়গা জমি নেই, আমার নামে যারা অভিযোগ দিয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। তবে আমি জন প্রতিনিধি গ্রামে মেম্বার মানুষের ডাকে সব সময় এগিয়ে আসি তাই রনিরা গরিব মানুষ তাদের প্রয়োজনে তারা বালু ফালাইছে তাই আমি তাদের পাশে আছি। নিউজ ৩৯ জমির বিষয়ে প্রশ্ন করলে সে বলে জমি আমার না, জমি আমার দুই ছেলের নামে ২০১৪ সালে বন্দবস্ত নেয়া আছে।

ভূমি অফিসে খোজ নিয়ে জানা যায়,বুলবুল ও সুজনকে ৫০ ও ২৭ শতাংশ ভূমি বন্দবস্ত দেয়া হয়েছে তবে তারা ২০১৪ সালে ভুমির দাগ খতিয়ান ভূল হয়েছে বলে তারা শিকার করে এ বিষয়ে একটি অভিযোগ হয়েছে তাই ডিসি বরাবর তদন্তের জন্য পেশ করা হয়েছে ও তদন্ত করে দেখা হবে।

পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুজন বিশ্বাস নিউজ৩৯ কে বলেন,আমরা একটি অভিযোগ পেয়েছি এর তদন্ত চলছে,সকল কাগজপত্র ও দখলের বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

Comments

comments