দোহারে খাল দখল ও ভরাটে জলাবদ্ধতা, জনদুর্ভোগ

232

দোহার উপজেলায় অধিকাংশ খাল প্রভাবশালীদের দখলে চলে গেছে। তারা খাল দখলে নিয়ে ভরাট করে ফেলায় এবং বাঁধ দিয়ে মাছ চাষের ফলে সামান্য বৃষ্টি হলেই উপজেলার বিভিন্ন স্থানে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে।
সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, উপজেলার ৮টি ইউনিয়ন ও পৌরসভার মধ্যে ৪৬ খালের সবগুলোই ভরাট ও দখলের কবলে পড়েছে। ফলে অল্প বৃষ্টিতেই উপজেলার ৮টি ইউনিয়ন ও পৌরসভার বিভিন্ন এলাকা, রাস্তা-ঘাট, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও হাটবাজারে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। উপজেলার নানা এলাকার মানুষ এ জলাবদ্ধতার কারণে দুর্ভোগে পড়েছে। দোহারের মুকসেদপুর, নারিশা ও সুতারপাড়া ইউনিয়ন এবং পৌরসভার ১, ২, ৩, ৬, ৮ ও ৯নং ওয়ার্ডে জলাবদ্ধতার সমস্যা সবচেয়ে বেশি। মুকসেদপুরের মইতপাড়া, মৌড়া, দুবলী, ছত্রভোগ, নারিশার চৈতাবাতর, পশ্চিমচর, লঞ্চঘাট, শিমুলিয়া, ঝনকি, মালিকান্দা, আল-আমিন, ঘাড়মোড়া এলাকার ২০-২৫টি খাল ভরাট করে ফেলেছে স্থানীয় প্রভাবশালীরা।
সুতারপাড়া ইউনিয়নের পদ্মার সব শাখা খাল প্রভাবশালীদের ভরাটের ফলে বর্তমানে কোনো খালের অস্তিত্বই নেই। খাল ভরাট করে সেখানে গড়ে তোলা হয়েছে বাড়ি, দোকানপাট, ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান, মসজিদসহ বিভিন্ন স্থাপনা। এ অবস্থায় বৃষ্টি হলেই জলাবদ্ধতার কারণে বিপাকে পড়তে হচ্ছে এলাকাবাসীকে। বর্তমানে দোহার থানার সামনের রাস্তায় বৃষ্টির পানিতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। ফলে ভোগান্তিতে পড়েছেন এলাকাবাসী। উপজেলার নানা স্থানে হাঁটুপানি জমে রয়েছে।
নারিশা ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা আবদুল মান্নান অভিযোগ করে বলেন, নিয়মিত কর পরিশোধ করছেন নারিশাবাসী। অথচ সামান্য বৃষ্টিতেই ঘর থেকে বের হতে পারি না। এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ইমরুল হাসান বলেন, আমি এখানে নতুন যোগদান করেছি। তদন্ত সাপেক্ষে খাল দখলকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অন্য খবর  নারিশায় ইমাম আলী হত্যা মামলায় ৫ জনের যাবজ্জীবন

দোহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কেএম আল-আমিন বলেন, খালের জমি দখলে নিয়ে ভরাট করে যারা মার্কেট, ভবন ও স্থাপনা গড়ে তুলেছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সরকার সব খাল দখল অবমুক্ত করার ঘোষণা দিয়েছে।

এ বিষয়ে দোহার উপজেলা চেয়ারম্যান মো. আলমগীর হোসেন জানান, শিগগির খাল দখলকারীদের তালিকা প্রস্তুত করা হবে। পরে দখলকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Comments

comments