দেশে বিদেশে বিনম্র শ্রদ্ধায় জাতীয় শোক দিবস পালিত

106
জাতীয় শোক দিবস

বাঙালি ও বাংলাদেশের শোকের দিন আজ। শোকাবহ ১৫ আগস্ট, জাতীয় শোক দিবস আজ। ইতিহাসের মহানায়ক, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৩তম শাহাদতবার্ষিকী।

১৯৭৫-এর এই কালো দিনটিতেই জাতি হারিয়েছে তার গর্ব, আবহমান বাংলা ও বাঙালির আরাধ্য পুরুষ, স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। মুক্তিযুদ্ধের পরাজিত শত্রুদের প্ররোচনায় মানবতার দুশমন, ঘৃণ্য ঘাতকরা বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে নৃশংসভাবে হত্যা করে। কিছু বিশ্বাসঘাতক রাজনীতিকের চক্রান্ত এবং সেনাবাহিনীর একদল বিপথগামী সদস্যের নির্মম বুলেটের আঘাতে বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে সেদিন প্রাণ হারান তার প্রিয় সহধর্মিণী বেগম শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব, তিন ছেলে মুক্তিযোদ্ধা শেখ কামাল, সেনা কর্মকর্তা শেখ জামাল ও দশ বছরের শিশুপুত্র শেখ রাসেল এবং নবপরিণীতা দুই পুত্রবধূ সুলতানা কামাল ও রোজী জামাল, ভাই শেখ নাসের ও কর্নেল জামিল। ইতিহাসের এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের সেদিন আরো প্রাণ দিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধুর ভাগ্নে বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ ফজলুল হক মনি, তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী আরজু মনি, ভগ্নিপতি আবদুর রব সেরনিয়াবাত, শহীদ সেরনিয়াবাত, শিশু বাবু, আরিফ রিন্টু খানসহ অনেকে। এ কারণে আজ বেদনাবিধুর ও কলঙ্কের কালিমায় কলুষিত বিভীষিকাময় ইতিহাসের এক ভয়ঙ্কর দিন।

রাষ্ট্রপতির বাণী

জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে পৃথক বাণী দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বাণীতে রাষ্ট্রপতি বলেন, আজ বাঙালি জাতির ইতিহাসে এক বেদনাবিধূর দিন। ১৫ আগস্টের মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের বিচারের মাধ্যমে দেশ আজ কলঙ্কমুক্ত হয়েছে। পলাতক হত্যাকারীদের বিচারের রায় দ্রুত কার্যকর হবে— জাতীয় শোক দিবসে এটাই দেশবাসীর প্রত্যাশা। ঘাতকচক্র জাতির পিতাকে হত্যা করলেও তাঁর নীতি ও আদর্শকে মুছে ফেলতে পারেনি।

অন্য খবর  জঙ্গি ছেলের লাশ নেবে না আব্দুল্লাহর পরিবার

প্রধানমন্ত্রীর বাণী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাণীতে বলেন, জাতির পিতার দূরদর্শী, সাহসী এবং ঐন্দ্রজালিক নেতৃত্বে বাঙালি জাতি পরাধীনতার শৃঙ্খল ভেঙে ছিনিয়ে এনেছিল স্বাধীনতার রক্তিম সূর্য। বাঙালি পেয়েছে স্বাধীন রাষ্ট্র, নিজস্ব পতাকা ও জাতীয় সংগীত। সদ্য স্বাধীন যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব যখন সমগ্র জাতিকে নিয়ে সোনার বাংলা গড়ার সংগ্রামে নিয়োজিত, তখনই স্বাধীনতাবিরোধী-যুদ্ধাপরাধী চক্র তাঁকে হত্যা করে।

জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে কেরানীগঞ্জে চলচ্চিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৪ আগস্ট) রাতে কেরানীগঞ্জ উপজেলার কদমতলী এলাকায় এ আয়োজন করে ঢাকা জেলা দক্ষিণ গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

এছাড়া উপজেলার চুনকুটিয়া চৌরাস্তা এলাকায় চলচ্চিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা স্বেচ্ছাসেবক লীগ। এসময় দু’টি স্থানে কয়েক শতাধিক মানুষ ‘পলাশী থেকে ধানমন্ডি’ চলচ্চিত্রটি উপভোগ করেন।

অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে বিনম্র শ্রদ্ধা ও ভাব গাম্ভির্যে বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শাহাদতবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস পালন করা হয়েছে। এ উপলক্ষে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নিউ সাউথ ওয়েলস শাখার উদ্যোগে সিডনিতে গত রোববার (১২ আগস্ট) এক আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়।

অন্য খবর  আজ শিলাবৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে

টোকিওতে বাংলাদেশ দূতাবাস, জাপান যথাযথ ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে স্বাধীনতার মহান স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৩তম শাহাদাত বার্ষিকী পালন করেছে। শোক দিবসের আয়োজনসমূহ দুই পর্বে অনুষ্ঠিত হয়।

বুধবার সকালে দূতাবাস প্রাঙ্গণে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত করার মধ্যে দিয়ে শোক দিবসের প্রথম পর্বের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত করেন জাপানে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত রাবাব ফাতিমা।

দীর্ঘ সংগ্রামী জীবনে জেল-জুলুম, অত্যাচার-নির্যাতন আর স্বৈরশাসকের রক্তচক্ষু ছিল বঙ্গবন্ধুর নিত্যসঙ্গী। তিনি নিশ্চিত মৃত্যুর মুখোমুখি হয়েছেন বহুবার। একাধিকবার ফাঁসির মঞ্চ তৈরি হয়েছিল তার জন্য। বাঙালির প্রতি তার বিশ্বাস ও আস্থা ছিল আকাশচুম্বী।

সেজন্যই হাসিমুখে, নির্ভীকচিত্তে মানুষের অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে সব ধরনের জুলুম-নির্যাতন বরণ করেছেন তিনি। আমৃত্যু একটি গণতান্ত্রিক, প্রগতিবাদী ও অসাম্প্রদায়িক সমাজ বিনির্মাণের স্বপ্ন দেখেছিলেন তিনি। বঙ্গবন্ধুর সেই স্বপ্নের বাংলাদেশের যথাযথ রূপায়ণই হবে তার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের সর্বোত্তম উপায়। সেই লক্ষ্যে জাতীয় শোক দিবসের প্রতিজ্ঞা হোক- শোককে শক্তিতে রূপান্তরিত করতে হবে।

Comments

comments