দুই সোনালী প্রজন্মের ফাইনালে ওঠার লড়াই

36
দুই সোনালী প্রজন্মের ফাইনালে ওঠার লড়াই

আচ্ছা, ফুটবলীয় মানদন্ডে কোনো দেশের সোনালী প্রজন্মের সাফল্য বা ব্যর্থতার নির্ণায়ক কী? সেটা কি হিসাব করা হয় গোল করা বা ম্যাচ জেতার প্রবণতার ওপর? নাকি নিজেদের মাঝের বোঝাপড়ার ওপর? সাফল্য বা ব্যর্থতা বেশ আপেক্ষিক একটি ব্যাপার, কিন্তু কোনো সোনালী প্রজন্মের পরিণত দলে বিকশিত হওয়াটা অবশ্য বেশ সোজাসাপ্টাই বলা চলে। বড় দলগুলোর বিপক্ষে তাদের পারফরম্যান্সই বলে দেয়; চাপে তারা ভেঙ্গে পড়বে, নাকি পরিণত হবে হীরায়। ২০১৪ সালের কথা চিন্তা করলে ফ্রান্স এবং বেলজিয়াম ছিল প্রথম দলে। আর এবার? দুই শিরোপাপ্রত্যাশী পরাশক্তি ব্রাজিল এবং আর্জেন্টিনাকে হারিয়েই শেষ চারে জায়গা করে নিয়েছে তারা। আজ দুই দলের দুই সোনালী প্রজন্ম মাঠে নামছে বিশ্বকাপে খুব সম্ভবত নিজেদের সবচেয়ে বড় ম্যাচে। জিতলেই তাদের এবং অমরত্বের মাঝে ব্যবধানটা হবে এক ম্যাচের- এমন সমীকরণ নিয়েই বিশ্বকাপের প্রথম সেমিফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে ফ্রান্স এবং বেলজিয়াম।

তাহারা বলেনঃ

টুর্নামেন্টের আগে থেকেই শিরোপার অন্যতম দাবিদার ছিল তারা। আর্জেন্টিনা, উরুগুয়ের মত দলকে হারিয়ে চলে এসেছে সেমিফাইনালেও। কিন্তু মাঠের খেলা দিয়ে ফুটবল অনুরাগীদের মন ভরাতে পারেনি ফ্রান্স। কিন্তু ‘ব্লুজ’দের খেলায় ঠিকই মজেছেন বেলজিয়ান ম্যানেজার রবার্তো মার্টিনেজ, “সত্যি বলতে গেলে ফ্রান্সের দলটা এবারের বিশ্বকাপে আমার সবচেয়ে পছন্দের। এত গোছানো এবং সামঞ্জস্যপূর্ণ দল এবার একটিও নেই। অন্যদের কেমন লেগেছে জানি না, কিন্তু তাদের খেলা আমার কাছে দারুণ লাগে। বিশেষ করে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে তো তারা প্রমাণই করেছে, দল হিসেবেও তারা পরিণত। আমার মতে, আজ টুর্নামেন্টের সবচেয়ে ‘ফেভারিট’ দলটার বিপক্ষে মাঠে নামছি আমরা। তবে ব্রাজিলকে হারানোর পর ছেলেরাও বেশ আত্মবিশ্বাসী। আশা করি দুর্দান্ত এক ম্যাচই অপেক্ষা দিতে পারব দর্শকদের।”

অন্য খবর  সাকিব-মাশরাফির আর্জেন্টিনা,তামিমের ব্রাজিল

কোচের সাথে একমত মিডফিল্ডার কেভিন ডি ব্রুইন, “ফ্রান্স দলটা আসলেও দুর্দান্ত। তবে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে বড়-ছোট বলে কিছু নেই। যার ফর্ম যেমনই হোক, সেদিন মাঠে যে ভাল খেলবে, সে-ই যাবে ফাইনালে। শুধু ব্রাজিল নয়, পুরো বিশ্বকাপই আমরা প্রবল আত্মবিশ্বাসী ছিলাম। আজও আছি।”

মার্টিনেজের মতই প্রতিপক্ষকে প্রাপ্য সম্মানই দিয়েছেন ফ্রান্স কোচ দিদিয়ের দেশম। কোয়ার্টার ফাইনালে লুকাকুকে উইংয়ে এবং ডি ব্রুইনকে ‘ফলস নাইন’-এ খেলানোর চাল দিয়েই ব্রাজিলকে বধ করেছিল বেলজিয়াম। তবে দেশম জানিয়ে দিয়েছেন; বেলজিয়ামের যেকোনো ধরণের ট্যাকটিক্যাল ‘মাস্টারস্ট্রোক’-এর জন্য প্রস্তুত তার দল, “বেলজিয়াম ভাগ্যের জোরে এতদূর আসেনি। ব্রাজিলের বিপক্ষে তাদের ট্যাকটিক্যাল চালটা দুর্দান্ত ছিল। প্রতি-আক্রমণে তারা অসাধারণ। ওদের ব্যাপারে আমরা বেশ নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেছি। নিশ্চিত করেই বলতে পারি, সব দিক দিয়েই ছেলেরা প্রস্তুত আছে বেলজিয়ানদের মোকাবেলা করতে।”

দেশমের মতই প্রতিপক্ষের শক্তি-সামর্থ্যের ব্যাপারে অবগত ডিফেন্ডার রাফায়েল ভারান, “বেলজিয়াম দলটা তরুণ, কিন্তু তারা পরিণত হচ্ছে। পরিণত না হলে তারা কখনোই ব্রাজিলের মত দলকে হারাতে পারত না। আক্রমণে লুকাকু এবং হ্যাজার্ডের বিপক্ষে ম্যাচটা বেশ কঠিনই হবে। তবে আমরা আত্মবিশ্বাসী।”

দলের খবরঃ

সেমিফাইনালের আগে পূর্ণশক্তির দলই পাচ্ছেন দেশম। কিন্তু ব্রাজিলের বিপক্ষে হলুদ কার্ড দেখে বহিষ্কারাদেশের কারণে বেলজিয়ামের হয়ে থাকছেন না ডিফেন্ডার থমাস মুনিয়ের। এছাড়া বাকি সবাইকেই পাচ্ছেন মার্টিনেজ।

সম্ভাব্য মূল একাদশ

ফ্রান্স (৪-২-৩-১): লরিস; পাভার্ড, ভারান, উমতিতি, হার্নান্দেজ; কান্তে, মাতুইদি; এম্বাপ্পে, পগবা, গ্রিযমান; জিরু।

অন্য খবর  বারুয়াখালী গোল্ডকাপের ফাইনালে লটাখোলা চাঁদ-তারা ক্লাব

বেলজিয়াম (৩-৪-৩): কর্তোয়া; কম্পানি, ভার্টনহেন, অ্যাল্ডারওয়েরেল্ড; চাডলি, উইটসেল, ফেলাইনি, কারাস্কো; ডি ব্রুইন, লুকাকু, হ্যাজার্ড।

ট্যাকটিক্সের টুকিটাকিঃ

৪-২-৩-১ ফর্মেশনে সাজানো ফ্রান্সের ‘ফালক্রাম’ এন’গোলো কান্তে। তাকে আটকে রাখতে পারলে ফ্রান্সের স্বভাবসুলভ পাসিং ফুটবলও রুখে দেওয়া যাবে অনেকটাই। সাথে আছেন ব্লেইজ মাতুইদি। ফ্রান্সের এই দুই ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডারকে আটকানোর দায়িত্বটা থাকবে অ্যাক্সেল উইটসেল এবং মারুয়ান ফেলাইনি ওপর। বাঁ-প্রান্তে দুর্দান্ত হ্যাজার্ডের বিপক্ষে তরুণ রাইটব্যাক বেঞ্জামিন পাভার্ড কেমন করবে, তার ওপরও নির্ভর করছে অনেক কিছু। সেটপিস থেকে বেলজিয়ামের দক্ষতা অসাধারণ। ফ্রান্সও কম যায় না। তাই আজকের ম্যাচে ফ্রিকিক বা কর্ণার থেকে গোল আসার সম্ভাবনাও বেশ ভালোই। কান্তে ফ্রান্সের ‘ফালক্রাম’ হলে বেলজিয়ামের ‘নিউক্লিয়াস’ ডি ব্রুইন। পুরো আক্রমণকে এক সূতোয় গাঁথা ‘কেডিবি’কে আটকানোর কাজটা করতে হবে কান্তে-মাতুইদিকেই। দুই দলের আক্রমণভাগেই গতির কোনো অভাব নেই। তাই প্রতি-আক্রমণে সতর্ক থাকতে হবে ভারান-কম্পানিদের। স্ট্রাইকার রোমেলু লুকাকুর সাথে রাফায়েল ভারানের দ্বৈরথটা হবে দেখার মত। তবে মুনিয়ের না থাকায় বেলজিয়ামকে বেশ ঝামেলা পোহাতে হতে পারে। কারণ ঐ উইং দিয়েই খেলবেন এম্বাপ্পে। খুব সম্ভবত ইয়ানিক-ফেরেইরা কারাস্কোকেই খেলাবেন মার্টিনেজ। সেক্ষেত্রে কারাস্কোর রক্ষণে দক্ষতার ওপরই ভরসা করতে হবে বেলজিয়ামকে। গ্রিযমান-জিরুর বোঝাপড়াটা ঠেকাতে কম্পানি-ভার্টনহেন জুটির দিকেই তাকিয়ে থাকবেন মার্টিনেজ।

সংখ্যায় সংখ্যায়ঃ

বিশ্বকাপে এর আগে দু’বার দেখা হয়েছে ফ্রান্স এবং বেলজিয়ামের। দুবারই জিতেছে ‘লা ব্লুজ’রা।

পেনাল্টি শুটআউট বাদে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে ১৩ ম্যাচে মাত্র ১বার হেরেছে ফ্রান্স।

নিজেদের শেষ ২৪ প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে অপরাজিত আছে বেলজিয়াম।

Comments

comments