দালালদের উৎপাতে অতিষ্ঠ দোহার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের রোগীরা

3985
দোহারে বৃদ্ধাকে বোকা বানিয়ে হাসপাতাল থেকে স্বর্ণালংকার লুট

দোহার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স দোহারের হত দরিদ্রদের চিকিৎসা সেবার এক নির্ভরতার নাম। কিন্তু দালালদের উৎপাতের কারনে চিকিৎসা সেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে এখানে। দালালদের উৎপাতে এখন অতিষ্ঠ দোহার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সেবা নিতে আসা রোগীরা। হাসপাতালে আসা রোগীদের নানা রকম ভয় ও প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিক ও রোগনির্ণয় কেন্দ্রে নিয়ে যাচ্ছে সংঘবদ্ধ দালালচক্র।
হাসপাতাল ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র জানায়, প্রতিদিন জয়পাড়া এবং আশপাশের ক্লিনিক ও রোগনির্ণয় কেন্দ্রের ১৫-২০ জন দালালকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এর জরুরি বিভাগ ও অর্ন্ত বিভাগে ঘোরাফেরা করতে দেখা যায়। এরা রোগীদের ভীরে চিকিৎসকের কক্ষে ঢুকে পড়েন। এরপর চিকিৎসক ব্যবস্থাপত্র লেখা শেষ করলেই রোগীর হাত থেকে ব্যবস্থাপত্র নিয়ে নেয় তারা। এরপর পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য রোগীদের সেসব রোগনির্ণয় কেন্দ্রে যেতে বাধ্য করা হয়। এ ক্ষেত্রে রোগীদের দেখানো হয় নানা রকম প্রলোভন যেমন, উন্নত রোগ নির্ণয় যন্ত্রপাতি,নির্ভুলভাবে রোগ নির্ণয়, বিশেষ ছাড়সহ ইত্যাদি । অসুস্থ রোগী এলে সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে চিকিৎসা হয় না বলে দালালেরা ভয় দেখিয়ে তাঁদের প্রাইভেট ক্লিনিকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে দালালচক্র।
গত ২৫ সেপ্টেম্বর রবিবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বেলা ১১টার দিকে অটোরিকশায় করে অসুস্থ এক নারীকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন তার স্বজনেরা । এ সময় ফটকের সামনে ৪/৫ জন দালাল অটোরিকশাটিকে ঘিরে ধরে। এক পর্যায়ে তারা রোগীকে হাসপাতালের বাহিরে অন্য কোন ক্লিনিকে নিয়ে যান।
এ বিষয়ে দোহার উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ জসিম উদ্দিন দালালদের উৎপাত স্বীকার করে বলেন, ”আমি চাই আমাদের হাসপাতাল দালাল মুক্ত থাকুক । অসহায় গরিব দুঃখীরা বিনা খরচে স্বাস্থ্য সেবা পাক। কিন্তু দালালদের জন্য আমরা তা ভালভাবে করতে পারছি না । তবে আগের থেকে দালালদের উৎপাত অনেকাংশে কমে গেছে। অতি শীঘ্রই আমরা হাসপাতালকে সম্পূর্ন দালালমুক্ত করতে পারবো বলে আশা করছি ”।

অন্য খবর  দোহারে শাহ লাল চিশতীর ৪১৩তম বার্ষিক ওরস উদযাপিত

Comments

comments