তিন মাস সাব-রেজিস্ট্রার নেই, বিপাকে কেরানীগঞ্জবাসী

409
তিন মাস সাব-রেজিস্ট্রার নেই, বিপাকে কেরানীগঞ্জবাসী

ঢাকা জেলার কেরানীগঞ্জে দুটি অফিসে প্রায় তিন মাস ধরে সাব-রেজিস্ট্রার নেই। সাব-রেজিস্ট্রার না থাকায় বিপাকে পড়েছে দলিল লেখক ও উপজেলার সাধারণ জনগণ। প্রতিদিনই অর্ধশতাধিক ভূমি মালিক জমি রেজিস্ট্রি করতে এসে সারাদিন বসে থেকে সন্ধ্যায় হতাশ হয়ে বাড়ি ফিরে যাচ্ছেন। অলস সময় কাটাচ্ছেন দলিল লেখক ও সাব-রেজিস্ট্রার অফিসের কর্মচারীরা। এদিকে রেজিস্ট্রি বন্ধ থাকায় রাজাস্ব হারাচ্ছে সরকার।

গত ১৬ এপ্রিল পদোন্নতি পেয়ে বদলি হয়ে যান উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার ফজলার রহমান। এরপর আর কোনো সাব-রেজিস্ট্রার নিয়োগ দেয়া হয়নি। তবে গত ১৩ জুন পর্যন্ত সপ্তাহে দুই দিন করে ভারপ্রাপ্ত হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের সাব-রেজিস্ট্রার আব্দুল বারী। তিনিও দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ সাব-রেজিস্ট্রি অফিস থেকে বদলি হয়ে চলে গেলে অবস্থা আরো খারাপ হয়ে যায়। এরপর নবাবগঞ্জ উপজেলার সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের সাব-রেজিস্ট্রার মো. রেজাউল করিম বকশী ভারপ্রাপ্ত হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনিও দুই সপ্তাহ দায়িত্ব পালন করে আর আসেনি।

বৃহস্পতিবার (২০ জুলাই) সরেজমিনে দেখা যায়, বেশ কয়েকজন জমি রেজিস্ট্রির জন্য অফিসের সামনে দাঁড়িয়ে আছেন, কিন্তু সাব-রেজিস্ট্রার নেই। ফলে অলস সময় পার করছেন নকলনবিশরা। দলিল লেখকরা চরম বিপাকে পড়ছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নকলনবিশ বলেন, উপরের জটিলতার কারণে সাব-রেজিস্ট্রার আসতে চান না। লাখ লাখ টাকার বিনিময়ে কেরানীগঞ্জে সাব-রেজিস্ট্রার হয়ে আসতে হয়। সাব-রেজিস্ট্রার বদলিতে এখন প্রতিযোগিতা হচ্ছে। যে যত বেশি  টাকা দিতে পারবে তার কপালে কেরানীগঞ্জ জুটবে। নিয়মিত ভূমি রেজিস্ট্রি হলে আমাদের অফিসে মাসে ৮০০ থেকে ১০০০ রেজিস্ট্রি হয়। এতে সরকারের রাজস্ব আসে কয়েক কোটি টাকা। গত তিন মাস কোনো সাব-রেজিস্ট্রার না থাকায় রেজিস্ট্রি কমে গেছে। ফলে সরকারও বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে।

অন্য খবর  কেরানীগঞ্জে ৬৫ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারে জমি হস্তান্ত।

উপজেলা দলিল লেখক সমিতির সভাপতি মো. কামাল হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক মোশারফ হোসেন বলেন, জমি  রেজিস্ট্রি হলে তার দলিল সম্পাদন করে আমরা জীবিকা নির্বাহ করি। এভাবে দিনের পর দিন রেজিস্ট্রি বন্ধ থাকলে আমরা চলবো কিভাবে? সাব-রেজিস্ট্রার না থাকায় বিপাকে পড়ছে সাধারণ মানুষও। আমরা অবিলম্বে এ অফিসে সাব-রেজিস্ট্রার চাই।

Comments

comments