ঢাকা-শ্রীনগর-দোহার সড়ক; গর্তের ফাঁদে গাড়ির চাকা, নিত্য দুর্ভোগ

100
শ্রীনগর-দোহার সড়ক

ঢাকা-শ্রীনগর-দোহার সড়কের মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর অংশের এখন বেহাল দশা। দীর্ঘদিন ধরে সড়কটি সংস্কার না করায় ওই রাস্তা দিয়ে চলতে গিয়ে হাজার হাজার মানুষকে প্রতিদিন চরম দুর্ভোগের শিকার হতে হচ্ছে। শ্রীনগরের রাঢ়ীখাল বালাশুর বাজার চৌরাস্তা, বাঘড়া আল-আমিন পাকা সেতু, তালুকদারবাড়িসহ দোহার পর্যন্ত সড়কে ছোট-বড় গর্ত ও অসংখ্য খানাখন্দ রয়েছে। এতে অল্প বৃষ্টি হলেই গর্তগুলোতে হাঁটুপানি জমে। তা ছাড়া একের পর এক গর্তের কারণে প্রতিদিনই কোনো না কোনো যানবাহন নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। রাস্তা দিয়ে হাঁটতে গিয়ে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে কোমলমতি ছাত্র-ছাত্রীরা। এখন ওই রাস্তা দিয়ে চলাফেরা করাই কষ্টকর।

বিশেষ করে দীর্ঘদিন যাবত বালাশুর চৌরাস্তা এলাকার প্রায় ৩’শ ফুট বেহাল রাস্তার কারণে স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীসহ ৩০ হাজার মানুষের চরম দূর্ভোগ পোহানো যেন হয়ে পরেছে নিত্যদিনের সঙ্গী। অল্প বৃষ্টি হলেই রাস্তার গর্ত গুলোর মধ্যে হাঁটু পানি জমে থাকার কারণে প্রতিদিনই কোন না কোন দুর্ঘটনার কবলে পরছে ছোট বড় সব ধরনের যানবাহন। সবচেয়ে বেশী দূর্ভোগের স্বীকার হচ্ছে বৃদ্ধসহ কোমলমতি ছাত্র-ছাত্রী। ওই রাস্তায় মানুষের হাঁটা চলাফেরা করাই যেন অতি কষ্টকর হয়ে পরেছে।

অন্য খবর  দোহারে পিএসসির পাশের হার ৯৯ শতাংশ

গতকাল মঙ্গলবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ঢাকা-দোহার সড়কের শ্রীনগরের বালাশুর, ভাগ্যকূল, আল-আমিন বাজারসহ বিভিন্ন স্থানে খানাখন্দে ভরপুর। বালাশুর বাজারে আমভর্তি একটি ট্রাকের চাকা গর্তে আটকে আছে। এতে অন্য যানবাহন চলাচল করতে না পারায় হাজার হাজার যাত্রী চরম দুর্ভোগে পড়ে।

ভাগ্যকূল হরেন্দ্র লাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের সভাপতি মনির হোসেন মিটুল জানান, সড়কের অবস্থা মোটেও ভালো নয়। খানাখন্দে ভরা রাস্তাগুলোতে বৃষ্টি হলেই কাদাপানি হয়। ফলে প্রতিদিনই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটে।

বালাশুর বাজার কমিটির সহসভাপতি দীপু খান, সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব খান, আল-আমিন বাজার কমিটির সভাপতি মামুন শেখসহ অনেকে বলেন, ঢাকা-শ্রীনগর-দোহার সড়কের পরিস্থিতি ভয়াবহ। অতিরিক্ত খানাখন্দ ও গর্তের কারণে এ সড়ক দিয়ে বাস চলাচলসহ স্থানীয়দের যাতায়াতে মারাত্মক প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হয়েছে।

এ বিষয়ে মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগরের উপ বিভাগীয় প্রকৌশলী তুহিন আল মামুন জানান, আমরা এ সমস্যা সমাধানে দ্রুত ব্যবস্থা নিচ্ছি। সাময়িক সমাধানে ইট, সুরকী ও বালু পাঠিয়েছি। তিনি আরো বলেন, ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে ৪’শত ৬৯ কোটি টাকা ব্যয়ে ঢাকা-দোহার সড়কটির কেরানীগঞ্জের কদমতলী, নবাবগঞ্জ, শ্রীনগর ও দোহারের ৭২ কিলোমিটার রাস্তার কাজ আগামী এক মাসের মধ্যে শুরু করা হবে।

অন্য খবর  দোহার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক সংকট, স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত রোগীরা

দুই দশক আগে উপজেলার ভাগ্যকূল, বাঘড়া, রাঢ়ীখাল ও কোলাপাড়ার সর্বস্তরের জনগণ কেনাকাটার জন্য শ্রীনগর বাজারে যেত। বর্তমানে এসব অঞ্চলের মানুষ চিকিৎসা, ঈদের কেনাকাটা ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কেনার জন্য প্রতিনিয়ত বালাশুর বাজারে যায়। কিন্তু বালাশুরের ভাগ্যকূল প্রান্তে রাস্তার বেহাল দশায় জনগণ ও ব্যবসায়ীরা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছে।

Comments

comments