ঢাকা-নবাবগঞ্জ-দোহার সড়কের বেহাল দশাঃ ঈদে যাত্রী দুর্ভোগ চরমে

2575

দোহারের বাঁশতলা থেকে নবাবগঞ্জ হয়ে গুলিস্তানের দূরত্ব ৪৩ কিমি.। কিন্তু সরু সড়কের কারণে যাত্রীদের ঢাকা পৌঁছতে ২ থেকে ৩ ঘণ্টা লেগে যায়। একটু বৃষ্টি হলে খানাখন্দে ভরা সড়কটি চলাচলের জন্য আরও অনুপযোগী হয়ে পড়ে। এতে ঘটছে ছোটবড় দুর্ঘটনাও। এ বিষয়ে দোহার-নবাবগঞ্জের মানুষের নানা অভিযোগ থাকলেও যথাযথ কর্তৃপক্ষের সাড়া মিলছে না।

সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা যায়, নবাবগঞ্জের বেনুখালী, খারশুর বাজার, আগলা, টিকরপুর, কোমরগঞ্জ, ঋষিপাড়া, বক্সনগর, বাগমারা ও নবাবগঞ্জ চৌরাস্তা খানাখন্দে ভরপুর। এ সড়কের বেশিরভাগ স্থানে খোয়া ও পিচ উঠে গেছে। ঝুঁকি নিয়ে হেলেদুলে চলছে গাড়ি।
একই অবস্থা দোহারের পালামগঞ্জ ফুলতলা, কেরানীগঞ্জের রুহিতপুর, সৈয়দপুর ও লাকিরচর এলাকায়। সড়কের দুর্ভোগ নিয়ে কথা হয় যমুনা পরিবহনের চালক দেলোয়ার হোসেনের সঙ্গে। তিনি বলেন, বড় বড় গর্তের কারণে গাড়ির ইঞ্জিন বিকল হয়ে যাচ্ছে। তাই এ সড়কের ভাঙা স্থানগুলো সংস্কার করা জরুরি।
বক্সনগর এলাকার বাসিন্দা মো. নান্টু মিয়া বলেন, সামান্য বৃষ্টি হলেই এ সড়কটির বিভিন্ন অংশ ডোবায় পরিণত হয়ে চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ে। ফলে ১ ঘণ্টার রাস্তা যেতে হয় দুই আড়াই ঘণ্টায়। বিভিন্ন শ্রেণীর মানুষকে প্রতিনিয়ত এর জন্য দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

অন্য খবর  দোহারের কাচারীঘাট বাজারে চুরি

এ সড়কে যাতায়াতকারী এক চাকরিজীবী বলেন, সড়কটি সংস্কার না হওয়ার জন্য সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের কর্মকর্তারাই দায়ী। জনদুর্ভোগ কমাতে ঈদের আগে সড়ক সংস্কার জরুরি।
এদিকে বুধবার নবাবগঞ্জ উপজেলা আইনশৃঙ্খলা উন্নয়ন কমিটির সভায় নবাবগঞ্জ-ঢাকা সড়কের বেহাল দশা নিরসনে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করতে কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়। বিভিন্ন পর্যায়ের জনপ্রতিনিধি, এনজিও কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা বলেন, নবাবগঞ্জ-দোহার অঞ্চলসহ আশপাশের বেশ কয়েকটি জেলার মানুষের ঢাকার সঙ্গে যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম এ সড়কটি বড় গর্ত ও খানাখন্দে ভরপুর, যা জরুরি ভিত্তিতে সংস্কার করা প্রয়োজন। তা না হলে ঈদে ঘরমুখো মানুষের দুর্ভোগ বাড়বে।

এ বিষয়ে সওজের কেরানীগঞ্জ সার্কেলের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী সৈয়দ আলম বলেন, জেড কেডির (প্রস্তাবিত জিঞ্জিরা-কেরানীগঞ্জ-দোহার) এ সড়কটির ডিপিপি পাস না হওয়ায় কাজ করা যাচ্ছে না। তবে ঈদের জন্য সওজের উদ্যোগে জরুরি ভিত্তিতে কিছু সংস্কার করা হবে।

 

Comments

comments