ঢাকা জেলা পুলিশ কমিশনারসহ পদক পাচ্ছেন রেকর্ড সংখ্যক ৩৪৯ পুলিশ কর্মকর্তা

55

এবারের পুলিশ সপ্তাহে ভালো কাজের স্বীকৃতি হিসেবে ৩৪৯ জন পুলিশ কর্মকর্তার নাম চূড়ান্ত করা হয়েছে। পুলিশ সদর দপ্তর থেকে পাঠানো নামের তালিকা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় হয়ে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী চূড়ান্ত অনুমোদন করেছেন।

মঙ্গলবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের পুলিশ শাখা থেকে এই প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এবারই প্রথম দেশের সব কটি জেলার পুলিশ সুপার ও ৮ রেঞ্জের ডিআইজি একযোগে পদক পেয়েছেন। অবাধ, সুষ্ঠু ও আন্তর্জাতিক মানের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সম্পন্ন করায় পুরস্কার হিসেবে তাদের পুলিশ পদক দেওয়া হবে। পাশাপাশি পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তাদের নামও আছে তালিকায়। তা ছাড়া সারা বছর দেশের আইন শৃঙ্খলা রক্ষা, সন্ত্রাস ও মাদক দমন করাসহ সাহসিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনকারীদেরও পদক দেওয়া হয়।

আগামী ৪ ফেব্রুয়ারি পুলিশ সপ্তাহে-২০১৯ তাদের এই পদক পরিয়ে দেবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রজ্ঞাপন অনুসারে এবারের পদক সংখ্যা ৩৪৯টি। এর মধ্যে বাংলাদেশ পুলিশ মেডেল (সাহসিকতা) ৪০ জন, বাংলাদেশ পুলিশ মেডেল (সেবা) ১০৪ জন, প্রেসিডেন্ট পুলিশ মেডেল (সাহসিকতা) ৬২ জন ও প্রেসিডেন্ট পুলিশ মডেল (সেবা) ১৪৩ জনের নাম রয়েছে।

পুলিশ সদর দপ্তরের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে বলেন, পুলিশ সপ্তাহ উদ্‌যাপন কমিটি পদকপ্রাপ্তদের নামের তালিকা চূড়ান্ত করে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় হয়ে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর সম্মতি দেওয়ার পর তা প্রজ্ঞাপন আকারে প্রকাশ করা হয়। গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দায়িত্ব পালন ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে যারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন পদক তালিকায় তাদের বেশি প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে।

যাদের পদক দেওয়া হচ্ছে তারা হলেন- র‌্যাব মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ, ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া, অতিরিক্ত আইজিপি (পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স) মইনুর রহমান চৌধুরী, অতিরিক্ত আইজিপি (বরিশাল) মোশারফ হোসেন, অতিরিক্ত আইজিপি (এসবি) মীর শহীদুল ইসলাম, অতিরিক্ত আইজিপি (এইচআরএম) শফিকুল ইসলাম, অতিরিক্ত আইজিপি (টেলিকম) ইকবাল বাহার, র‌্যাবের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশন) কর্নেল আনোয়ার লতিফ খান, র‌্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপস) কর্নেল জাহাঙ্গীর আলম, সিআইডির আব্দুল কাহার আকন্দ, ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন, সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি মো: কামরুল আহসান, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি খন্দকার গোলাম ফারুক, খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি মো: দিদার আহম্মেদ, রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি এম খুরশীদ হোসেন, বরিশাল রেঞ্জের ডিআইজি সফিকুল ইসলাম, পিব্আিই ডিআইজি বনজ কুমার মজুমদার, রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি দেবদাস ভট্টাচার্য, ময়মনসিংহ রেঞ্জের ডিআইজি নিবাস চন্দ্র মাঝি, পুলিশ সদর দপ্তরের ডিআইজি (অপারেশন) আনোয়ার হোসেন, কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের প্রধান ও অতিরিক্ত কমিশনার মনিরুল ইসলাম, রাজারবাগ পুলিশ হাসপাতালের ডিআইজি ড. হাসান-উল-হায়দার, গাজীপুর মেট্রোর কমিশনার ওয়াই এম বেলালুর রহমান, ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মীর রেজাউল আলম, খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মাহবুবুর রহমান, রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার এ কে এম  হাফিজ আক্তার, সিলেট মেট্রো কমিশনার গোলাম কিবরিয়া, রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার আলিম মাহমুদ, ঢাকা জেলার এসপি শাহ মিজান শফি, নারায়ণগঞ্জের এসপি হারুন অর রশীদ, মুন্সীগঞ্জের এসপি যায়েদুল আলম, নরসিংদীর এসপি মিরাজ, টাঙ্গাইলের এসপি সঞ্জিত কুমার রায়, মাদারীপুরের এসপি সুব্রত কুমার হাওলাদার, ময়মনসিংহের এসপি শাহ আবিদ হোসেন, শেরপুরের এসপি আশরাফুল আজিম, সিলেটের এসপি মনিরুজ্জামান, বরিশালের এসপি সাইফুল ইসলাম, ভোলার এসপি মোক্তার হোসেন, রংপুরের এসপি মিজানুর রহমান, দিনাজপুরের এসপি সৈয়দ আবু সায়েম, ঠাকুরগাঁওয়ের এসপি মনিরুজ্জামান, খুলনার এসপি এস এম শফিউল্লাহ, সাতক্ষীরার এসপি সাজ্জাদুর রহমান, বাগেরহাটের এসপি পংকজ চন্দ্র রায়, যশোরের এসপি মঈনুল হক, ঝিনাইদহের এসপি হাসানুজ্জামান, কুষ্টিয়ার এসপি আরাফাত তানভীর, চট্টগ্রামের এসপি নূরে আলম মিনা, নোয়াখালীর এসপি ইলিয়াস শরীফ, ফেনীর এসপি এস এম জাহাঙ্গীর আলম সরকার, কুমিল্লার এসপি সৈয়দ নুরুল ইসলাম, রাজশাহীর এসপি মো: শহিদুল্লাহ, চাঁপাইনবাবগঞ্জের এসপি মোজাহিদুল ইসলাম, নওগাঁর এসপি ইকবাল হোসেন, নাটোরের এসপি সাইফুল্লাহ, বগুড়ার এসপি আশরাফ আলী, সিরাজগঞ্জের এসপি টুটুল চক্রবর্তী, পাবনার এসপি রফিক ইসলাম, কক্সবাজারের এসপি এবিএম মাসুদ হোসেন প্রমুখ। এছাড়াও ডিএমপির মো: জালাল উদ্দিন ও কনষ্টেবল শামিম মিয়াকে মরনোত্তর পদক দেয়া হবে।

অন্য খবর  ১ সেপ্টেম্বর দিঘীরপাড়ে ইছামতীতে নৌকা বাইচ

পুলিশ সদর দপ্তরের একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রতি বছরের ন্যায় এবারও রাজনৈতিক বিবেচনায় পুলিশ সদস্যদের পদক দেয়া হচ্ছে। সারা বছর যারা ভালো কাজ করেছেন তাদের মধ্যে কেউ কেউ পদক থেকে বঞ্চিত হবেন তা সত্য। এখানে পুলিশ সদর দপ্তরের করার কিছু নেই।

জঙ্গি দমন, মাদক উদ্ধার, সড়কে শৃঙ্খলা ফেরানোসহ সরকারবিরোধী রাজনৈতিক কর্মসূচির নামে সহিংসতা মোকাবিলায় যারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দায়িত্ব পালন করেছে তারাও পদক পাবেন। তথ্যপ্রযুক্তির উন্নয়ন ও সেবাধর্মী কাজে যেসব পুলিশ সদস্য দৃষ্টান্তমূলক কাজ করেছেন তাদেরও পদক দেয়া হচ্ছে। এ ছাড়া আগ্নেয়াস্ত্র, মাদক উদ্ধার, চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তারে যারা সফলতা দেখিয়েছেন তাদেরও পদক প্রাপ্তির বিবেচনায় নেয়া হয়েছে।

গত বছর ১৮২ জনকে পদক দেয়া হয়েছিল।

Comments

comments