ঢাকা অঞ্চলের অবকাঠামো উন্নয়নে তোড়জোড়

95
ঢাকা অঞ্চলের অবকাঠামো উন্নয়নে তোড়জোড়

নির্বাচনের আগে রাজধানীসহ আশপাশ জেলার অবকাঠামো উন্নয়নে বড় প্রকল্প হাতে নিয়েছে সরকার। তাতে ব্যয় ধরা হয়েছে এক হাজার ৭৬০ কোটি টাকা। আগামীকাল মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় এ প্রকল্প অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে। পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানায়, বৃহত্তর ঢাকার ছয় জেলার গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নে সরকার উদ্যোগ নিয়েছে। এসব জেলার গ্রামীণ জনগণের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় (এলজিইডি) থেকে একটি প্রস্তাব পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়। তাতে ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ৭৬০ কোটি টাকা।

অনুমোদন পেলে ঢাকার আশপাশের ছয় জেলায় এ অর্থ ব্যয় করা হবে। এর মধ্যে রয়েছে ঢাকা জেলার সাভার, কেরানীগঞ্জ, নবাবগঞ্জ, দোহার ও ধামরাই উপজেলা। মুন্সীগঞ্জের মধ্যে সদর, গজারিয়া, টঙ্গিবাড়ী, লৌহজং, সিরাজদিখান ও শ্রীনগর উপজেলা। মানিকগঞ্জের সদর, সাটুরিয়া, দৌলতপুর, হরিরামপুর, সিঙ্গাইর, ঘিওর ও শিবালয় উপজেলা। নারায়ণগঞ্জ সদর, বন্দর, রূপগঞ্জ, সোনারগাঁ ও আড়াইহাজার উপজেলার নামও রয়েছে এ তালিকায়।

এলজিইডি মন্ত্রণালয় বলছে, গ্রামীণ জনগণের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে বিভিন্ন প্রকল্প চলমান। এরপরও বৃহত্তর ঢাকা জেলার মধ্যে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ, নরসিংদী, গাজীপুর ও মানিকগঞ্জে রাস্তা, ব্রিজ ও কালভার্ট, হাটবাজার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, স্বাস্থ্যকেন্দ্র উন্নয়নের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।

অন্য খবর  দোহার-নবাবগঞ্জ কলেজ জাতীয়করণের দাবিতে মানববন্ধন

এজন্য এলজিইডি মন্ত্রণালয় থেকে বৃহত্তর ঢাকার গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প-৩ নামে একটি প্রকল্পের উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা-ডিপিপি তৈরি করে। তাতে ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ৭৬১ কোটি টাকা। আর বাস্তবায়নকাল ধরা হয় গত জুলাই থেকে ২০২২ সালের জুলাই পর্যন্ত।

কমিশন জানায়, প্রকল্পের প্রধান কাজ ধরা হয়েছে উপজেলা সড়ক উন্নয়ন ১২৫ দশমিক ৬২ কিলোমিটার, ইউনিয়ন সড়ক উন্নয়ন ২৭০ দশমিক ৪৫ কিলোমিটার এবং গ্রাম সড়ক উন্নয়ন করা হবে ১ হাজার ৫৫ কিলোমিটার।

একই সঙ্গে রাস্তা পুনর্বাসন ও মেরামত করা হবে ২৯৬ দশমিক ৩১ কিলোমিটার, গ্রাম সড়কে ব্রিজ ও কালভার্ট নির্মাণ করা হবে ৫ হাজার ২৩৯ মিটার, গ্রাম সড়ক উন্নয়ন আরসিসি করা হবে ৭৮ কিলোমিটার। এছাড়া ৬ জেলায় ১২টি গ্রোথ সেন্টার, হাট-বাজার পুনর্বাসন ও নির্মাণ করা হবে। বৃক্ষরোপণও করা হবে ৫০ কিলোমিটার।

পরিকল্পনা কমিশনে ভৌত অবকাঠামো বিভাগের সদস্য জুয়েনা আজিজ বলেন, অবকাঠামো উন্নয়নে প্রকল্পটি গুরুত্বপূর্ণ। বৃষ্টিসহ বিভিন্ন কারণে অনেক রাস্তা খারাপ হয়ে গেছে। এ অবস্থায় প্রকল্পটি সময় উপযোগী। বাস্তবতা বিবেচনায় প্রকল্পটি একনেকে অনুমোদনের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে।

অন্য খবর  কলেজ মোড় থেকে দুই সোনা চোরাকারবারী আটক

কমিশন সূত্র জানায়, প্রস্তাবিত প্রকল্প যাচাই-বাছাই করতে গত ৩১ জুলাই উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা (পিইসি) সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সার্বিক দিক বিবেচনা করে ১ কোটি টাকা ব্যয় কমিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ১ হাজার ৭৬০ কোটি টাকা।

Comments

comments