ঢাকার দক্ষিণের বেশিরভাগ সড়ক চলাচলের অনুপযোগী

348
কেরানীগঞ্জ থেকে নবাবগঞ্জ, Dhaka

অতি বৃষ্টি আর সংস্কারের অভাবে কেরানীগঞ্জ-নবাবগঞ্জ-দোহার সড়কের বেশিরভাগ অংশেরই বেহাল অবস্থা। প্রধান প্রধান সড়কগুলো গর্ত ও খানাখন্দে ভরা। ফলে যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে। কয়েকটি সড়কে সামান্য বৃষ্টি হলেই হাঁটু পানি জমে যায়। এতে দুর্ভোগে এলাকাবাসী।

সরেজমিন দেখা গেছে, কেরানীগঞ্জ-নবাবগঞ্জ-দোহার সড়কের কার্তিকপুর, বাঁশতলা, চরকুশাই, নবাবগঞ্জ, বাগমারা, দীঘিরপার, বক্সনগর, কালিন্দির বামনকির্তা, রোহিতপুর বেড়িবাঁধ, রামেরকান্দা-কলাতিয়া, আটিবাজার-মালঞ্চ অংশে বড় বড় গর্ত। জিঞ্জিরা-নবাবগঞ্জ সড়কের লাকিরচর এলাকার অবস্থা খুবই নাজুক। খানাখন্দ থাকায় মাঝেমধ্যেই উল্টে যায় গাড়ি-রিকশা। বোরহানীবাগ খাল অবৈধভাবে ভরাটের কারণে পানি সরতে না পারায় মনু বেপারীর ঢাল থেকে বোরহানীবাগ পর্যন্ত রাস্তার বেহাল অবস্থা। স্থানীয়দের অভিযোগ, এর ফলে রাস্তাটি নষ্ট হচ্ছে। এছাড়া গদাবাগ থেকে মইশাশুর কাঁচা রাস্তাটি পানিতে তলিয়ে গেছে। ভাঙাচোরা ও ডুবে যাওয়া রাস্তায় ধীর গতিতে গাড়ি চালাতে গিয়ে প্রায়ই অসহনীয় যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে।

রামেরকান্দা থেকে কলাতিয়া সড়কে গত পাঁচ বছরে কমপক্ষে তিনবার কাজ হয়েও অবস্থার উন্নতি হয়নি। রাস্তাটির অন্তত শতাধিক স্থানে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। রাস্তার উন্নয়ন কাজে যে টাকা বরাদ্দ হয়েছে তার তিন ভাগের এক ভাগও ব্যবহার হয়নি বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেন।

অন্য খবর  দোহারে পিকেটিংয়ে আটক ২, প্রশাসনের কঠোর অবস্থান

বাসচালক সাইদুর রহমান বলেন, ঢাকা-দোহার-নবাবগঞ্জ সড়কের বিভিন্ন স্থানে রাস্তার ইট সরে যাওয়ায় সিএনজি, রিকশাসহ অন্যান্য যানবাহন চলাচল করতে পারছে না। ভাঙাচোরা রাস্তায় গাড়ি চালাতে গিয়ে প্রায়ই অকেজো হয়ে যাচ্ছে। এই রাস্তা দিয়ে আগের তুলনায় কম গাড়ি চলাচল করছে।

সড়ক ও জনপথ বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, সাম্প্রতিক সময়ের অতি বৃষ্টি, ড্রেনেজ লাইন না থাকা, সংস্কারের অভাব, অব্যবস্থাপনা ও ভারি যানবাহন চলাচলের কারণে রাস্তাগুলোর এমন অবস্থা হয়েছে। ড্রেনেজ লাইন না থাকায় বৃষ্টির পানি সরতে না পারায় সড়কে জমে থাকছে। এতে সহজেই রাস্তাগুলোতে ভাঙন ও গর্তের সৃষ্টি হয়। নিয়মিত তদারকি ও সংস্কারের অভাবে সামান্য ভাঙাচোরা রাস্তার অবস্থা পরে আরও খারাপ হচ্ছে। এ ছাড়াও নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ভারি মাল বহনকারী ট্রাক, অনুমোদনবিহীন বাস, লরি চলাচলে অনেক রাস্তা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন খোদ কেরানীগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী।

উপজেলা প্রকৌশল অফিস সূত্র জানায়, কেরানীগঞ্জে রাস্তা রয়েছে ৬১৭ কিলোমিটার। এর মধ্যে ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে ২৮৭ কিলোমিটার রাস্তা তদারকি করা হয়। বাকি রাস্তাগুলো দেখভাল করে সড়ক ও জনপদ বিভাগ এবং এলজিইডি।

অন্য খবর  মুকসুদপুর ইউনিয়নে স্বামী-স্ত্রী দুইজনই মেম্বার

উপজেলা প্রকৌশলী শাজাহান আলী বলেন, কেরানীগঞ্জে নতুন বেশ কিছু রাস্তা তৈরি হয়েছে। রাস্তাগুলোর উন্নয়নও হয়েছে বেশ। তবে সম্প্রতি অতি বৃষ্টি, নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ভারি যানবাহন চলাচলসহ বেশকিছু কারণে অনেক রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বাৎসরিক মেইনটেন্যান্স ফান্ডের মাধ্যমে এগুলো মেরামতের ব্যবস্থা নিতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

নবাবগঞ্জের একজন রাজনৈতিক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, সড়ক বিভাগের কাজগুলো করার সময় কোনো সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ছাড়াই হয়। ড্রেনেজ ব্যবস্থা রাখা হয় না। তার দাবি, এসব রাস্তা নির্মাণের সময় পরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও কাজের মান যাচাই করা উচিত। এটা করা হলে সরকারি খাতের অর্থও সাশ্রয় হবে।

এ ব্যাপারে সড়ক ও জনপথ বিভাগের মুন্সীগঞ্জ অঞ্চলের নির্বাহী প্রকৌশলী তারেক ইকবাল বলেন, জরুরি সংস্কারের আওতায় দ্রুত কাজ করার ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। কিছু রাস্তার কাজ বাকি রয়েছে। অনেক রাস্তার টেন্ডার হয়েছে। বৃষ্টির কারণে কাজ শুরু করা যাচ্ছে না।

Comments

comments