ডায়নামাইটসে উড়ে গেল টাইটাইনসরা

45
ডায়নামাইটসে উড়ে গেল টাইটাইনসরা

 

খুলনার ইনিংসের তখনও প্রায় ১২ ওভারেরও বেশি বাকি। সিলেটের গ্যালারি থেকে লাইন ধরে বেরুতে শুরু করে দিয়েছেন দর্শকেরা, ফাঁকা হয়ে গেছে অর্ধেকেরও বেশি। ম্যাচের ফল কী হচ্ছে, তা নিয়ে যে তখন সংশয় নেই কারও। প্রথম ১০ ওভারেই নিশ্চিত হয়ে গেছে, খুলনা হারছে বড় ব্যবধানে। শেষ পর্যন্ত সেটিই হয়েছে সত্যি,  ৬৫ রানের বড় ব্যবধানে জিতেই প্রথম ম্যাচে হারের দুঃখ ভুলেছে ঢাকা।

ম্যাচের ফলটা আসলে অনেকটা লেখা হয়ে গেছে ঢাকার ইনিংসেই। আরেকটু নির্দিষ্ট করে বললে, আসলে লেখা হয়ে গেছে ঢাকার ১৫ ওভারে। এভিন লুইস ও ক্যামেরন ডেলপোর্ট যেভাবে ব্যাট করছিলেন, তাতে ২৩০-২৪০ও অসম্ভব মনে হচ্ছিল না। আর বিপিএলের ইনিংসের সর্বোচ্চ ২১৭ রান তো তখন মনে হচ্ছিল খুবই সম্ভব।

প্রথম তিন ওভারে অবশ্য এমন কোনো ঝড়ের পূর্বাভাস পাওয়া যায়নি। ঢাকার রান তখন ২২। এরপর শুরুটা করলেন কুমার সাঙ্গাকারা, শফিউলের প্রথম পাঁচ বল থেকে নিলেন ১৫ রান। প্রতিশোধ অবশ্য ওই ওভারেই নিলেন শফিউল, শেষ বলে ফেরালেন সাঙ্গাকে।

কিন্তু এরপর যে ঝড় শুরু হলো, সেটা একেবারেই এলোমেলো করে দিল খুলনাকে। ধনঞ্জয়ার পরের ওভার থেকে লুইস নিলেন ১৫ রান। ৩১ বলেই ফিফটি পেয়ে গেলেন লুইস, আভাস দিচ্ছিলেন আরও বড় কিছুর।

অন্য খবর  ক্রিকেট যুক্ত হচ্ছে অলিম্পিকে

এতক্ষণ ডেলপোর্ট ছিলেন দর্শকের ভূমিকায়। কিন্তু এরপর তিনিও শুরু করলেন প্রলয়নাচন। খুলনার তখন ‘একে রামে রক্ষা নেই তায় আবার সুগ্রীব দোসর’ অবস্থা। ডেলপোর্ট মাত্র ২১ বলেই করলেন ফিফটি, বিপিএলে এই মৌসুমে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে দ্রুততম। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি তোপ গেছে মোশাররফ রুবেলের ওপর। তাঁর ওপরে এসেছে ২১ রান, এর মধ্যে ১৮ রানই ডেলপোর্টের। পরে মোশাররফকে আর বোলিংয়ে আনার সাহসই করেননি মাহমুদউল্লাহ।

ওদিকে লুইস-ডেলপোর্টের ঝড় তখন চলছেই। ১৩ ওভারেই উঠে গেছে ১৫৪ রান, দুজনের জুটিতে এসেছে ১১৬ রান। বাকি তখনও সাত ওভার, ৭০ হলেও ঢাকার রান হয়ে যায় বিপিএলের সর্বোচ্চ।

তখনই খুলনা যেন সম্বিত ফিরে পেল। লুইস-ডেলপোর্ট ফিরে গেলেন দ্রুত, শফিউলের দারুণ এক ক্যাচে ১ রানেই ফিরলেন সাকিব। মারতে গিয়ে টাইমিংয়ের গড়বড় করে ৫ রানে ফিরলেন পোলার্ড।  ১১ রানের মধ্যে চার উইকেট হারিয়ে বসল ঢাকা।

এরপর যখন ২০০ নিয়েই সংশয়, পিঞ্চ হিটার বনে যাওয়া সুনীল নারাইনের ১১ বলে ১৬ রানে ২০০ রান পারল ঢাকা। ২০১৩ সালের পর এই প্রথম বিপিএলে ২০০ রান করল কোনো দল।

অন্য খবর  অবশেষে কলকাতায় পাকিস্তানি ক্রিকেট দল

পাহাড় টপকানোর লক্ষ্য নিয়ে শুরুতেই হোঁচট খেল খুলনা, দ্বিতীয় ওভারেই মাত্র ৫ রান করে আউট হয়ে গেলেন শান্ত। প্ল্যান বি থেকেই কার্লোস ব্র্যাথওয়াইটকে আগেভাগেই পাঠিয়ে দিল খুলনা। কিন্তু ফাটকায় লাভ হলো না, প্রথম বলেই এলবিডব্লু হয়ে সাকিবের বলে ফিরে গেলেন। ওয়ালটন চ্যাডউইক একটু আশা দেখাচ্ছিলেন, কিন্তু  ১৩ বলে ৩০ রানও করে ফেলেছিলেন। কিন্তু সাকিবের ওভারে চার-ছয়ের পরেই সাঙ্গারা দুর্দান্ত একটা ক্যাচ হয়ে আউট হয়ে গেলেন। নিভু নিভু হয়ে গেল খুলনার আশার প্রদীপ।

তখনও রাইলি রুশো ছিলেন, ১৪ বলে ২৩ রানও করে ফেলেছিলেন। কিন্তু শহীদের বলে রুশোর বোল্ডে নিভে গেল খুলনার আশার প্রদীপ। মাহমুদউল্লাহ অবশ্য তার আগেই ফিরে গেছেন ৪ রান করে। এরপর জোফ্রি আর্চারের ৩৬ রানের ইনিংসটা শুধু পরাজয়ের ব্যবধানই কমিয়েছে।

ঢাকা ডায়নামাইটস ২০ ওভারে ২০২/৭ (লুইস ৬৬, ডেলপোর্ট ৬৪; জায়েদ ২/২৯, শফিউল ২/৪১)

খুলনা টাইটানস ১৮.১ ওভারে ১৩৭ ( আর্চার ৩৬, ওয়ালটন ৩০, রুশো ২৩; )

ফলঃ ঢাকা ৬৫ রানে জয়ী

Comments

comments