ডাকসুতে ভিপি-জিএস-এজিএস পদে আলোচনায় যারা

98
ডাকসু

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকে ছাত্র নেতাদের তুমুল দৌড়ঝাঁপ শুরু হয়েছে। প্রার্থী হতে রাত-বিরাত পর্যন্ত মূল দল ও ছাত্র সংগঠনের শীর্ষ নেতাদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন তারা।

কেন্দ্রীয় ও হল সংসদের প্রধান তিন পদ ভিপি, জিএস ও এজিএসের জন্যই লবিং-তদবির বেশি। এ তিন শীর্ষ পদে প্রার্থী হতে না পারলে অন্তত ২২ সদস্যের ছাত্র সংসদের যে কোনো একটি গুরুত্বপূর্ণ পদে মনোনয়ন বগলদাবা করার চেষ্টাও রয়েছে অনেকের মধ্যে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্রিয়াশীল বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে পরিচিতি আছে, নেতিবাচক কর্মকাণ্ডে জড়ানোর রেকর্ড নেই, ফল ভালো এবং সাংগঠনিক প্রজ্ঞার অধিকারীদেরই ভিপি-জিএস-এজিএস পদে ভাবা হচ্ছে।

পাশাপাশি আদর্শিক মিল আছে- এমন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের শীর্ষ নেতাদেরও নেয়া হতে পারে প্যানেলে। হল সংসদ শাখার বর্তমান কমিটির শীর্ষ নেতা এবং যারা নতুন করে শীর্ষ পদপ্রত্যাশী তারা অগ্রাধিকার তালিকায়।

প্যানেলে চমক রাখার চেষ্টা করছে সংগঠনগুলো। জোটগতভাবে ভোটে অংশ নেয়া ছাড়াও ৫টি ছাত্রী হলের প্রায় ১৫ হাজার নারী ভোটারকে টার্গেট করে পর্যাপ্তসংখ্যক ছাত্রী, ১৬ হাজারের মতো অনাবাসিক ভোটারের কথা চিন্তা করে হলের বাইরের শিক্ষার্থীদেরও প্যানেলে রাখার কথা ভাবা হচ্ছে। অঞ্চলভিত্তিক ভোট টানার বিষয়টিও মাথায় রাখা হচ্ছে।

ছাত্রলীগ ১৪ দলের ছাত্র সংগঠনগুলোকে সঙ্গে নিয়ে ভোটযুদ্ধে নামবে। এ লক্ষ্যে ছাত্রমৈত্রী, ছাত্র আন্দোলন, জাসদ ছাত্রলীগ, ছাত্রলীগ (বিসিএল) ও ছাত্র সমিতির সঙ্গে কথাবার্তা চলছে।

এদিকে ছাত্রদল এককভাবে নির্বাচনে আসতে পারে। তবে জোটবদ্ধ হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেয়নি সংগঠনটি। এ ক্ষেত্রে সাম্রাজ্যবাদবিরোধী ছাত্রঐক্য ও প্রগতিশীল ছাত্রজোট মিলে প্যানেল করতে পারে ছাত্রদল। প্রগতিশীল ছাত্রজোটে ৬টি সংগঠন রয়েছে।

ছাত্রলীগ:  ডাকসু নির্বাচনের জন্য প্রশাসন ছাত্র সংগঠনগুলোর যে ৫২ শীর্ষ নেতাকে চিঠি দিয়েছে, তাদের মাত্র ছয়জন নিয়মিত অনার্স ও মাস্টাসের্র ছাত্র। বাকিদের বড় একটি অংশ সান্ধ্যকালীন কোর্স, স্পেশাল মাস্টার্সসহ বিভিন্ন কোর্সে ভর্তি আছেন।

মূলত এদের মধ্য থেকেই ভিপি-জিএস পদে প্রার্থী দেয়ার চিন্তা করা হচ্ছে। সূত্র জানায়, ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় এবং ঢাবি শাখার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকরা আইন বিভাগের শিক্ষার্থী। তাদের বয়সও ৩০-এর মধ্যে। ফলে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন, সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি সনজিত চন্দ্র দাস ও সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসাইনকে ভিপি-জিএস পদে ভাবা হচ্ছে। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সদ্যবিদায়ী কমিটির সাধারণ সম্পাদক মোতাহার হোসেন প্রিন্সও আলোচনায় আছেন।

অন্য খবর  ‘খালেদাকে মেরে ফেলার মানসিকতা সরকারের নেই’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি সনজিত চন্দ্র দাস বলেন, প্যানেল গঠনে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের সমন্বয়ে মনোনয়ন বোর্ড হবে। তারাই প্রার্থী চূড়ান্ত করবেন। মেধাবী, ক্লিন ইমেজ এবং ছাত্রবান্ধব নেতারাই আসবে প্যানেলে।

ছাত্রদল:  ৩০ বছর পেরিয়ে যাওয়ায় ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় ও ঢাবি শাখার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকরা প্রার্থী হতে পারবেন না। ফলে ছাত্রদলকে প্যানেল গঠনে বেগ পেতে হবে। ছাত্রদলের সাত শতাধিক সদস্যের কেন্দ্রীয় কমিটির বেশিরভাগেরই বয়স ৩০-এর বেশি।

ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি রাজিব আহসান ১৯৯৫-৯৬ শিক্ষাবর্ষে ঢাবি বাংলা বিভাগে ভর্তি হন, সাধারণ সম্পাদক আকরামুল হাসান অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগে ভর্তি হন ১৯৯৭-৯৮ শিক্ষাবর্ষে।

বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি আল মেহেদী তালুকদার ২০০২-০৩ শিক্ষাবর্ষে অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগে, সাধারণ সম্পাদক আবুল বাশার ২০০৩-০৪ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি হন তৎকালীন সংস্কৃত ও পালি বিভাগে ভর্তি হন।

ছাত্রদলের প্যানেলের বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাবির ছাত্রদল সভাপতি আবুল বাশার সিদ্দিকী বলেন, প্রশাসন ছাত্রলীগের দাবি অনুযায়ী গঠনতন্ত্র প্রণয়ন করেছে। প্রার্থিতা যোগ্যতা নির্ধারণ করা হয়েছে তাদের কথা চিন্তা করেই। তবু আমরা খোঁজখবর নিচ্ছি। বিশ্ববিদ্যালয় ও হলপর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে কথা বলছি। তফসিল হলে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। গ্রহণযোগ্যতা আছে, বিগত দিনে রাজনীতিতে সক্রিয় ছিল, ছাত্রবান্ধব, মেধাবী শিক্ষার্থীদেরই প্যানেলে রাখা হবে।

ছাত্র ইউনিয়ন: প্রগতিশীল ছাত্রজোটের সংগঠনগুলোর মধ্যে ছাত্র ইউনিয়নের চার নেতার মধ্যে তিনজনই ঢাবি শিক্ষার্থী। এদের মধ্যে কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক লিটন নন্দী, ঢাবি শাখার সভাপতি ফয়েজ উল্লাহ, সাধারণ সম্পাদক রাজীব দাস প্রার্থী হতে পারেন। লিটন নন্দী বলেন, আমরা একটি বৃহত্তর প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক ঐক্যজোট গড়ে তুলব। সঙ্গে প্রগতিশীল বিতার্কিক ও খেলোয়াড়রাও থাকবে আমাদের প্যানেলে।

সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট: বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) সমর্থিত সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের কেন্দ্রীয় ও ঢাবি শাখার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের চারজনের মধ্যে তিনজনই ঢাবির নিয়মিত ছাত্র নয়। একমাত্র ছাত্রফ্রন্টের ঢাবি শাখার সাধারণ সম্পাদক রাজীব গান্ধী রায় প্রার্থী হতে পারবেন।

অন্য খবর  লন্ডনে ছাত্রদলের ভাগ্য নির্ধারণঃ আলোচনায় ভিপি কামালও

বাসদ (মার্কসবাদী) সমর্থিত সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের কেন্দ্রীয় সভাপতি ছাড়া অন্য তিনজন ঢাবির সাবেক ও বর্তমান ছাত্র। এদের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের সভাপতি সালমান সিদ্দিকীর স্নাতকোত্তর চলছে। ফলে তিনি প্রার্থী হতে পারেন। আর কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক রাশেদ শাহরিয়ারের বয়স ৩০ ছাড়িয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক প্রগতি বর্মণ তমার মাস্টার্স শেষ এবং অন্য কোথাও ভর্তি নেই। ফলে তিনি প্রার্থী হতে পারছেন না।

ছাত্র ফেডারেশন:  ছাত্র ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মিত শিক্ষার্থী নন। ঢাবি শাখার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। সংগঠনটির বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি উম্মে হাবিবা বেনজীর মাস্টার্স শেষ এবং অন্য কোথাও ভর্তি নেই। ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল হক ইশতিয়াক ঢাবি আইন বিভাগের ছাত্র। তিনি প্রার্থী হওয়ার যোগ্য।

জাসদ ছাত্রলীগ:  জাসদ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক দুজনই ঢাকা কলেজের ছাত্র। ফলে তারা প্রার্থী হতে পারছেন না। আর বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি মাসুদ আহমদ ও সাধারণ সম্পাদক চন্দ্রনাথ পাল ঢাবি শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে চন্দ্রনাথের পড়াশোনা শেষ হওয়ায় প্রার্থী হতে পারছেন না।

এখানে যোগ্য প্রার্থী কেবল মাসুদ। জাসদ (আম্বিয়া) সমর্থিত বাংলাদেশ ছাত্রলীগ-বিসিএলের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মিত শিক্ষার্থী নয়। সংগঠনটির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি সাদেকুর রহমান সাগর ও সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান রাহাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মিত শিক্ষার্থী।

ফলে তারা প্রার্থী হতে পারবেন। বাংলাদেশ ছাত্রমৈত্রীর কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ঢাবির ছাত্র নন। বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক রুদ্র রফিকুল্লাহ রাব্বী এবং যুগ্ম আহ্বায়ক মো. রাসেল ঢাবির শিক্ষার্থী। তারা প্রার্থী হতে পারেন।

ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী ১১ মার্চ সকাল ৮টা থেকে বেলা ২টা পর্যন্ত হলে হলে ভোটগ্রহণ চলবে। অনার্স, মাস্টার্স, এমফিলের ছাত্রছাত্রী ছাড়াও ৩০ বছর বয়সী একাধিক মাস্টার্স, সান্ধ্যকালীন ও অন্যান্য কোর্সের শিক্ষার্থীরাও ভোটার ও প্রার্থী হতে পারবেন- এ সিদ্ধান্তের পর থেকেই প্যানেল নির্ধারণে কাজ শুরু করেছে ছাত্র সংগঠনগুলো।

Comments

comments