টানা বৃষ্টিতে লৌহজংয়ে আলু চাষে ব্যাপক ক্ষতি

355

৩ দিনের টানা বৃষ্টিতে লৌহজং উপজেলার চরাঞ্চলসহ নিন্ম এলাকা প্লাবিত হয়ে আলু ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এ উপজেলার কয়েক হাজার কৃষক এখন সর্বস্বান্ত। লগ্নি করে এবং সুদে টাকা এনে আলু ফসল রোপণ করেছেন কৃষকরা। সেই আলু এখন কৃষকের গলার কাটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ৩ দিনের টানা বৃষ্টি ও শিলাবৃষ্টিতে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে লৌহজংয়ের প্রধান অর্থকরী ফসল আলু ফসলের। খিদিরপাড়া গ্রামের কৃষক হাজী দেলোয়ার হোসেন শিকদার জানান, ৩৩ বছরে চারবার এ আলু ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। তিনি জানান, ৮৪ সালে ব্যাপক বৃষ্টির কারণে, এরপর ৮৯, ৯৪ এবং সর্বশেষ এ বছর প্রবল বৃষ্টি আর শিলের কারণে জমিতে পানি জমে আলুর পচন ধরায় এ ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

উপজেলার খিদিরপাড়া এলাকায় ১ হাজার ৬ হেক্টর জমিতে আলু ফসলের চাষ করা হয়েছে, যা এখন প্রবল বৃষ্টির কারণে পানির নিচে। শুক্রবার রাতে ও শনিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত অঝোরে বৃষ্টি থাকায় নিন্মাঞ্চল ও চর এলাকা আলুর জমিতে পানি জমে যায়। শনিবার সকালে সরেজমিন দেখা যায়, খিদিরপাড়া গ্রামের কৃষক সেরাজল হক, আবদুল মালেক দেওয়ান, আতাউর রহমান হাওলাদার, আসলাম দেওয়ান তাদের জমি থেকে বালতি, বাটি দিয়ে পানি সেচ করছেন। এদিকে লৌহজংয়ের চর এলাকায় পানি সেচের মেশিন লাগানো হয়েছে ৮ থেকে ১০টি আলুর জমির পানি নিষ্কাশনের জন্য। খিদিরপাড়া গ্রামের কৃষক বাহার উদ্দিন তালুকদার জানান, তিনি পনেরো কানি জমিতে আলু রোপণ করেছেন, এখন তা সম্পূর্ণই পানির নিচে। তার মতো এমন অনেক কৃষক এখন সর্বস্বান্ত হয়েছেন। কৃষক জুয়েল শেখ, সেরাজল হক মোল্লা জানান, স্ত্রীর গয়না বন্ধক রেখে এবং এনজিও থেকে লোন নিয়ে আলু রোপণ করেছেন, তা সবই এখন পানির নিচে। গত ১১ মার্চ শনিবার উপজেলার খিদিরপাড়া গ্রামের এই আলু ফসলের ব্যাপক ক্ষতির খবর পেয়ে মুন্সীগঞ্জ জেলা কৃষি বিভাগের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা হুমায়ুন কবীর, লৌহজং উপজেলা উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা আবদুর রহিম ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা ঘুরে দেখেন।
তারা জানান, আর সহজে বৃষ্টি না হলে এবং দ্রুত রোদ উঠলে আলু ফসলের ক্ষতির পরিমাণটা কম হবে।

অন্য খবর  টাকা ফেরত দিতে ক্যাসিনো মালিকদের চাপ

 

Comments

comments