জেলা প্রশাসক হাসিনার দুর্নীতি তদন্তে দুদক

214

ঢাকা জেলা পরিষদ প্রশাসক হাসিনা দৌলার দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তে সমবায় মন্ত্রণালয়ের কাছে তথ্য চেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। বিভিন্ন ভুয়া প্রকল্পের নামে ১০০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ অনুসন্ধানে পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-সচিবের (জেলা পরিষদ অধিশাখা) কাছে বৃহস্পতিবার দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

অনুসন্ধান কর্মকর্তা ও দুদকের উপপরিচালক মো. তৌফিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে আগামী ১৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে চাহিদা অনুসারে তথ্য সরবরাহ করতে বলা হয়েছে। দুদকের একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে।

চিঠির বিষয়ে দুদক সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের ৯ মার্চ ঢাকা জেলা পরিষদের প্রশাসক হাসিনা দৌলা ও বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে ১৭ পৃষ্ঠার এক তদন্ত প্রতিবেদন দুদকে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পাঠানো হয়। এরপর স্থানীয় সরকার বিভাগের যুগ্ম-সচিব ৪৮৪ পৃষ্ঠার আরেকটি তদন্ত প্রতিবেদন বিভাগের সচিবের কাছে দাখিল করেছেন। তাই চিঠিতে ৪৮৪ পৃষ্ঠার ওই তদন্ত প্রতিবেদনের সত্যায়িত কপি স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-সচিবকে দুদকে সরবরাহ করতে অনুরোধ করা হয়েছে।

একই সঙ্গে অধিকন্তু চেক রেজিষ্টার ও বোয়াইল ধামরাইয়ের মাহবুবুর রহমান (মনি) কর্তৃক চেক গ্রহণ সংক্রান্ত রেজিষ্টার ও সংশ্লিষ্ট রেকর্ডপত্রের সত্যায়িত কপিও জেলা পরিষদের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার কাছে চাওয়া হয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে দুদক সূত্রে জানা যায়, হাসিনা দৌলার বিরুদ্ধে ২০১১-১২, ২০১২-১৩ ও ২০১৩-১৪ অর্থবছরে বিভিন্ন ভুয়া প্রকল্পের মাধ্যমে শত কোটি টাকার বিল ছাড়ের অভিযোগ রয়েছে।

অন্য খবর  রাজনীতিকরা গোয়েন্দা অফিসে আত্মসমর্পণ করেন;কাদের

অভিযোগে বলা হয়, জেলা প্রশাসক হাসিনা দৌলার স্থানীয়ভাবে কথিত পিএস বোয়াইল ধামরাইয়ের মাহবুবুর রহমান (মনি) বিভিন্ন পিআইসি’র সভাপতির নামে এবং তার নিজ নামে স্বাক্ষর করে ১ হাজার ৫০টি চেকের মাধ্যমে মোট ৯ কোটি ৭৬ লাখ ৩৮ হাজার ২৫০ টাকা গ্রহণ করেন। ২০১৩ সালের ১ জুলাই থেকে ২০১৪ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত এক বছরে তিনি এ চেকগুলো তুলেছেন। অন্যান্য বছরেও অনুরূপ চেক গ্রহণ করেছেন তিনি। এছাড়া পিআইসি’র মাধ্যমে বাস্তবায়িত ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র প্রকল্পগুলোয় ব্যাপক দুর্নীতি ও লুটপাট হয়েছে।

সূত্র আরো জানায়, ২০১২-১৩ অর্থবছরে ২৩ লাখ টাকা প্রাক্কলিত মূল্যের ঢাকার নবাবগঞ্জের ‘যন্ত্রাইল কবরস্থান উন্নয়ন’প্রকল্পের জন্য একটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়। এ কাজ পায় মেসার্স ফারুক অ্যান্ড ব্রাদার্স। যেখানে কোনো কাজ না করেই প্রায় দেড় বছর আগেই প্রথম চলতি বিলে কাজের ৭৯ শতাংশ অর্থাৎ ১৭ লাখ ২১ হাজার টাকা পরিশোধ করা হয়।

২০১২-১৩ অর্থবছরে ১০ লাখ টাকা প্রাক্কলিত মূল্যের ঢাকার নবাবগঞ্জ ‘অফিসার্স ক্লাব সংস্কার’প্রকল্পে ঠিকাদার হিসেবে কাজ পাওয়া মেসার্স প্রগ্রেসিস এন্টারপ্রাইজ সংস্কার কাজ না করেই জেলা পরিষদ থেকে চূড়ান্ত বিল নিয়ে নেয় তার সহায়তায়।

২০১২-১৩ অর্থবছরে ২৬ লাখ টাকা প্রাক্কলিত মূল্যের নবাবগঞ্জ আধুনিক মার্কেট মেরামত প্রকল্পের ঠিকাদার মেসার্স স্বর্ণা এন্টারপ্রাইজ সরকারি বিভিন্ন বিধিবিধান লঙ্ঘন করা সত্ত্বেও তারই সহায়তায় বিরাট অঙ্কের অর্থ লোপাট করে।

অন্য খবর  দুর্ভোগের নাম নবাবগঞ্জ শোল্লা দৌলতপুর সড়ক

২০১১-১২ অর্থবছরে ও ২০১২-১৩ অর্থবছরে নবাবগঞ্জ ‘তুইতাল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের অডিটরিয়াম নির্মাণ’প্রকল্পের যথাক্রমে অংশ-১ ও অংশ-২ এর জন্য পৃথকভাবে ৪০ লাখ টাকা করে মোট ৮০ লাখ টাকার দুটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়। এ ক্ষেত্রে প্রকল্পে বড় ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতি হয়েছে।

এছাড়া নবাবগঞ্জ উপজেলার আগলা মাঝপাড়া ২ লাখ টাকার যুব সংঘ উন্নয়ন প্রকল্পে, নবাবগঞ্জ উপজেলার চৌকিঘাটায় ২ লাখ টাকার কবরস্থান উন্নয়ন প্রকল্পে কোনো কাজ না করেই অর্ধেক টাকা অগ্রিম পরিশোধ করা হয়েছে। ঢাকা জেলা পরিষদ ‘শ্রীশ্রী পাগলনাথ মন্দির ও ওই দেবীর মন্দির’নামে দুটি মন্দিরের উন্নয়নের নামে চার লাখ টাকা আত্মসাত হয়েছে।

এভাবে ২০১১-১২, ২০১২-১৩ ও ২০১৩-১৪ অর্থবছরে গালিমপুর ইউনিয়নের নৌয়াদ্দা ভূঁইয়া হাটি ফুটবল ক্লাব, মণ্ডলপাড়া সর্বজনীন দুর্গামন্দির, শ্রীশ্রী গঙ্গাদেবীর মন্দিরের সংস্কার ও উন্নয়ন এবং নবাবগঞ্জ বক্সনগর ইউনিয়ন পরিষদের বন্ধনপাড়া যুবসংঘ, বন্ধনপাড়া প্রগতি সংঘ, কমরগঞ্জ খেলার মাঠ, বন্ধনপাড়া শ্মশানঘাটের উন্নয়নে নামে চার লাখ টাকা করে বরাদ্দ দেখিয়ে পুরো অর্থ লোপাট করা হয়েছে। এভাবে বিভিন্ন প্রকল্পে শত কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া যায়।

স্থানীয় মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম-সচিব (উন্নয়ন) সৌরেন্দ্র নাথ চক্রবর্ত্তীর নেতৃত্বে গঠিত তদন্ত কমিটির রিপোর্টে ওই অভিযোগের সত্যতা মিলেছে।

Comments

comments