জুভেন্টাসকে বিদায়ের শঙ্কায় ফেলে দিল অ্যাটলেটিকো

39
জুভেন্টাস

দারুণ প্রথমার্ধে দুইদলের টেক্কা দিয়েছে সমান তালে। তারপর দ্বিতীয়ার্ধে দুর্দান্তভাবে জুভেন্টাসকে ছাপিয়ে গেছে অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ। অ্যাটলেটিকোর দুই ডিফেন্ডার রক্ষণের পর আক্রমণেও রাখলেন ভূমিকা। দুই উরুগুয়াইয়ানের দুই গোলে ওয়ান্ডা মেট্রোপলিটানোতে সমর্থকেরা উপহার পেয়েছে এক ওয়ান্ডার নাইটের। চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ ষোলর প্রথম লেগে ২-০ গোলের জয়ে তুরিনের ম্যাচে অনেকটাই এখন এগিয়ে থাকল অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ।

ওয়ান্ডা মেট্রোপলিটানো বরাবরই দুর্গ অ্যাটলেটিকোর। ঘরের মাঠে শেষ ২১ ম্যাচে মাত্র একবার এ মাঠে হেরেছে তারা। আর ২০১৪ সালের পর নক আউট পর্বের কোনো ম্যাচে এই মাঠে গোলও হজম করেনি অ্যাটলেটিকো। কিন্তু প্রতিপক্ষ যখন জুভেন্টাস তখন এসব পরিসংখ্যান ধোপে টিকছিল না ঠিক সেভাবে। অ্যাটলেটিকোকে শুরুতেই সেটা টের পাইয়ে দিয়েছিলেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। ৮ মিনিটেই ফ্রি কিক থেকে কাঁপিয়ে দিয়েছিলেন ইয়ান অবলাককে। কয়েক মিনিট পর কর্নার থেকেই লিওনার্দো বনুচ্চি দারুণ একটি সুযোগ পেয়েছিলেন। কিন্তু হেডটা নিচে রাখতে পারেননি তখন।

দুই দলের মূল ভীত নির্ভুল রক্ষণ। প্রথমার্ধের বাকিটা সময় সেটা বোঝা গেল খুব ভালো মতোই। আক্রমণে অ্যাটলেটিকোকে বেশি সপ্রতিভ মনে হলেও নিশ্চিত গোলের সুযোগ কমই পেল তারা। ২৭ মিনিটে অবশ্য পেনাল্টি পেয়ে গিয়েছিল অ্যাটলেটিকো। ডি শিলিও নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পড়ে গিয়েছিলেন ডিয়েগো কস্তার ওপর। কিন্তু রেফারির সিদ্ধান্ত পরে বদলেছে ভিএআরের পরামর্শে। ফাউলটা হয়েছিল ডিবক্সের সামান্য বাইরে। পেনাল্টির বদলে পাওয়া ফ্রি কিকটাও অবশ্য আরেকটু হলেই গোলে পরিণত হতে পারত। অ্যান্টোয়ান গ্রিযমানের বুদ্ধিদীপ্ত ফ্রি কিকে চমকে গিয়েছিলেন ভোজায়িক সেজনি। চমকে গেলেও অবশ্য ক্ষতি হতে দেননি দলের, শক্ত হাতেই পরে ফিরিয়েছিলেন সেই শট। প্রথমার্ধে এরপর বাকিটা সময়ে দুইদলের ডিফেন্ডাররাই নির্ভুল খেলে আর বলার মতো কোনো আক্রমণই হতে দেয়নি ম্যাচে। শেষ ষোলর বাকি ৬ ম্যাচের মতো এটার প্রথমার্ধও তাই গোলশূন্য!

অন্য খবর  রাজশাহীর বিপক্ষে ঘুরে দাঁড়াতে মরিয়া খুলনা

মাদ্রিদের এ মাঠেই হবে এবারের চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনাল। ঘরের মাঠের সমর্থকদের সেই ম্যাচে ঘরের দলকে সমর্থন দেওয়ার আকাঙ্ক্ষা কতোটা প্রবল তা প্রথমার্ধেই বোঝা গেছে। বিরতির পর ডিয়েগো সিমিওনে যেন আরও তাতিয়ে দিলেন ঘরের সমর্থকদের। আর মাঠে তাতে দেখা মেলে আরও উজ্জীবিত এক অ্যাটলেটিকোর।

সিমিওনের একাদশে অবশ্য চমক ছিল। ডিয়েগো কস্তাকে হুট করেই সুযোগ দিয়েছিলেন দলে। কস্তা ম্যানেজারের ভরসার প্রতিদানটাও প্রায় দিয়েই দিচ্ছিলেন। ৫০ মিনিটে মিডফিল্ড থেকে পাওয়া পাসে গোলরক্ষকের সঙ্গে ওয়ান অন অনে চলে গিয়েছিলেন ডিবক্সের ভেতর। ফিনিশটাই কেবল বাকি ছিল, কিন্তু সেই জায়গা থেকেও কস্তা মেরেছেন বাইরে দিয়ে। মেট্রোপলিটানোর হাজার হাজার সমর্থকদের সঙ্গে ডাগ আউটে সিমিওনেরও মাথায় হাত পড়েছে তাতে।

সিমিওনেকে আফসোস ভোলার মোক্ষম উপলক্ষ্য এনে দিচ্ছিলেন কস্তার স্ট্রাকিং পার্টনার। থ্রু বল ধরে এগিয়েছিলেন তিনিও। ডিবক্সের ঠিক বাইরে থেকে এরপর গ্রিযমান সেজনির মাথার ওপর দিয়ে মারলেন লব শট। কিন্তু সেজনির ফিঙ্গারটিপ সেভ সেই বলকে গোলে পরিণত হতে না দিয়ে ক্রসবারে গিয়ে আছড়ে ফেলল। ফিরতি বল জর্জিও কিয়েলিনি ক্লিয়ার করে কস্তাকে দ্বিতীয় সুযোগটি দিলেন না ৫৩ মিনিটে।

কস্তা এর কিছুক্ষণ পরই মাঠ ছাড়েন আলভারো মোরাতার বদলি হয়ে। সাবেক জুভেন্টাস স্ট্রাইকারের অ্যাটলেটিকোর জার্সিতে গোলের অপেক্ষা ঘোচেনি আজও। তবে মোরাতার একটি মুহুর্ত ভিএআর নিয়ে নিশ্চিতভাবে নতুন করে দ্বন্দ্ব শুরু করে দেবে। ৭০ মিনিটে হেডে গোল করেছিলেন মোরাতা। কিন্তু রিয়াল মাদ্রিদের মতো এখানেও পরে উদযাপনটা দীর্ঘস্থায়ী হয়নি স্প্যানিশ স্ট্রাইকারের। এবারও জমা থাকল বিতর্ক। কিয়েলিনিকে ফাউল করার অপরাধে ভিএআরের পরামর্শে নিজে আরেকবার রিপ্লে দেখে সিদ্ধান্ত বদলালেন রেফারি। তাতে অ্যাটলেটিকো সমর্থকেরা রাগে ফুঁসতে থাকল আরও!

অন্য খবর  পিএসজিতে বিধ্বস্ত রিয়াল, জুভেন্টাস-অ্যাতলেতিকোর ড্র

সেই ভাবাটা কাজেও আসল। হোসে মারিয়া হিমেনেজের গোলের পর অমন বুনো উদযাপনও হয়ত সে কারণেই। ৭৮ মিনিটে ডিবক্সের ভেতর জটলার ভেতর থেকে পাওয়া বলে শট করে হিমেনেজই গোল আদায় করে আনেন। সেটপিস আরও একবার জুভেন্টাসের দুর্দশার কারণ হয় ৮৩ মিনিটে।  গডিন হেড করেছিলেন প্রথমে, সেটা মারিও মাঞ্জুকিচ ক্লিয়ার করেও আবার পাঠিয়েছিলেন গডিনের কাছেই, এরপর পা দিয়েই বাকি কাজ সারেন অ্যাটলেটিকো অধিনায়ক। মোরাতার ওই গোল নিয়ে তাই আফসোস করার সুযোগ কমই পাচ্ছেন অ্যাটলেটিকো ম্যানেজার।

ম্যাচের বাকি সময়ে অবশ্য জুভেন্টাসের কাছে অন্তত একটি অ্যাওয়ে গোল আদায় করার সুযোগ ছিল। কিন্তু রাতটা যে অ্যাটলেটিকোর ছায়াতেই পড়ে থাকতে হবে তুরিনের ওল্ড লেডিদের! জুভেন্টাসের হয়ে আগের ৯ অ্যাওয়ে ম্যাচের প্রত্যেকটিতে গোল পাওয়া রোনালদোও তাই রঙ হারালেন। অ্যাটলেটিকোর বিপক্ষে এর আগের ৩১ দেখায় ২২ গোল করেছিলেন সাবেক রিয়াল মাদ্রিদ ফরোয়ার্ড কিন্তু জুভেন্টাসের জার্সি গায়ে তেমন সুবিধা করতে পারলেন না। সুবিধা করতে পারেননি পাউলো দিবালাও, বদলি হওয়ার আগ পর্যন্ত অ্যাটলেটিকো আঁটোসাটো রক্ষণে ধুঁকেছেন প্রায় পুরোটা সময়ই। তার জায়গায় নামা ফ্রেডেরিকো বার্নাদেস্কিকে ৮৯ মিনিটে একটা ক্রস করেছিলেন রোনালদো। সেই শটও অবলাক ঠেকিয়ে দিয়েছেন। মিনিট খানেক পর আবার তিনিই রোনালদোকে বল বানিয়ে দিয়েছিলেন, কিন্তু রোনালদোর জন্যও সেটা ছিল কঠিন, অনেকদূর লাগিয়েও হেডে আর সেই বলের নাগাল ঠিকমতো পাননি রোনালদো। যেমন দ্বিতিয়ার্ধে অ্যাটলেটিকোর আর নাগাল পায়নি জুভেন্টাসও।  তুরিনের তাই দুই গোলে পিছিয়ে থেকেই ম্যাচটা শুরু করতে হবে ম্যাক্সিমিলিয়ানো অ্যালেগ্রির দলের।

Comments

comments