জার্মানিতে তথ্য ফাঁসে বেকায়দায় রাজনীতিকেরা

31

জার্মানির চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেলসহ দেশটির শত শত রাজনীতিবিদ ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির ব্যক্তিগত তথ্য অনলাইনে ফাঁস হয়েছে। এ ঘটনাকে জার্মানির অন্যতম সুদূরপ্রসারী তথ্য ফাঁসের ঘটনা বলা হচ্ছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

গতকাল শুক্রবার দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হর্স্ট সিহফার বলেন, প্রাথমিক বিশ্লেষণে ক্লাউড সেবা, ই–মেইল অ্যাকাউন্ট ও সামাজিক যোগাযোগের নেটওয়ার্কের লগ-ইন তথ্যের ভুল ব্যবহারের কারণে এ ঘটনা ঘটেছে বলে দেখা গেছে। তবে জার্মানির পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষের কম্পিউটার সিস্টেম হ্যাক হওয়ার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। অবশ্য, এটা কোনো হ্যাকিংয়ের ঘটনা কি না, তা পরিষ্কার করে জানাতে পারেনি মন্ত্রণালয়। এ বিষয়ে দেশটির জাতীয় সাইবার প্রতিরক্ষা সংস্থা জরুরি সভা করেছে।

রয়টার্সের খবরে জানানো হয়, জার্মানির কর্তৃপক্ষ গোয়েন্দাগিরিসহ সম্ভাব্য সব ধরনের আশঙ্কার বিষয়টি খতিয়ে দেখবে। সরকারি সূত্র বলছে, এত বিশাল তথ্য অনলাইনে ছড়িয়ে দেওয়া একক কোনো ব্যক্তির কাজ হতে পারে না।

এর আগে টুইটারের একটি অ্যাকাউন্টে তথ্য ফাঁসের বিষয়টি প্রথম নজরে আসে। সেখানে ঠিকানা, ব্যক্তিগত চিঠি, আইডেনটিটি কার্ডের নানা কপি দেখানো হয়। শুক্রবার অ্যাকাউন্টগুলোর ব্যক্তিগত সব তথ্য অনলাইনে ফাঁস করেছে দুর্বৃত্তরা বলে জানিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। ফাঁস করা তথ্যের মধ্যে রয়েছে ব্যক্তিগত কথোপকথন, কন্টাক্ট নম্বর এবং আর্থিক লেনদেনের বিস্তারিত। কিন্তু কারা এসব তথ্য অনলাইনে প্রকাশের সঙ্গে জড়িত রয়েছে, সে সম্পর্কে এখন পর্যন্ত কিছু জানা যায়নি। যে টুইটার অ্যাকাউন্টে এ তথ্য ফাঁস করা হয়েছিল, তা মুছে ফেলা হয়েছে।

অন্য খবর  অলৌকিক বার্নে জার্মান-জাগরণ

জার্মানির গণমাধ্যমগুলোয় বলা হচ্ছে, ম্যার্কেলের ব্যবহৃত একটি ফ্যাক্স নম্বর ও দুটি ই–মেইল অ্যাড্রেস প্রকাশ করা হয়। জার্মানির কর্তৃপক্ষ বলছে, কোনো স্পর্শকাতর তথ্য সেখানে নেই। জার্মান ইনফরমেশন সিকিউরিটি অফিস জানিয়েছে, তাদের প্রতিষ্ঠানের কোনো তথ্য বেহাত হয়নি এবং তারা খুব সতর্ক অবস্থায় রয়েছে।

এর আগে এ ধরনের হ্যাকিংয়ের জন্য রাশিয়ার হ্যাকিং গ্রুপকে দায়ী করেছিল নিরাপত্তা কর্মকর্তারা। তবে ক্রেমলিনের পক্ষ থেকে এ ধরনের অভিযোগ বরাবর অস্বীকার করা হয়।

এ ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা এনএসএর সহযোগিতা চেয়েছে জার্মানি।

Comments

comments