জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশি কর্মকর্তা গ্রেপ্তার

106

নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘের উন্নয়ন সংস্থা ইউএনডিপির ডেভেলপমেন্ট পলিসি অ্যান্ড অ্যানালাইসিস ডিভিশনের প্রধান হিসেবে কর্মরত বাংলাদেশি হামিদুর রশিদকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে ভিসা জালিয়াতি ও গৃহকর্মীকে মজুরি না দেয়ার অভিযোগে উঠেছে।

স্থানীয় সময় গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে জাতিসংঘ কর্মকর্তা  হামিদুর রশিদ (৫০) কে ম্যানহাটন ফেডারেল কোর্টে হাজির করা হয়। তাকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। পরে তিনি জামিনে মুক্তি পান।

যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস-এর ওয়েব সাইটে প্রকাশিত তথ্যে জানা যায়, বাংলাদেশ থেকে নিয়ে যাওয়া গৃহকর্মীর সাথে ভিসা জালিয়াতি, কর্মী নিয়োগ চুক্তি জালিয়াতি এবং সেই কর্মীর পরিচয় জালিয়াতির অভিযোগ আনা হয়েছে হামিদুর রশীদ নামে ইউএনডিপির এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। ওই গৃহকর্মীর জন্যে প্রযোজ্য জি-৫ ভিসার নিয়ম অনুযায়ী যে মজুরি দেবার অঙ্গীকার করেছিলেন তা পরবর্তীতে আর মানা হয়নি।

প্রতি সপ্তাহে ৪২০ ডলার মজুরিতে গৃহকর্মী নিয়োগের চুক্তিপত্র পররাষ্ট্র দপ্তরে দাখিল করা হলেও ২০১৩ সালের জানুয়ারিতে গৃহকর্মী যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছালে তার কাছ থেকে নতুন একটি চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর নেওয়া হয়।

নতুন চুক্তিপত্রে সাপ্তাহিক মজুরি দেখানো হয় ২৯০ ডলার। এছাড়া চুক্তি অনুযায়ী গৃহকর্মীকে সাপ্তাহিক ৪০ ঘণ্টার বেশি সময় কাজ করানোর অভিযোগও আনা হয়। এ বিষয়টি নিয়ে হামিদুর ও ইউএনডিপি থেকে প্রতিক্রিয়া জানা যায়নি। হামিদুর রশিদ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন মেধাবী কর্মকর্তা এবং একজন অর্থনীতিবিদ। তিনি জাতিসংঘের ডেভেলপমেন্ট অব ইকোনমিক অ্যান্ড সোশ্যাল অ্যাফেয়ার্সে কর্মরত। তিনি ঢাকায় পররাষ্ট্র দপ্তরে মহাপরিচালক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি লিয়েনে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে প্রোগ্রাম ডিরেক্টর হিসেবে কর্মরত।

অন্য খবর  নবাবগঞ্জ এসোসিয়েশনের নতুন কমিটি গঠন

নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ মিশনে কর্মরত একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, এ ধরনের একের একের পর ঘটনা রহস্যজনক। মনে হচ্ছে, বিদেশে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করার জন্য একটি মহল সচেষ্ট। তিনি এ ধরনের ঘটনাকে ‘স্যাবোটাজ’ বলে মন্তব্য করেন।

উল্লেখ্য, শ্রমিক পাচার, গৃহপরিচারককে নির্যাতন, বেতন না দেওয়ার অভিযোগে গত ১২ জুন নিউ ইয়র্কের ডেপুটি কনসাল জেনারেল শাহেদুল ইসলাম গ্রেপ্তার হন। পরদিন ৫০ হাজার ডলার জামিননামা দিয়ে ছাড়া পান তিনি। এর আগে ২০১৪ সালে নিউ ইয়র্কের তৎকালীন কনসাল জেনারেল মনিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে প্রায় একই ধরনের অভিযোগ আনেন তার গৃহকর্মী। অভিযোগ দাখিলের দিনই খবর পেয়ে সপরিবারে নিউইয়র্ক ত্যাগ করেন মনিরুল ইসলাম। ওই গৃহকর্মী পরবর্তীতে আমেরিকায় স্থায়ী বসবাসের সুযোগ পেয়েছেন বলে জানা গেছে।

 

Comments

comments