জাতির পিতা

1687

হামিদুর রহমান পলাশ।: জাতি বলতে কোন একক অংশকে বুঝায় না। জাতির বহুরূপতা আছে । যেমনঃ দেশ জাতি, ভাষা জাতি,ধর্ম জাতি, বর্ণ জাতি, গোত্র জাতি, প্রভৃতি। আমরা এক এক জন মানুষ একই সাথেবহুজাতির মধ্যে অর্ন্তভুক্ত। যেমনঃ আমি দেশজাতি হিসেবে একজন বাংলাদেশি, ভাষা জাতি হিসেবে একজন বাঙ্গালি, ধর্ম জাতি হিসেবে একজন মুসলিম/হিন্দু, বর্ণ জাতি হিসেবে একজন শ্বেতাঙ্গ/ কৃষ্ণাঙ্গ ইত্যাদি। এত গুলোবিভাজিত জাতির মধ্যে যে যে অংশে যে নেতার অবদান সে সেঅংশে বা গন্ডিতে তিনিই জাতির পিতা। সে ক্ষেত্রে কেউ কারও স্ব স্ব অবস্থান ছেড়ে অন্যের অবস্থান কেরে নিতে যাবেন না। যে জাতিতে আমি মুসলিম সে জাতির আঙ্গিকে আমার জাতির পিতা হযরত ইব্রাহিম (আ এবং যে জাতিতে আমি একজন বাঙ্গালি সে জাতির আঙ্গিকে আমার জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর বহমান।

ধর্মীয় দৃষ্টিকোন থেকে দেখা যাক, বঙ্গবন্ধুকে বাঙ্গালি জাতির জনক বললে ক্ষতি আছে কি’ না ?

আল্লাহ তা’লা বলেছেন –

ﺲَﻣّﺎﻜُﻣُ ﻼْﻤُﺴْﻠِﻤِﻴﻧَ ﺄَﺒِﻴﻜُﻣْ ﺈِﺑْﺭَﺎﻬِﻴﻣَ ۚ ﻩُﻮَﻤّﻟّﺓَ অর্থাৎ- তোমরা তোমাদের পিতা ইব্রাহিমের দ্বীনের উপর প্রতিষ্ঠিত থাক। তিনিই তোমাদের কে মুসলিম নাম প্রদান করেছেন পূর্বেও আর পরেও। (সূরা- আল হাজ্জঃ ৭৮) এখানে উল্লেখ্য যে, দ্বীন দ্বারা ধর্মকে বুঝায়। তাই এখানে ইব্রাহীম(আঃ) এর সাথে পিতা, ধর্ম, এবং মুসলিম । এই তিনটি শব্দ স্পষ্ট উল্লেখ আছে। যার অর্থ দাঁড়ায় মুসলিম ধর্মের জাতির পিতা। আল্লাহ তা’লা মহাজ্ঞানী; তিনি ভাল ভাবেই জানেন জাতি কোন একক বিষয় নয় তাই তিনি ’মুসলিমীন’ কথা উল্লেখ করে জাতিগত বিভেদ দূর করেছেন । তাই এই নিয়ে বিতর্কের কোন স্থান নেই। আমাদের মধ্যে যদি কেউ বঙ্গবন্ধূকে এই বলে জাতির পিতা বলতে অস্বীকার করে যে’ইব্রাহীম জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু নয়।’ সে মূলত না বুঝেই এ কথা বলল। এবং কোরআনের সঠিক ব্যাখ্যা বুঝল না।

অন্য খবর  হাসিনা-খালেদাকে জেদ পরিহার করতে হবেঃ নুরে আলম সিদ্দিক

জাতির জনক হল কোন ব্যক্তিকে সম্মান প্রদর্শনের জন্য দেওয়া একটি উপাধি যিনি কোন দেশ, রাষ্ট্র বা জাতি প্রতিষ্ঠার পেছনে গুরত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। এক্ষেত্রে একাধিক ব্যক্তি ভূমিকা পালন করে থাকলে তাদের ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠাতা জনক কথাটি ব্যবহার করা হয়ে থাকে। “জাতির জনক” উপাধি মাঝে মাঝে রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার সৃষ্টি করে। ১৯৭২ সালে বাংলাদেশের সংবিধান শেখ মুজিবুর রহমানকে “জাতির জনক” হিসেবে ঘোষণা করে। মুজিবের কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ-এর প্রতিবাদের মুখেও ২০০৪ সালে বিএনপি সরকার এটি অপসারন করেছিল।

বাংলাদেশের জাতির পিতা বলা হয় শেখ মুজিবর রহমানকে। এ বিষয়টি নিয়ে অনেকের অনেক জায়গায় চুলকানি আছে এবং কিছু তথাকথিত ধর্ম এবং রাজনীতি ব্যবসায়ী তাদের সেই চুলকানি অন্য মানুষদের মাঝে ছড়িয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করার চেষ্টায়রত। তারা মুসলমানদের জাতির পিতা হযরত ইবরাহীম (আঃ) প্রসঙ্গ এর মাঝে টেনে এনে মানুষকে ভুল পথে পরিচালিত করার চেষ্টা করে থাকে। কিছু দেশের জাতির পিতা

তূরস্কের জাতির পিতা:-কামাল আতাতুর্ক

ভারতের জাতির পিতা:-মহাত্মা গান্ধী

পাকিস্তানের জাতির পিতা:-মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ্

আফগানিস্তান – দুররানি

সৌদি আরব – ইবনে সৌদ

ইরান – সাইরাস দ্য গ্রেট

মালয়শিয়া – টুংকু আবদুল রহমান

বাংলাদেশের জাতির পিতা:-বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান.

এই যে জাতির পিতাদের কথা এখানে বলা হলো কোথাও কি এদের সেই দেশের মুসলমানদের জাতির পিতা বলা হয়েছে? বলা হয়নি। এরা কি নিজ নিজ জাতির মধ্যে তাদের ধর্মকে প্রচার করেছে? করেনি। তাহলে কিসের ভিত্তিতে এদের জাতির পিতা ডাকা হয় ? কেননা উক্ত মানুষগুলো স্ব স্ব দেশের স্বাধীনতা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে অনেক বড় অবদান রেখেছেন। একটা নতুন দেশ তৈরিতে এরা সংগ্রাম করেছেন। একটা নতুন দেশ মানে একটা নতুন জাতি। আগে আমরা শুধু বাঙালি ছিলাম। আর আজ আমরা বাংলাদেশী বাঙালি। এই যে নিজের পরিচয়ে “বাংলাদেশী” শব্দটা ব্যবহার করতে পেরেছি সেটা একমাত্র বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের জন্য।

অন্য খবর  সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম: হুমকি না সম্ভাবনা?

তাঁর অসম্ভব সাংগঠনিক দক্ষতার কারণে আল্লাহ্ পাকের রহমতে এদেশের মানুষ যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। উদাহরণ-৭ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ। ফলশ্রুতিতে দেশটা স্বাধীন হয়। একটি স্বাধীন দেশ এনে দেয়ার জন্য শেখ মুজিবকে রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে বাঙ্গালী জাতির পিতা বলা হয়। তাছাড়া এ উপাধি তিনি নিজে নেন নি। দেশ স্বাধীনের পর আপামর জনসাধারণ তাকে এ উপাধি দিয়েছে। হযরত ইবরাহীম (আঃ) কে বিশ্বের গোটা মুসলমানদের জাতির পিতা বলা হয়। ইবরাহীম (আঃ) কে ধর্মীয় দিক থেকে জাতির পিতা বলা হয়। আর শেখ মুজিবকে শুধুই বাংলাদেশের রাজনৈতিক দিক থেকে বলা হয়। জাতির পিতা বিষয় নিয়ে পাকিস্তান, ভারত কোথাও কোনো বিতর্ক নেই। খোদ সৌদি আরবেরও জাতির পিতা রয়েছে। অথচ আমরা এটা নিয়ে ত্যানা প্যাঁচাই। অবশ্য এই

ত্যানা প্যাঁচানি জিনিস টা প্রথম শুরু করে জামায়াতে ইসলামীরা। তারা প্রথম যখন স্বাধীন বাংলাদেশে রাজনীতি করার সুযোগ পায়, তখন থেকেই মানুষের মাঝে এই বিভ্রান্তি ছড়াতে আরম্ভ করে। আর সেটা স্বাধীনতার প্রায় ১২ বছর পর থেকে। তার মানে এর আগে বিতর্কহীন ভাবে শেখ মুজিব জাতির পিতা হিসাবে সর্বসাধারণের মাঝে স্বীকৃত ছিলেন। আশা করি বিষয়টা সবার কাছেই পরিষ্কার।

লেখক: প্রবাসী ব্যবসায়ী।

সাবেক সহসভাপতি, ঢাকা জেলা ও দোহার থানা ছাত্রলীগ।

যুগ্ন আহ্ববায়ক, দোহার পৌরসভা কৃষকলীগ।

সদস্য কাতার কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগ।

Comments

comments