ছয় গোলের নাটকীয় ম্যাচে লিভারপুল-আর্সেনাল জিতে নি কেউই

118
ছয় গোলের নাটকীয় ম্যাচে লিভারপুল-আর্সেনাল জিতে নি কেউই

দুই গোলে পিছিয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত আর্সেনালের সাথে ৩-৩ গোলের ড্র নিয়েই মাঠ ছেড়েছে লিভারপুল। এর ফলে প্রিমিয়ার লীগের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে উভয় দলই মূল্যবান এক পয়েন্ট করে সংগ্রহ করেছে।

এমিরেটস স্টেডিয়ামে ফিলিপ কুটিনহোর গোলে এগিয়ে যাওয়া লিভারপুলকে বিরতির পরপরই দ্বিতীয় গোল উপহার দেন মোহাম্মদ সালাহ। কিন্তু মাত্র পাঁচ মিনিটের মধ্যে এ্যালেক্সিস সানচেজ, গ্রেইন্ট জাকা ও মেসুত ওজিলের গোলে নাটকীয় ভাবে এগিয়ে যায় আর্সেনাল। তবে তখনো ম্যাচের শেষ দৃশ্য বাকি ছিল। ৭১ মিনিটে ফারমিনহোর গোলে সফরকারী লিভারপুল সমতা ফেরালে জয় বঞ্চিত হয় স্বাগতিকরা। গত মৌসুমে আর্সেনালের বিপক্ষে ৪-৩ গোলে রেডসের জয়ের ম্যাচটিকেও যেন ছাড়িয়ে গিয়েছিল কালকের ম্যাচটি।

এই ড্রয়ের ফলে চতুর্থ স্থানে থাকা লিভারপুর পঞ্চম স্থানে থাকা আর্সেনালের থেকে এক পয়েন্ট এগিয়েই থাকলো। তবে বড়দিনের বিরতির আগে টেবিলের শীর্ষে থাকা ম্যানচেস্টার সিটির থেকে কোন দলই পয়েন্টের ব্যবধান কমাতে পারলো না। শেষ ১০টি লীগ ম্যাচে লিভারপুল অপরাজিত রয়েছে। কিন্তু কোচ জার্গেন ক্লপ দলের রক্ষনভাগ ও গোলরক্ষকের ব্যর্থতা নিয়ে দুঃশ্চিন্তা  করতেই পারেন।

এদিকে গত পাঁচটি ম্যাচে মাত্র একটি জয় পেয়েছে গানাররা। দারুনভাবে ম্যাচে ফিরে আসলেও কোচ আর্সেন ওয়েঙ্গার আবারো দলের আক্রমনাত্মক কৌশল নিয়ে তেমন কোন মন্তব্য করতে রাজী হননি।

অন্য খবর   লিভারপুলে অসহায় ম্যান সিটি 

ম্যাচ শুরুর ১৩ মিনিটের মধ্যেই অধিনায়ক জর্ডান হেন্ডারসনের ইনজুরির কারনে মাঠ ত্যাগ লিভারপুলকে বিপাকে ফেলে। ঐ একটিমাত্র দূর্ঘটনা ছাড়া ক্লপ তার ‘ফেবুলাস ফোর’- কুতিনহো, সালাহ, ফারমিনহো ও সাদিও মানেকে নিয়ে দারুন আত্মবিশ্বাসী ছিলেন। মিশরীয় তারকা সালাহর ক্রস থেকে কুটিনহোর হেড পিটার চেককে পরাস্ত করলে ২৬ মিনিটে এগিয়ে যায় লিভারপুল। মৌসুমে এটা কুতিনহোর ১১তম গোল। বিরতির আগে ক্লপের দলের আরো দুই গোল পাওয়া উচিত ছিল। কিন্তু ফারমিনহো ও সালাহ’র ব্যর্থতায় তা সম্ভব হয়নি।

বিরতির পরে নাচো মনরিয়ালের পরিবর্তে সেন্টার ব্যাক হিসেবে শোকড্রান মুস্তাফিকে মাঠে নামান আর্সেনালের বস আর্সেন ওয়েঙ্গার। কিন্তু তারপরেও আর্সেনালের রক্ষনভাগ ততটা শক্তিশালী হতে পারেনি। ৫২ মিনিটে লিভারপুলের হয়ে ব্যবধান দ্বিগুন করেন সালাহ। লিভারপুলের হয়ে মৌসুমে সালাহ’র ২১তম গোলেই সফরকারীদের জয় নিশ্চিত হওয়া উচিত ছিল। প্রথামর্ধে অনেকটাই নিষ্প্রভ থাকা সানচেজ অবশেষে ৬০ সেকেন্ড পরেই আর্সেনালের জন্য এক গোল শোধ করেন। হেক্টর বেলেরিনের ক্রস থেকে লিভারপুলের ডিফেন্ডার জো গোমেজ খেই হারিয়ে ফেলেলে সেই সুযোগে সানচেজ দলকে প্রথম গোল উপহার দেন। তিন মিনিট পরে ৩৫ গজ দুর থেকে মিডফিল্ডার জাকার জোড়ালো শটে সমতা ফেরায় আর্সেনাল।

অন্য খবর  সেদিনের এই দিনে : ওয়ানডে ক্রিকেটের 'হঠাৎ' জন্ম

২-২ গোলে সমতায় থাকার সময় হঠাৎ করেই লিভারপুল কিছুটা আগোছালো হয়ে উঠে। ৫৮ মিনিটে সেই সুযোগটাই নেয় ওয়েঙ্গার শিষ্যরা। আলেক্সান্দার লাকাজেত্তের ব্যাক হিল পাসে ওজিল প্রতিপক্ষ গোলরক্ষক মিগনোলেটকে পরাস্ত করেন। জয়ের স্বপ্নে স্বাগতিকরা যখন ম্যাচ শেষের অপেক্ষায় ছিল ঠিক তখনই ৭১ মিনিটে ফারমিনহোর শটে সমতায় ফেরে লিভারপুল।

Comments

comments