ইংল্যান্ডের বিদ্যালয়ে অভিভাবক হিসেবে অভিজ্ঞতা ও একটি উপলব্ধি

101

কিছুদিন আগে আমার মেয়ের বিদ্যালয়ের এক এওয়ার্ড প্রোগ্রামে উপস্থিত ছিলাম, ডেবডেন পাৰ্ক হাই স্কুল। ইংল্যান্ডের এসেক্স শহরে এটি। 

প্রতি বিষয়ে যারা ভালো ফল করেছে এবং যারা ভালো করার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করেছে তাদের মধ্য থেকে ৬ + ৬ সর্বমোট ১২ জনকে মনোয়ন করা হয়েছে। শুধু ছাত্র ছাত্রীদের দিয়ে উপস্থাপিত ও পরিচালিত মনোমুগ্ধকর পরিপাটি প্রোগ্রাম। 

সব শিক্ষক আর আমরা অভিভাবকগণ দর্শক গ্যালারিতে বসেছিলাম ছেলেমেয়েদেরকে করতালি দিয়ে অভিনন্দিত করবার জন্য। ছেলে মেয়েরা ভালো পড়াশোনা বা কোনো কাজের স্বীকৃতি স্বরুপ পুরস্কার পাচ্ছে – বাবা মার চোখে এর চেয়ে বড় বিস্ময় আর আনন্দ কোথায় থাকতে পারে ! 

আমার চোখ মঞ্চের দিকে থাকলেও পুরো মনটাই যেন আটকেছিলো আমাদের ছোটবেলার রেজাল্টকার্ড বিতরণী উৎসবের সেইসব স্মৃতিতে। 

আমাদের সময়ে (১৯৯১ এর দিকে) বিদ্যালয়ের সভাপতি, প্রধান শিক্ষক এবং আরও কিছু গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ প্রতি ক্লাসে এসে নীল রঙের একখানি রেজাল্ট কার্ড হাতে তুলে দিতেন। এটি বইয়ের ভাঁজে করে বাড়িতে নিয়ে দেখাতাম বাবা মাকে। 

কোনো কোনো সময় অপেক্ষা করতে হতো বাবা কবে ছুটিতে বাড়ী আসবেন তখন দেখবেন বলে। নীল রঙা রেজাল্টকার্ডখানি খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে যে দরদ আর অকুন্ঠ আগ্রহ নিয়ে বাবাকে দেখতে দেখেছি তা এখনও চোখে ভাসে। 

এখন বুঝতে পারি ঐ সময়ে বাবাকে রেজাল্ট বিতরণ অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানোর ব্যবস্থা যদি থাকতো তিনি নিশ্চয়ই ঈদের ছুটির চেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়ে এই দিনটির জন্য আগাম ছুটি নিশ্চিত করে রাখতেন। 

এখানকার অভিজ্ঞতা থেকে উদাহরণ হিসেবে আমি ২টি বিষয় এখানে শেয়ার করে রাখলাম। 

যদি কোন সম্মানিত বিদ্যালয় শিক্ষক বা বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা পরিষদের কারও নজরে পড়ে এবং মনে হয় এ থেকে গ্রহণ করার মতো কিছু আছে তাহলে বিদ্যালয়ের সভায় আলোচনার জন্য উপস্থাপন করতে পারেন। 

(১) ছাত্র ছাত্রীর বাবা মাকে বিদ্যালয় কার্যক্রমের সাথে আরও বেশি সম্পৃক্ত করা। বছরে অন্তত ৩ বার তাদেরকে বিদ্যালয়ে আমন্ত্রণ জানানো যেতে পারে। 

প্রতি সেমিস্টারে একটা নির্দিষ্ট দিনে ‘প্যারেন্টস কনসালটেশন ডে’ থাকবে। ১০ মিনিট করে পূর্বনির্ধারিত সময় বাঁধা। বাবা মা তার সন্তানকে নিয়ে প্রত্যেক সাবজেক্ট টিচার এর সাথে কথা বলবেন। স্যার বাবা মাকে বলবেন তার সন্তান কোথায় খুব ভালো করছে আর দুর্বলতাগুলো কোথায়, কোথায় মনোযোগ বাড়াতে হবে ইত্যাদি। 

(২) প্রথম দ্বিতীয় তৃতীয়দেরকে পুরষ্কার দেয়ার পাশাপাশি প্রতিদিনের ক্লাসরুমে যারা মনোযোগী এবং ভালো ফল অর্জন করার জন্য যারা আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছ তাদেরকেও রিকগনাইজড করা। 

আমি এ লেখাটি ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার বারুয়াখালী, শিকারীপাড়া, জয়কৃষ্ণপুর, নয়নশ্রী, বান্দুরা সহ আশপাশের উচ্চ বিদ্যালয়/প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আর অভিভাবকদের কথা মাথায় নিয়ে লিখেছি। 

মোহাম্মদ শহিদুর রহমান তারেক
এসেক্স, ইংল্যান্ড

Comments

comments