ছাত্রদলের ‘সুপার সিক্স’ যারা

13

বিএনপির ছাত্রসংগঠন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের শীর্ষ দুই নেতা দীর্ঘ ২৭ বছর পর এবারই প্রথম কাউন্সিলে কাউন্সিলরদের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হবেন। ১৪ সেপ্টেম্বরের এই নির্বাচন সামনে রেখে কাউন্সিলরদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক প্রার্থীরা। গত ৩ আগস্ট বিলুপ্ত ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের নেতারাও এসব প্রার্থীর পক্ষে-বিপক্ষে কাজ করছেন। কাউন্সিলের মাত্র ৮ দিন বাকি থাকতেই বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধেও পছন্দের প্রার্থীর পক্ষে কাজ করার অভিযোগ উঠেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার দেশ রূপান্তরকে এসব কথা জানান নতুন কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী এবং বিলুপ্ত কমিটির নেতারা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ছাত্রদল নেতার সঙ্গে আলাপে জানা গেছে, সভাপতি পদে প্রার্থী রয়েছেন ৬ জন এবং সাধারণ সম্পাদক পদে ১৯ জন। সভাপতি পদে ‘শক্তিশালী’ হিসেবে তিনজনের নাম উঠে এসেছে। তারা হলেন কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবণ, হাফিজুর রহমান হাফিজ ও মো. ফজলুর রহমান খোকন। আর সাধারণ সম্পাদক পদে ‘শক্তিশালী’ প্রার্থী হিসেবে যাদের নাম এসেছে তারা হলেন সাইফ মাহমুদ জুয়েল, আমিনুর রহমান ও শাহনেওয়াজ।

বিলুপ্ত ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সহসভাপতি ইকতিয়ার কবিরকে নতুন কমিটি গঠনে বয়সসীমা প্রত্যাহারের দাবিতে আন্দোলনের কারণে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়। তার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের কথা থাকলেও গতকাল পর্যন্ত করা হয়নি। কবির দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমরা বয়সসীমার কারণে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে লড়তে না পারলেও নিজ নিজ পছন্দের প্রার্থীর পক্ষে প্রচারে নেমেছি। নিজেদের মধ্যে বৈঠক করছি। কাউন্সিল পর্যন্ত আমরা কাজ করব।’

অন্য খবর  বিকল্পধারা বিলুপ্ত করে বিএনপিতে ফিরতে চান বি. চৌধুরী?

বিলুপ্ত কমিটির নেতা মফিজুর রহমান আশিক দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমরা বসে নেই। নিজ নিজ পছন্দের প্রার্থীর পক্ষে কাজ করছি। আমরা নেতা হতে না পারলেও পছন্দের প্রার্থীকে নেতা বানানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।’

‘শক্তিশালী’ প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় আসা ওই ৬ প্রার্থী সম্পর্কে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সভাপতি প্রার্থী কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবণের বাড়ি যশোরের কেশবপুরে। তিনি বিলুপ্ত কমিটির বৃত্তি ও কল্যাণ সম্পাদক। ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের এই শিক্ষার্থীর পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাহউদ্দিন টুকুসহ বিএনপির একটি অংশ। আরেক সভাপতি প্রার্থী হাফিজুর রহমান হাফিজের বাড়ি বাগেরহাটে। তিনিও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। তার পক্ষে লন্ডনে অবস্থানরত বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ‘হাওয়া ভবনের’ সাবেক কর্মকর্তা রকিবুল ইসলাম বকুল সক্রিয় রয়েছেন বলে শোনা যাচ্ছে। মো. ফজলুর রহমান খোকনের বাড়ি বগুড়ার শেরপুরে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই শিক্ষার্থীর পক্ষে বিএনপির স্থায়ী কমিটির নতুন এক সদস্য কাজ করছেন বলে শোনা যাচ্ছে।

সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী সাইফ মাহমুদ জুয়েলের গ্রামের বাড়ি বরিশাল। শোনা যাচ্ছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই শিক্ষার্থীর পক্ষে যুবদলের এক নেতা জোরেশোরে নেমেছেন। একই পদে লড়ছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেক শিক্ষার্থী আমিনুর রহমান আমিন। সাতক্ষীরার কালিগঞ্জের এই ছেলের পেছনেও ‘হাওয়া ভবনের’ ওই কর্মকর্তা রয়েছেন বলে জানা গেছে। সাধারণ সম্পাদক পদের ‘শক্তিশালী’ আরেক প্রার্থী শাহনেওয়াজের বাড়ি নোয়াখালীর হাতিয়ায়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই শিক্ষার্থীর পক্ষে বিএনপির একাধিক ভাইস চেয়ারম্যান রয়েছেন বলে শোনা যাচ্ছে; যারা নোয়াখালী অঞ্চলে বিএনপির প্রভাবশালী নেতা হিসেবে পরিচিত।

অন্য খবর  বিএনপির সেই নেতারা কোথায় কেমন আছেন?

২ সেপ্টেম্বর ছাত্রদলের ষষ্ঠ কাউন্সিলের প্রার্থীর তালিকা ঘোষণা করেন নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন। সভাপতি আট ও সাধারণ সম্পাদক পদে ১৯ জন প্রার্থীকে বৈধ প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেন তিনি।  বৈধ আট সভাপতি প্রার্থী হচ্ছেন কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবণ, মাহমুদুল হাসান বাপ্পি, হাফিজুর রহমান, রিয়াদ মো. তানভীর রেজা রুবেল, মো. এরশাদ খান, মো. ফজলুর রহমান খোকন, এস এম সাজিদ হাসান বাবু, এ বি এম মাহমুদ আলম সরদার। বৈধ ১৯ জন সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী হচ্ছেন মো. জাকিরুল ইসলাম জাকির, মোহাম্মদ কারিমুল হাই (নাঈম), মাজেদুল ইসলাম রুমন, ডালিয়া রহমান, মো. আমিনুর রহমান, শেখ আবু তাহের, শাহনেওয়াজ, সাদিকুর রহমান, কে এম সাখাওয়াত হোসাইন, সিরাজুল ইসলাম, মো. ইকবাল হোসেন শ্যামল, মো. জুয়েল হাওলাদার (সাইফ মাহমুদ জুয়েল), মো. হাসান (তানজিল হাসান), মুন্সি আনিসুর রহমান, মো. মিজানুর রহমান শরিফ, শেখ মো. মশিউর রহমান রনি, মোস্তাফিজুর রহমান, সোহেল রানা ও কাজী মাজহারুল ইসলাম।

Comments

comments