মোসাদ্দেক হোসেন
বিজ্ঞাপন

চোখের সংক্রমণে গত বছর অনেকটা সময়ই কাটিয়েছেন মাঠের বাইরে। যে কয় ম্যাচ সুযোগ পেয়েছেন, মোসাদ্দেকের পারফরম্যান্স বেশ তাৎপর্যপূর্ণই। তবে সেসব যথেষ্ট হয়নি বিসিবির নতুন চুক্তিতে থাকার জন্য, বাদ পড়েছেন তিনি। চুক্তি নিয়ে অবশ্য ভাবছেন না এই অলরাউন্ডার, এসব নিয়ে তার অভিযোগও নেই। যেটা আছে ঘরোয়া ক্রিকেটে নিচের দিকে ব্যাট করা নিয়ে! বিসিএলের সর্বশেষ ম্যাচেও সাউথ জোনের হয়ে আটে নেমে সেঞ্চুরি করেছেন মোসাদ্দেক, ক্যারিয়ারে এতো নিচে নেমে সেঞ্চুরি নেই এর আগে তার।

এতো নিচে খেলানোর ফলে মোসাদ্দেকের মতো মেধার খানিকটা অপচয়ই হচ্ছে, কদিন আগেই বলেছেন প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদিন নান্নু। মোসাদ্দেকেরও আশা, তার দলের ম্যানেজমেন্ট ব্যাপারটা বুঝবেন, “এই জায়গাতে আমার অভিযোগ আছে। আমি জাতীয় দলে যে জায়গায় খেলি, ওইটা হয়তো ঠিক আছে। কারণ ওপরে যারা খেলেন তাদের নিয়ে বলার কিছু নাই। কিন্তু এর মানে এই না যে ঘরোয়াতে আমি সাত নম্বর বা আট নম্বরে খেলব। এই জায়গায় আমার অভিযোগ আছে। আমি আশা করব টিম ম্যানেজমেন্ট এটা দেখবে। কারণ আমি সরাসরি হয়ত কাউকে কিছু বলতে পারব না। আমি আশা করব নির্বাচকরা খেয়াল করবে।”

অন্য খবর  ২৩ মার্চ আরাফাত সানীর বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন

শুধু বিসিএল নয়, এর আগে প্রিমিয়ার লিগেও আবাহনীর হয়ে মোসাদ্দেককে খেলতে হয়েছে নিচের দিকেই, “ এর আগে যেবার আবাহনী চ্যাম্পিয়ন হলো, আমি ছয় সাতে অনেক অবদান রেখেছি। তবে এবার দল জিতলেও আমি পারিনি। কিন্তু বেশ কয়েকটা ম্যাচ দেখলে দেখবেন যে, আমি চার-পাঁচ ওভার ব্যাট করার সুযোগ পেয়েছি। আমরা তো ক্রিস গেইলও না, আন্দ্রে রাসেলও না যে চাইলেই নেমে ছয় মারব। আমাদের শারীরিক গঠন সেটা সমর্থনও করে না। পরিস্থিতি এমন ছিল যে নেমেই মারতে হতো। সেটা একদিন হয়েছে, একদিন হয়নি। আমাদের কালচারের সঙ্গেই শরীর ওইভাবে তৈরি করার ব্যাপারটা নাই।”

এই হতাশার মতো চুক্তি থেকে বাদ পড়াটাও হতাশার বলে মানছেন তিনি, তবে তার দৃষ্টিতে চুক্তির পর আছে আরও অনেক কিছু, “চুক্তি থেকে বাদ পড়াটা হতাশাজনক কিন্তু আমি মনে করি না যে চুক্তিটাই সব কিছু। পারফরম্যান্স হয়ত ভালো ছিল না তাই বাদ পড়েছি। তবে আমার চিন্তা হচ্ছে ভালো পারফর্ম করে আবার জায়গা ফিরে পাওয়া।”

অবশ্য চুক্তিতে বছরের মাঝামাঝি সময়ে তার সুযোগ থাকবে আবার ঢোকার। এমনকি যে “রুকি” বা “উঠতি” ক্রিকেটারদের কথা বলা হয়েছে বিসিবির পক্ষ থেকে, মোসাদ্দেক থাকতে পারেন সেখানেও। তবে সেসব নিয়ে খুব বেশি ভাবতে চান না তিনি, “সত্যি কথা বলতে চুক্তিতে ঢোকার জন্য কিছু করতে হবে এমন কিছু আমি কখনই করিনি। সবচেয়ে বড় কথা হলো আমি যেখানে খেলেছি নিজের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করেছি। আমি পারফর্ম করতে পারলে অনেক কিছুই সহজ হয়ে যাবে।”

অন্য খবর  অবশেষে কলকাতায় পাকিস্তানি ক্রিকেট দল

তবে চোখের সংক্রমণ থেকে ফিরে আসাটা সহজ ছিল না বলেই মনে করেন তিনি, “ছয় মাস বসে থেকে মানিয়ে নিতে সময় লাগবে এটা স্বাভাবিক। এর মাঝে আমি বিপিএলে খেলেছি। সব মিলিয়ে আমি নিজেও বুঝতে পারিনি কী হচ্ছে আমার সঙ্গে। যদি জাতীয় দলের ক্যাম্পে থাকি, স্কিলের সঙ্গে ফিটনেস নিয়েও কাজ করব। যে ঘাটতি পড়েছে সেটা পূরণ করব।”

“আগের ছয়মাস যদি দেখেন এই জায়গায় কোন ঘাটতি ছিল না। ছয় মাস পরের কথা যদি বলেন আমি নিজের থেকে বলব শেষ ছয় মাসে আমি কোনো কিছু করিনি। ডাক্তারের বারণ ছিল অনেক কিছু।”

Comments

comments